UNODA খুব কম মানুষই হয়তো আজ পর্যন্ত জাতিসংঘ অধীনে থাকা এই সংস্থাটির নাম শুনেছি। তার চেয়েও কম মানুষ এই সংস্থার কাজ নিয়ে জানি।

কি এই UNODA?? কি এর কাজ? আসুন জানি এই সংস্থা সম্পর্কে।

আমরা মোটামোটি অনেকেই এই সংস্থার বিভিন্ন কাজ নিয়ে অনেক সময় আলোচনা করেছি। সময়ে অসময়ে এই সংস্থাতে বাংলাদেশ সরকার এর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখা হাসিনার সমর্থনের তীব্র বিরোধীতা করেছি। অনেক বার আমরা না জেনে বলছি যে এই সংস্থার প্রতি আনুগত প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র করেছে, দেশ কে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। হাস্যকর হলেও সত্য আমরা এইসব আজগুবি তথ্য প্রকাশ করেছি কোন রকম জ্ঞান ছাড়াই। প্রথমেই বলি  UNODA (United Nation Office For Dismament Affairs)হলো জাতিসংঘ এর অধীনে সহযোগি দেশ গুলি নিয়ে গড়ে ওঠা এমন এক সংস্থা যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিমত্তা কে নিয়ন্ত্রন এবং তার অবাধ রপ্তানির উপর বিভিন্ন ধরনের ব্যান আরোপ করে তা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এই সংস্থার একক ভাবে কাজ করে না বরং এর অধীনে আরো বিভিন্ন সন্সথা কে নিয়ে মিলিত ভাবে কাজ করে। ১)Missile Technology Control Regime (MTCR) ২)Nuclear Suppliers Group (NSG) ৩)Wassenaar Arrangement ৪)Zangger Committee এই সবই এই সংস্থার অধীনে থাকা বিভিন্ন সংগঠন যারা বিশ্ব ব্যাপি অস্ত্র নিয়ন্ত্রন নিয়ে কাজ করে থাকে।

এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়ার উয়েপন, নন নিউক্লিয়ার ডিসাস্টার উয়েপন, থার্মো নিউক্লিয়ার উয়েপন, ক্যামিকাল উয়েপন সহ বিভিন্ন প্রকার বিঃধ্বংসী অস্ত্র ব্যবস্থা। আর MTCR (Missile Technology Control Regime) হলো তেমনি একটি গ্রুপ যারা বিশ্ব ব্যাপী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবাধ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে এই সংস্থার অধীনে বিশ্বের ৩৫ টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। সর্বোশেষ। ভারত এই সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র এর একান্ত চেস্টায়। এই সংস্থার সদস্য হওয়ার মাধ্যমে উক্ত দেশ গুলা একে অন্যের নিকট বিধ্বংসী অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে। এই সংস্থার আইন অনুযায়ী এই সংস্থার দেশ গুলা তাদের সদস্য দেশ ছাড়া অন্য কোন দেশের কাছে এমন কোন ক্ষেপানাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রি করতে পারবে না যা ৫০০ কেজি পর্যন্ত নিউক্লীয় বা নন নিউক্লিয় কিন্তু অধীক বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পন্ন অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে না যার রেঞ্জ ৩০০ কিমি এর বেশি হবে। ১৯৮৭ সালে এই সংগঠন শধু মিসাইল রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করলেও ১৯৯২ সালে এসসে তারা ড্রোন প্রযুক্তির উপর একই আইন আরোপ করে যার দ্বারা কোন ড্রোন ৫০০ কেজির বেশি বোমা বহন করতে সক্ষম হঅলঅলেই তা আর রপ্তানি করা যাবে না।

ভারত ইউ এস থেকে তআদআদের এভাঞ্জার ড্রোনন কেনার জয় তার অনেক তোরজোর করে এই সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে। চীনে কে এই সংগঠনের সদস্যপদ নিতে আহব্বান করা হয় এবং চীন এক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই সংস্থার সকল আইন এর প্রতি সমর্থন জানায় কিন্তু প্রথম পর্যায়ে চীন তাতে রাজি হয় নি। এমন কি তারা ১৯৯৮ সালে সৌদি কে তাদের ডিএফ-৩এ লংরেঞ্জ মিসাইল সরবরাহ করে এই চুক্তির চুরান্ত বিরোধীতা করে। শুধু চীন নয়, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, ইসরাইল ও একই ভাবে এই আইন সমর্থন জানালেও নিজেদের মত ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়ন চালিয়ে যায়।

২০০৬ সালে চীন এবার নিজ থেকেই এই সংস্থায় যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং আবেদন জানায় কিন্তু সদস্য দের ভেটুর কারনে চীন তা পায় নি। তবে তারা MTCR এর সকল নিয়ম কে পুনরায় সমর্থন জানায় এবং এখন পর্যন্ত তারা তা মেনে চলছে এবার মুল কথায় আসা যাক। ১) বাংলাদেশ এই সংস্থার সদস্য কিনা?? উত্তর: না। ২) বাংলাদেশ এই সংস্থার দ্বারা কতটা প্রভাবিত? উত্তর: সরাসরি প্রভাবিত নয় কিন্তু এই সংস্থার সদস্য রাস্ট্র গুলো যেহেতু বিশ্বে ৮০% মিসাইল টেকনোলজি নিয়ন্ত্রন করে তাই বাংলাদেশ কে ৫০০কেজি বোমা বহনে সক্ষম অথবা ৩০০ কিমির এর বেশি রেঞ্জের মিসাইল ক্রয় করতে এদের উপর নির্ভর করতে হবে। ৩)বাংলাদেশ যেহেতু এই সংস্থার সদস্য না তাহলে কেন বাংলাদেশ এই নিয়মে সমর্থন। জানালো? উত্তর: এই আইনে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ মুলত বিশ্বে শান্তি রক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ৪)বাংলাদেশ কি কোন ভাবে এই আইইন দ্বারা বাধ্য? উত্তর : না। বাংলাদেশ চাইলে এ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে। অথাৎ শেখ হাসিনা দেশ বিক্রির জন্য এতে যোগ দিসেন সেটা ভুয়া। ৫) বাংলাদেশ কি চাইলেও ৩০০ কিমি এর অধীক রেঞ্জের মিসাইল কিনতে পারবে? উত্তর: হা। তবে তা অবস্যই নন নিউক্লিয়ার, নন ক্যামিকাল, এবং কম ধ্বংসাত্ত্বক ক্ষমতার হতে হবে যেন তা মানবতার পরিপন্থী না হয়। ৬) বাংলাদেশ কি ৫০০কেজি বা তার বেশি পে লোড এর ক্ষমতার মিসাইল বা ড্রোন কিনতে পারে? উত্তর: না কারন তা অধীক ধ্বংসাত্ত্বক এবং সেই ধরনের মিসাইল যাদের কাছে আসছে তআদের প্রায় সবাই #MTCR এর সদস্য। তবে চীন যেহেতু সদস্য নয় তাই তারা দিতে রাজি থাকলে আমরা কিনতে পারি। এবং #MTCR এর সদস্য নয় এবং #MTCR এর প্রতি সমর্থন নেই এমন দেশ থেকেও কিনতে পারবো। তবে যেহেতু বাংলাদেশ #MTCR এর প্রতি সমর্থন জানায় এবং জাতিসংঘ এর অধীনে #UNODA সাথে চুক্তি বদ্ধ তাই সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কে সইই চুক্তি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে এবং বেড়িয়ে আসার কারন দেখাতে হবে তবে তাতে খুব বেশি বাধ্যবাধকতা নেই।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: