তৈমুর লং ( আসল নাম তৈমুর,পা খোড়া হয়ে যাওয়ায় তৈমুর লং হিসেবে বেশি পরিচিত ) ছিলেন মধ্যযুগের এক বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি ও আমীর।

উজবেকিস্তান এর এই মহাবীর মধ্য এশিয়া ও পারস্যের তামুরিদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৩৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম নেওয়া এ মহাবীর তা আমলে এশিয়া কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। চেঙ্গিস খানের পর দেশ দখলের সফলতার ক্ষেত্রে সবার আগে তৈমুর লং এর নামই আসে। তিনি দিল্লী,বাগদাদ সহ অনেক জায়গায় আক্রমন করে দখল করেন প্রায় পুরো মধ্য এশিয়া,ইরাক,ইরান,ভারত সহ নানান দেশ। জীবনের প্রায় ৩৫ বছর নানা প্রকার যুদ্ধে কাটান তিনি। তার সেসব যুদ্ধে মোট মিলিয়ে ১৭ মিলিওন মানুষের প্রাণহানি হয়। যাইহোক সে অনেক আগের কথা।

মূল ঘটনা ঘটে ১৯৪১ সালে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্ট্যালিন উজবেকিস্তানে তৈমুর লং এর সমাধি খোলার জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদ দের একটি দল পাঠান। তখন ইউরোপে যুদ্ধ চললেও সোভিয়েত ও জার্মানি কিন্তু বলতে গেলে বন্ধুই ছিলো। (অনেকেই জানেন জার্মানির আক্রমন হয়েছিলো হঠাৎ)। ঝামেলা হলো,তৈমুর লং এর সমাধি খোলার পরই একটা অভিশাপ পত্র পাওয়া যায়। যেখানে লেখা ছিলো,

“যারা এই সমাধি খুলবে তাদের আমার চেয়েও বড় আক্রমণকারী আক্রমন করবে ও ক্ষতি করবে”

এবং এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে এডলফ হিটলার হঠাৎ মিত্র রাশিয়ার ওপর আক্রমনের ঘোষনা দেন ও সে যুদ্ধ জার্মানরা প্রায় ২৬ মিলিওন এর মতো প্রাণহানি ঘটায় ( তৈমুর লং থেকে বেশি )। ১৯৪২ সালে স্ট্যালিন সমাধি বন্ধের নির্দেশ দেন ও নিয়ম মেনে তা পুনরায় সমাধিস্থ করেন। এবং পুনরায় সমাধিস্থ করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে স্টালিনগ্রাডে জার্মানদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ ঘটে ও জার্মানরা তাদের রাশিয়া অভিযানের ইতি টানে 😷

তৈমুর লং এর সমাধি

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: