গত ২৪ জুলাই ইসরাইলের একটি এফ-৩৫ আদির #স্টেলথ যুদ্ধবিমান (ভুলক্রমে/ইচ্ছাকৃতভাবে) সিভিলিয়ান ট্রান্সপোন্ডার অন করে রাখায় এয়ারক্রাফট ট্র্যাকিং বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Flightradar24.com এ প্রায় এক ঘন্টার মত visible ছিল!!

উল্লেখ্য Flightradar24 বা PlaneFinder এর মত ওয়েবসাইটগুলো বিশ্বব্যাপী সিভিলিয়ান এয়ারক্রাফটগুলোকে অনবোর্ড জিপিএস নেভিগেশন সিস্টেম এর সাহায্যে ২৪ঘন্টা মনিটর করে।এয়ারক্রাফটগুলো 1090 MHz ফ্রিকোয়েন্সিতে গ্রাউন্ড স্টেশন বা অন্য এয়ারক্রাফট এর সাথে নিজের গতি,উচ্চতা,ফ্লাইট প্যাথ শেয়ার করে যা সমসময় গ্রাউন্ড স্টেশন রেকর্ড করে রাখে।
অর্থাৎ আপনি কোন এয়ারক্রাফট এর ফ্লাইট কোড/হেক্স কোড জানলে ঘরে বসেই ওয়েবসাইট কিংবা তাদের app এর মাধ্যমে (প্লে স্টোরে পাবেন) বিমানের ফ্লাইট প্যাথ মনিটর করতে পারবেন।সিভিলিয়ান ট্রান্সপোন্ডার অন থাকায় ঐ ১ঘন্টা যাবৎ স্টেলথ এফ-৩৫ সিভিলিয়ানদের কাছেই ভিজিবল বা ডিটেক্টেবল ছিল
অনেকে এফ-৩৫ এর ফ্লাইট প্যাথ রেকর্ড করে স্ক্রীনশট ফেসবুক/টুইটারে দিয়ে মজা নিচ্ছেন।

এ ঘটনার এখনও ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরায়েলি এয়ারফোর্স।

উক্ত এফ-৩৫টি ইউএস হেক্স কোড AF351F ব্যবহার করছিল।যার ফলে সবাই এয়ারক্রাফটটি কোন মডেল সেটা সহজেই বুঝতে পারে।ফ্লাইট প্যাথ দেখেও বিমানের ম্যানুভারিটি আন্দাজ করে সিভিলিয়ান নাকি মিলিটারি সেটা বুঝা যায়।উক্ত হেক্স গত ১৫নভেম্বরে,২০১৬ তে Live ModeS এ লগ অন করা হয়েছিল এবং তারা কয়েকদিন রেগুলার ফ্লাইট ও ট্র্যাক করেছিল।সম্ভবত ইসরাইলকে এফ-৩৫ দেয়ার আগে টেস্ট ফ্লাইট ছিল ওগুলো।উক্ত হেক্স কোডে ICAO 24 বিট এড্রেস এসাইন করা ছিল যা Mode-S/ADS-B transponder কে নির্দেশ করে।Live ModeS এ লগ ইন করে আপনি মিলিটারি ট্রান্সপোন্ডারযুক্ত এয়ারক্রাফট এর রেগুলার নন কমব্যাট ফ্লাইট হিস্টোরি চেক করতে পারবেন।নিচের ছবিতে প্রথমেই একটা E-6B বিমানের লগ হিস্টোরি দেখা যাচ্ছে।

 

তাহলে ইসরাইলের শত্রুরা ওয়েবসাইট দিয়েই এফ-৩৫ ট্র্যাক করে মিসাইল মারতে পারবে এমনটা ভেবে বসবেন না আবার।
এটি এডিএস-বি ট্রান্সপোন্ডার এর মাধ্যমে তার অবস্থান সম্প্রচার করেনি তবে এটি মাল্টিলেটারেশন (এমএলএটি) এর মাধ্যমে ট্র্যাক করা যায়।Time Difference of Arrival (TDOA) ব্যবহার করে এমএলএটি চারটি ভিন্ন রিসিভার থেকে সংকেত প্রাপ্তির জন্য পার্থক্যটি পরিমাপ করে।তাই বিমানের প্রকৃত অবস্থান আপনি জানতে পারবেন না।ব্যাপারটা আসলে গাড়ি চলে যাবার পর চাকার দাগ থেকে যাওয়ার মত।

আবার ঐদিন ইই ইসরাইল তাদের নিজস্ব এন্টি ব্যালাস্টিক মিসাইল ডেভিড স্লিং কে অপারেশনাল করে যা প্রথমবারের মতো দুটো সিরিয়ান ব্যালাস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করে।এঘটনার সাথে এফ-৩৫ এর ভিজিবল হওয়ার ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।এটা পাইলটের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সেটা জানা যায় নি।তবে কমব্যাট মিশনে এধরনের ট্রান্সপোন্ডার অফ করে রাখা হয়।

যাই হোক ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত আমাদের অনেকেই মনে করেন স্টেলথ মানে ইনভিজিবল(অদৃশ্য)
মোবাইল ফোন দিয়ে এফ-৩৫ ট্র্যাক করায় আশা করি ঐরকম কেউ থাকলে তার ভুল ধারণা দূর হলো।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: