মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় অপপ্রচার এ অনেকেই বিভ্রান্ত। আর পাকিস্তানী অপপ্রচার তো আছেই। সেসবের ই কিছু কিছুর উত্তর দেওয়া হলো। খুজে নিন আপনার কাঙখিত প্রশ্নের উত্তর টি।
.
♦ মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের একটা ভ্রম,প্রকৃতপক্ষে তা হলো পাক-ভারত যুদ্ধ।
.
¤> দুঃখিত সহমত নই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কারো দান নয়। দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানী শোষন হতে বাঙালির মুক্তির জন্য এ যুদ্ধ হয়েছিল। ভারতের স্বার্থরক্ষার জন্য বাঙালী অস্ত্র ধরে নি। ১৯৭১ এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যেমন হয়েছিল,তেমনি পাক-ভারত যুদ্ধও হয়েছিল। ১৯৭১ এর যুদ্ধটা হয়েছিল দুইটি ফ্রন্টে- ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ও ইস্টার্ন ফ্রন্ট। এরমধ্যে ইস্টার্ন ফ্রন্টের যুদ্ধটা হল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে ভারতও আমাদের সাহায্য করেছে। তবে এতে যুদ্ধটা তাদের হয়ে যায়নি। তারা হল “মিত্রবাহিনী” অর্থাৎ সাহায্যকারী বাহিনী। ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট এর যুদ্ধটা হল পাক-ভারত যুদ্ধ। ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টেও পাকিস্তান পরাজিত হলেও আত্মসমর্পণ এর মতো কোন ঘটনা ঘটে নি,যেমনটা ইস্টার্ন ফ্রন্টে হয়েছে। চলুন এ ব্যাপারে স্বয়ং জেনারেল জ্যাকব কি বলেন তাই শুনে নেই।
.
তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোনো কোনো মহল আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে অভিহিত করে এবং এটা আমাদের অহমে আঘাত দেয়। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি ভঙ্গীটা কি? তার উত্তর ছিলো: I’ve always said it was your liberation war. It was your war of independence, not otherwise. (আমি সবসময়ই বলে এসেছি এটা তোমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ, তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অন্য কিছু নয়।) লিংক : Click Here
.
এখন কথা হচ্ছে,যেখানে ভারতীয় জেনারেল নিজে স্বীকার করে নিচ্ছেন,এ বিষয়ে আর তর্ক করার কোন সুযোগ আছে কি ?

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশীদের কোন অবদান নেই,ভারতীয় সেনারা এ বিজয় এনে দিয়েছে।

.
¤> ব্যাপারটা ব্যাপক হাস্যকর। ৯ মাস ধরে যুদ্ধ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অন্তঃসারশূন্য করে দিল বাঙালী,আর তাদেরই কোন ভূমিকা নেই ? হ্যা মিত্রবাহিনী যুদ্ধে যোগদানের পর যুদ্ধ ব্যাপক গতি লাভ করে। তবে যদি অস্ত্রের দিকে তাকান তবেই এর কারনটাও অনুধাবন করতে পারবেন। যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে,তখন তাদের কাছে আরও দুই মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মত অস্ত্র ও রসদ ছিল। তবুও তারা কেন আত্মসমর্পণ করল ? কারন তারা ভিতর থেকেই দূর্বল হয়ে গিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল বাঙালী জনগন তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মনোবল বলতে আর কিছু অবশিস্ট ছিল না। যাই হোক, এ ব্যাপারে স্বয়ং জেনারেল অরোরা কি বলেছেন তা জেনে নেওয়া যাক..
.
Books written by various Indian generals who took part in the war have essentially highlighted the role of the Indian Armed Forces, but ignored the heroic role of the Mukhti Bahini. Lieutenant General Arora was an exception. He told this writer in an exclusive interview in 1994, “I would like to make a special mention about the Mukhti Bahini. I think the organisation, though suffering from many handicaps, rendered valuable service.” Lieutenant General Niazi, who did not think much of them militarily, had to concede in his own words that it made him “deaf and blind.”Lieutenant General Arora said,”I took personal interest in the training and launching of the Mukhti Bahini groups before the active hostilities started. I was greatly impressed with the enthusiasm and devotion of those young people. Considering that they had no previous knowledge or experience of covert and subversive activities they adapted to these roles very quickly.” লিংক : Click Here
.
তো আর কিছু বলার আছে ?এরপরেও যদি কেউ মুক্তিবাহিনী অবদান অস্বীকার করে,তাকে একটু বলবেন যে তিনি কি অরোরা এবং নিয়াজী অপেক্ষা এ যুদ্ধ সম্পর্কে অধিক অবহিত ?
.
তাহলে পাকবাহিনী ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করল কেন ?
.
¤> এটা অল্প জানার ফল। পাকবাহিনী ভারতের কাছে নয়,যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। একটা জিনিস বুঝে নেওয়া জরুরি যে যৌথবাহিনীতে আমরাও ছিলাম। আর যৌথবাহিনীর প্রধান ছিলেন জগজিত সিং অরোরা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান তিনি ছিলেন না,তিনি ভারতীয় হিসেবে তাতে সই করেননি,তিনি সই করেছেন যৌথবাহিনীর প্রধান হিসেবে। আর আত্মসমর্পণ অনুস্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও ছিলেন,একে খন্দকার। যদি বিশ্বাস না হয় তবে সেই আত্মসমর্পণ এর দলিল দেখুন তো, সেটার বাদিকে নীচে
অরোরা যেখানে সই করেছেন, সেখানে কি লেখা ? লেখা: জেনারেল অফিসার কমান্ডার ইন চীফ ইন্ডিয়ান অ্যান্ড “বাংলাদেশ” ফোর্সেস ইন দ্য ইস্টার্ন থিয়েটার।

তাহলে আত্মসমর্পণের দলিল ভারতের কাছে কেন ?
.
¤> আত্মসমর্পণ এর দলিল শুধু ভারত না,বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও আছে। কারন আত্মসমর্পণ এর দলিল একটা নয়,তিনটা। একটা দিল্লিতে,একটা ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে ও একটা পাকিস্তানে। তাই এ প্রপাগান্ডা মাঠে মারা গেলো।

পেয়েছেন জবাব ? এবার অপপ্রচার বন্ধ করুন।
.
বি.দ্র : ভাববেন না যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্যকে অস্বীকার করছি। আমরা কৃতজ্ঞ। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন অপপ্রচার ও আমরা সহ্য করতে রাজী নই।
.
পোস্টটি শেয়ার করে অপরকেও সচেতন করুন ✌

Facebook Comments

2 Comments

Fahim · December 16, 2017 at 12:43 am

Your Comment Here…এগুলো যাদের মোটামাথা তারাই করে.

palash · December 16, 2017 at 2:03 pm

right

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: