বিএনএস বংগবন্ধু বাংলাদেশ নৌবহিনীর গর্বের প্রতিক এই জাহাজ টি কম বেশি সবাই আমরা জানি। একাটা সময় পর্যন্ত এটা দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক ফ্রিগেট ছিল। বর্তমানে সেটা অবশ্য ভারতের শীবলিক ক্লাশ এর দখলে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফ্রিগেট ধরা হয়। যদিও আকারে ওজনে এটা ফ্রিগেট এর চেয়ে কর্ভেট মনে হয়। অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য একে ফ্রিগেট হিসাবে গন্য করা হয়।
এর অস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কম বেশি সবাই আমরা জানি। তাও পোস্টের সৌন্দর্য রক্ষায় বলছি
এতে প্রাইমারি অস্ত্র হিসাবে আছে
১ x অটোব্রেডা ৭৬ মিলিমিটার/৬২ সুপার র্যাপিড
৪ xঅটোব্রেডা ৪০ মিলিমিটার/৭০ (২ জোড়া) কম্প্যাক্ট সিআইডব্লিউএস;
১ x ৮ এফএম-৯০এন বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র;
২ x ৪ অটোম্যাট এম কে. ২ ব্লক ৪ জাহাজবিধ্বংস ক্ষেপণাস্ত্র;
২ x ৩ ৩২৪ মিলিমিটার বি-৫১৫ টিউবস – হোয়াইহেড এ২৪৪এস টর্পেডো
২ x সুপার ব্যারিকেড শ্যাফ উৎক্ষেপক।
এতে এন্টিশীপ মিসাইলের জন্য ৪ টি লঞ্চার আছে যাতে ৪ টি মিসাইল থাকে এবং বাকি ৪ টি স্টোরেজ হিসাবে রাখা যায়। যেগুলো ম্যানুয়াল লোড এর মাধ্যমের লঞ্চার যুক্ত করা যায়। অনেক কে হয়তো জানেন এতে ৮ টি লঞ্চার কিন্তু সেটি ভুল।
# সেন্সর
বাকি অস্ত্র নিয়ে বিস্ত্র বিবরন দিয়ে পোস্ট বড় করলাম না এবার আসি পোস্টের মুল অংশে যার জন্য এটি নিয়ে নতুন করে লেখা হল। কি আছে এর সেন্সর আর কমবেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে??
প্রথমেই আসি এর রাডার নিয়ে।
বিএনএস বিবি তে ব্যবহার করা হয়েছে একটি লো ফ্রিকোয়েন্সি ডুয়েল ব্যান্ড E/S ব্যান্ড 2D মিডিয়াম টু লং রেঞ্জ থালাস
# ডিএ০৮_এয়ার_সার্ফেস_সার্চ_রাডার
যা যেকোন আবহওয়ায় একই কাজ করতে সক্ষম। এই রেডার খুবই লো ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে যার জন্য ইলেক্ট্রিক কাউন্টার মেজার সিস্টেমে ধরা পরার সম্ভাবনা খুব কম। এর সবচেয়ে ভাল দিক এর একুরেসি যার জন্য এটি এর সমগোত্রীয় রাডার গুলোরর চেয়ে অনেক এগিয়ে। এই সিস্টেম টি কোন। কিছু ট্রাক তার 2D ছবি তৈরী করতে সক্ষম এবং তা শত্রু না মিত্র তা অটোমমেটিক ভাবে নিশ্চিত করতে পারে। সেই সাথে এতে থাকা TWT ট্রান্সমিটার এর মধ্যমে শত্রু জাহাজ থেকে পাঠানো রাডার জ্যামার সিগ্নাল কে কাউন্টার করে রাডার কে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। যদিবা এই রাডার রেঞ্জ এখন পর্যন্ত গোপন তবে ইন্টারনেটের বদৌলতে অনেক এক্সপার্ট এর মতে এর রেনজ ২৫০ কিমি এর কম নয়। এই রাডার লো সাইল্ড ডিজাইনের কারনে একে ইসিএম নিয়ে কাউন্টার করা যথেষ্ট কঠিন।
এই জাহাজে সেকেন্ডারি রাডার হিসাবে আছে একটি ভ্যারিয়েন্ট X/C ব্যান্ড সার্ফেস সার্চ রাডার যার রেনজ ৮০ কিমি। যদিউ এর রেঞ্জ কম তবে সলিড স্টেট রাডার হওয়ায় একে ইলেক্ট্রিক কাউন্টার মেজার ক্ষমতা যথেষ্ট ভাল। তবে বাংলাদেশ নেভি এর মিড লাইফ আপগ্রেড করতে যাচ্ছে আর এই রেডার পরিবর্তন করে কেলভিন হুগি X ব্যান্ড রাডার ব্যবহার করার চিন্তা করছে যার রেনজ ১৮০ কিমি+।
এছাড়া এতে একটি কেলভিন হুগি ১০০৭ আই ব্যান্ড নেভিগেশন রাডার আছে যার রেনজ ১০০ কিমি। এটি বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নেভিগেশন রাডার।
# অনবোর্ড_ইন্ট্রিগেশন_সিস্টেম
বিএনএস বিবি ইন্ট্রিগেশন সিস্টেম হিসাবে আছে Thalas LINK-Y MK Tactical datalink system যা ন্যাটো বহিঃ ভূত দেশ গুলোর জন্য বানানো। এইই সিস্টেম টির সবচেয়ে উল্লেখকৃত দিক হল এট একই সাথে সোভিয়েত স্টান্ডার্ড লিংক-১১ এবং ন্যাটা স্টান্ডার্ড লিংক -১৬ এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। এটি সম্পূর্ন অটোনমাস ব্যবস্থা যা একসাথে ৩১ টি জাহাজ অথবা বিমান অথবা মিসাইলের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এবং সেগুলো ৩ সেকেন্ডের ও কম সময়ে বিশ্লেষন করে সম্পূর্ন তথ্য পরিবেশন করতে সক্ষম। এই সিস্টেম মিশন এর উপর ভিত্তি করে ৩ টি ভিন্ন মোডে কাজ করে। এয়ার বোর্ন ইন্ট্রিগেশন, শীপ বোর্ন কমবেট ম্যানেজার এবং অফসোর ইন্ট্রিগেট। এই সিস্টেম টি অভার দা হরিজন ইন্ট্রিগেট করতে পারে।
# MOC_MK3 হলো একটি মাল্টিফাংশন C3I কমান্ড কন্ট্রোল এন্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম যা জাহাজ এর কমান্ডিং অফিসার এর সাথে জাহাজ থাকা ক্র এবং অন্য জাহাজে সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এই সিস্টেমের অধীনে কমান্ডিং অফিসার অপারেশন চলাকালীন সকল আপডেট নিতে সক্ষম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কখন কোনটি ব্যবহার করা হবে তার আদেশ এবং চাইলে সরাসরি নিজে ওয়েপন অফিসার এর অবর্তমান সরাসরি নিজেই অস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে এই সিস্টেম অটোনোমাস ভাবে সেই অস্ত্র ব্যবস্থা কে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং লক্ষ্য ঠিক করে ফায়ার করবে। আর এর জন্য এই সিস্টেম টি জাহাজে থাকা সকল সেন্সর এর সাথে যুক্ত
# TACTICOS : এটি একটি ন্যাটো স্টান্ডার্ড মিশন কন্ট্রোল ইন্ট্রিগেট সিস্টেম যা মিশন এর সকল আপডেট কে একত্রিত করে মিশন পূর্ববর্তী সকল কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করতে সক্ষম। এটি মুলত ইমারজেন্সি সিচুয়েশনে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষন করে সেই অনুযায়ী জাহাজ কে কমান্ডিং অফিসার কে সিধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটি জাহাজের সেন্ট্রাল লিংক হিসাবে কাজ করে যখন জাহাজের ক্রু দের পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই মিশন পরিচালনার দ্বায়িত্ব নিতে হয়।
এই পর্যন্ত পড়ার পর যদি ধৈর্য থাকে তবে এবার এই জাহাজের ইলেক্ট্রনিক কাউন্টার মেজার সম্পর্কে পড়ুন।
# CUTLASS_242_ESM
Cultass ESM হল শীপ বেসড ইলেক্ট্রনিক সার্পোট সিস্টেম যেটি মুলত শত্রু জাহাজ থেকে প্রেরন করা লো ব্যান্ড রেডিও ওয়েভ কে গ্রহন করে তার অবস্থান নির্নয় করে। এই সিস্টেম টি একটি ন্যাটো গ্রেড সিস্টেম যা ১গিগাহার্জ থেকে ১৮ গিগাহার্জ যেকোন ওয়েভ ব্যান্ড কে খুজে বের করতে সক্ষম। যদি কখনো রাডার দ্বারা জাহাজকে খুজে বের করতে সমস্যা হয়েও থাকে তাও এই সিস্টেমটি শত্রু জাহাজ থেকে প্রেরন করা রাডার ওয়েভ কে গ্রহন করে তা খুজে বের করতে পারে। আর লোব্যান্ড ইন্টারসেপ্ট ক্যাপাসিটি থাকায় যতই লো ব্যান্ড রাডার হক এটি তা নির্নয় করতে সক্ষম। আর নির্নয় করা মাত্র ১ সেকেন্ডের ৯ ভাগ সময়ে অর্থাৎ ৯ মিলি সেকেন্ড এটি তার সকল তথ্য সহ পূর্ন ছবি তৈরী মিশন কম্পিউটার এ প্রেরন করতে সক্ষম। বুঝতেই পারছেন এটি কত ফাস্ট। এই সিস্টেমটি আসে পাশে থাকা ১৫০টি হাই প্রায়োরিটি টার্গেট কে বাছাই করে তাদের অবস্থান বের করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ২০০০ রাডার সিগ্নাল খুজে বের করতে পারে।
# স্করপিয়ন_জ্যামার স্করপিয়ন জ্যামার কে কাটলাস এর একটি সাব সিস্টেম বলা যায়। স্করপিয়ন জ্যামার আর কাটলাস ইসিএম কে একসাথে অক্টোপাস কমবেট সিস্টেম বলা হয়। এর কারন হল কাটলাস যখন শত্রু জাহাজের রাডার ওয়েভ খুজে বের করে তখন মিশন কম্পিউটার এর দ্বারা কোন ওয়েভ টি জাহাজের জন্য বিপদজনক তা নির্নয় করে স্করপিয়ন জ্যামার অটোনোমাস ভাবে তার দিকে রেডিও ওয়েভ ছুড়তে থাকে যার ফলে সেই রাডার ফলস ওয়েভ গ্রহন করতে থাকে এবং সঠিক তথ্য না পেয়ে জ্যাম হয়ে যায় বা জ্যাম করে দেয়া হয়। এই সিস্টেম টি এতটাই কার্যকর যে ন্যাটো দেশভুক্ত অনেক গুলো দেশ তাদের জাহাজে এই সিস্টেম ব্যবহার করছে।
# LIROD_MK2 এটি একটি ফায়ার কন্ট্রোল রাডার যা হেভি ECM এর ভিতরে কাজ করতে সক্ষম। এটি Thalas এর তৈরী একটি রাডার এবং ইনফ্রারেড+টিভি ক্যামেরার সমন্বে গঠীত। কোনন ভাবে এর রাডার জ্যাম হলেও ইনফ্রারেড সিস্টেম এবং টিভি ক্যামেরা কে কিন্তু চাইলেও জ্যাম করা সম্ভব না।
# MIRADOR : এটি একটি ইলেক্ট্রো অপ্টিকাল টার্গেটং এবং ট্রাকিং সিস্টেম যাতে একটি হাই রেজুলেশন ডে/নাইট ক্যামেরা থাকে যা সমুদ্র এবং আকাশে থাকা যেকোন টার্গেট কে ২৬ কিমি দূরর থেকে খুজে বের করতে পারে।
# TDS টার্গেট ডিটেকশন সিস্টেম বা TDS হলো এমন একটি ট্রাকিং + ফায়ার কন্ট্রোলল সিস্টেম যা গান ফায়ার এবং CIWS কন্ট্রোল এ ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি একটি লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার সিস্টেম নিয়ে গঠিত যা লেজার দ্বারা টার্গেট কে ট্রাক করে তাকে ধ্বংস করতে অস্ত্র কে নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
# NBC_Detection_System : এই সিস্টেম টি জাহাজের আসে পাশে থাকা নিউক্লিয়ার বায়োক্যামিকাল সনাক্ত করতে পারে।
# Combat_Management_System : এতক্ষন যা যা বললাম তার কোন কিছুই ঠিক ভাবে কাজ করবে না যদি Thalas এই কমবেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম না থাকে। এটি সেই সিস্টেম যা অস্ত্র এবং সেন্সর এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
আর এত কিছুর জন্য বিএনএস বিবি এখনো বাংলাদেশ এর ফ্লাগ শীপ
সেন্সর যা যা ছিল প্রায় সবই এখানে বলা হয়েছে। বাকি আসে এর ঈঞ্জিন টা। বিশ্বাস করেন ভাই ঐ টা নিয়ে ধারনা কম তাই দিলাম না নাহলে তাও দিতাম।
তাই মাপ করবেন তার জন্য।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: