দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রবাহিনীর সাথে যোগ দিলে মিত্রবাহিনীর যুদ্ধজয় অনেকটা নিশ্চিত হলেও ধীরে ধীরে এই যুদ্ধ প্রকাশ পায় ক্ষমতা ও দাম্ভিকতার লড়াইতে। এক দিকে যুক্তরাষ্ট্র সারাবিশ্বে যেমন তার আধিপত্য বিস্তার করতে স্বপ্ন লালন করতে থাকে তেমনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার বিস্তৃতি ঘটাতে ছক কষতে থাকে আর তারা তাদের সামরিক শক্তির মাধ্যমে একের পর এক যুদ্ধ জয় করে অক্ষশক্তি কে পরাজিত করতে বা দুর্বল করে দিতে থাকে সাথেই একের পর এক এলাকা দখলে নিতে শুরু করে। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্বব্যাবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়, আর এই মতপার্থক্য এর জের ধরেই দুটি আলাদা মতবাদ গড়ে উঠে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশ সমূহ বা তথাকথিত মানবতার ব্যবসায়ী পশ্চিমা সমাজ পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় আর অপর দিকে মানে অপরপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার সমাজবাদী চিন্তাধারার মিত্ররা সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়,,, যা একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক ও বলা চলে। আর এতবড় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সোভিয়েত ও আমেরিকা অন্য সকল দেশের তুলনায় কয়েকগুণ শক্তিশালী হয়ে গেলো, ফলসরূপ সৃষ্টি হলো “দুই মোড়ল” এর আর এই দুই মুড়লের ভেতর কোন মোড়ল বিশ্বের মাথায় ছড়ি ঘুরাবে বা নেতা হবে এই নিয়ে শুরু হলো এক নুতুন অদৃশ্য যুদ্ধ যাকে আমরা স্নায়ুযুদ্ধ বা শীতলযুদ্ধ নামে চিনি। আর এই কোল্ড-ওয়্যার বা স্নায়ুযুদ্ধ স্থায়ি হয়েছিলো চার-দশকেরো বেশি সময় ধরে, যার ফলসরূপ বিশ্ব-সমাজ বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলো ২ টি ভাগে যারা সম্পূর্ণ দুটি ভিন্নমতাবলম্বী ছিলো। শীতল যুদ্ধ নাম দেয়া হলেও পরিস্থিতি কখনওই শীতল ছিলোনা বরং ছিলো এক টানটান উত্তেজনা। এই সময়টায় মানবসভ্যতা চরম হুমকির সম্মুখীন হয়।
.
স্নায়ুযুদ্ধে প্রধান পটভূমি ছিলো মূলত ইউরোপ কিন্তু এর প্রভাব ছিলো পুরো পৃথিবীজুড়ে। আফ্রিকা থেকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দঃ আমেরিকা সব জায়গায় ছিলো এর প্রভাব বিদ্যমান। এই সময়টায় সোভিয়েত Vs আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধ না হলেও অন্য দেশ গুলোর যুদ্ধে এরা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িয়েছে। কখনোবা করিয়ো যুদ্ধ কখনো ভিয়েতনাম কখনো বাংলাদেশ এর মুক্তিযুদ্ধ, এক পক্ষ নাক গলালে অন্য পক্ষ কখনওই চুপ করে থাকেনাই। আর এই পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জরানোর ফলে স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত দেশ গুলো নেমে পড়ে “অস্ত্র-প্রতিযোগিতায়”।
.
মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে স্নায়ুযুদ্ধের রেশ শুরু হলেও মূল স্নায়ুযুদ্ধ বা সরাসরি বিরোধ ও প্রভাব বিস্তার শুরু হয় ১৯৪৭ থেকে। এই সময় মার্কিনীরা সহো পশ্চিমা সমাজ জখন বুঝতে পাড়ে সোভিয়েত কে সরাসরি মোকাবিলা করা সম্ভব না ঠিক তখনি তারা শুরু করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন এর বাহিরে সমাজতন্ত্র এর প্রসার রোধে কাজ শুরু করলো যা “Containment” নামে পরিচিত। যেহেতু সমাজতন্ত্র মতবাদ পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা তাই তারা চেয়েছিলো কমিউনিজম রোধের। আর সে লক্ষে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Harry S.Truman তুরস্ক ও গ্রিসের জন্য নিয়ে আসে $৪০০ মিলিয়নের অর্থ সহায়তা প্রকল্প যা “Truman Doctrine” নামে পরিচিত যার উদ্যেশ্য ছিলো সমাজতন্ত্র রোধ ও পুঁজিবাদ এর বিস্তার। আর এই TD এর ধারাবাহিকতা ধরে আসে “Marshall Plan” যা মূলত ইউরোপের পশ্চিমাংশ কে একত্রিত করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মুক্তবাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ব্যাংক গুলো থেকে প্রচুর ঋণ সহায়তা ও আমেরিকার বাজার উন্মুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে অনেক দেশ সমাজতন্ত্রে প্রলোভিত না হয়ে পুঁজিবাদী মতবাদে ঝুকে পড়ে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে যেতে থাকে স্টালিনের নীতিগত কারনে।
.

.
যেহেতু পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্র প্রসারে বাধা তাই সোভিয়েত ইউনিয়ন চেষ্টা করতে থাকে পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকা নিজেদের অধিনে রাখতে ও সমাজতন্ত্র কে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে, এবং তারা তাদের সর্বচ্চ প্রচেষ্টা শুরু করে কমিউনিজম ছড়াতে। এদিকে ১৯৪৮ এ চেকোস্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্ট অভ্যুত্থান ঘটে এবং তার কিছুদিন পর সংগঠিত হয় বার্লিন অবরোধ। এদিকে ১৯৪৯ সালে ঘটেযায় চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লব যাথে পরবর্তী ১৯৫০ এর সমাজতন্ত্র প্রসার রূপলাভ করে কোরিয় যুদ্ধে আর মানবসভ্যতা নিউক্লিয়ার ওয়েপন্স এর পরে প্রত্যক্ষ করতে শুরু করে বায়োলজিক্যাল ওয়েপন্স এর। একই বছর অর্থাৎ ১৯৫০ সালে চীন, তিব্বত, তাইওয়ান জরীয়ে পরে বিক্ষোভ আন্দোলনে যা পশ্চিমা মুড়ল আমেরিকার ঘাম ছুটিয়ে দেয় কেননা সমাজতন্ত্র বিস্তার লাভ করতে থাকে।
.
উল্লেখ্য ১৯৪৭ সালেই আমেরিক তার প্রভাব বিস্তার ও সামরিক তথ্য সংগ্রহে গঠন করে CIA এবং ১৯৪৮ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের প্রথম পারমাণবিক বিস্ফারণ ঘটায় কাজাখিস্তানে তখন আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্ররাষ্ট্র গুলো বিপদে পড়ে এবং ১৯৪৯ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও তাদের ৮ মিত্র দেশ মিলে একটি চুক্তিবদ্ধ হয় যা বহিঃপ্রকাশ হয় North Atlantic Treaty Organization-NATO নামে। একটাজিনিশ ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় স্নায়ুযুদ্ধের প্রথমদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থনীতির উপর গুরুত্ব না দিয়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও শক্তি প্রদর্শনেই বেশি ব্যস্ত ছিলো আর পশ্চিমা সমাজ আরো সহজ করে বললে আমেরিকা ব্যস্ত ছিলো অর্থনৈতিক শক্তি স্থাপনে যার ফলসরূপ আজো বিশ্বঅর্থনীতির মুল চালকের আসনে আমেরিকা।
.
১৯৫০ এ শুরু হওয়া কোরিয় যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে দুই পরাশক্তি না জড়ালেও মূলত যুদ্ধটা তারাই করেছে। কেননা দুই কোরিয়াকে অস্ত্র,অর্থ, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে দু পরাশক্তির সৈন্যরাই কোরিয়ো সৈন্যদের পোশাক পরে যুদ্ধ করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন যেখানে চাচ্ছিলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সেখানে পশ্চিমা সমাজ চাইছিলো এর বিস্তার রোধে। এদিকে জাপানের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই এমন পরিস্থিতি চীন ও সামাল দিতে পেড়ে উঠেনি সাথে তাইওয়ানীয় দের আন্দোলন নিরাপত্তা পরিষদে চীনের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ ইত্যাদি ঘটনা সমাজতন্ত্র এর আগ্রগামী যাত্রা বেশ পিছিয়ে দেয় যার মূল কারণ ই ছিলো অর্থনৈতিক দুর্বলতা থেকে ঘটে চলা একের পর এক বিক্ষোভ।

কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস এর পরে জন.এফ. কেনেডি এর নেয়া পদক্ষেপ গুলোর প্রভাবে আস্তে আস্তে সোভিয়েত – আমেরিকা সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে ১৯৬৭ এর আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আবারো এই দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হয় তাদের অস্ত্র ও অর্থ দুই পক্ষের হাতে তুলে দিয়ে। ৬ দিনের এই আরব-ইসরাইল যুদ্ধে স্বভাবতই আমেরিকা দখলদার ইসরাইল এর পক্ষ নেয় এবং প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র সরবারহ করে, এদিকে সোভিয়েত স্বভাবতই অপর পক্ষ নিবে, তাই তারা আরব দেশ গুলোকে অস্ত্র সহায়তা দিতে থাকে। এই ঘটনার ফলে আমেরিকা-সোভিয়েত উভয় এই বড় ধরনের অর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় ফলে স্নায়ুযুদ্ধ আরো স্বাভাবিক হয়ে আসে আর কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
.
এই অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া ও একে অপরের উপড় থেকে হুমকি হ্রাসের লক্ষে ১৯৬৯ সালে আমেরিকা-সোভিয়েত SLOT চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে এবং ১৯৭২ সালে SLOT চুক্তি হয়, এই চুক্তির আওয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, একে অপরের উপড় থেকে হুমকি হ্রাস, অস্ত্র ক্ষমতা হ্রাস, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ থাকে। এরপর নানান পরিস্থিতি বিমুখী হলে 2nd SLOT চুক্তি টি করা হয় ১৯৭৯ সালে।
.
এরপরে ভিয়েতনামযুদ্ধে তারা ভিন্ন দুটি পক্ষের অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়, এরি মাঝে ১৯৭১ এর শেষে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা পশ্চিম পাকিস্তান এর পাশে দাঁড়ালে এবং বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠালে সোভিয়েত রাশিয়া বাংলাদেশ-ভারতের পাশে দাঁড়ায় এবং নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মোতায়েন সহ নৌবহর পাঠায় যার ফলে এখানেও মুখোমুখি হলেও যুদ্ধ হয় না দুই পক্ষের।
.
১৯৭৩ সালে যখন OIL Crisis শুরু হয় তখন উভয় রাষ্ট্রই ৩য় বিশ্বের দেশ গুলোর উপর প্রভাব বিস্তারে বিশেষ নজর দেয়, বিশেষ করে OPEC ভুক্ত দেশ গুলোর উপর,, আর এইখানেই আমেরিকা তুরুপের এক্কা পেয়ে বসে। যখন ইসরাইল এর আগ্রাসন এর ভয়ে আরব দেশ স্তম্ভিত ঠিক তখনি আমেরিকা ওপেক এর মাথা সৌদিআরব কে একটা গোপনীয় প্রস্তাব দিয়ে বসে। প্রস্তাব অনুযায়ী ওপেক ভুক্ত প্রতিটি দেশ শুধুমাত্র ডলারের বিপরীতেই তৈল বিক্রয় করবে, অন্য কোন কিছুর বিনিময়ে নয়,, আর এর বিনিময়ে ইসরাইল এর আগ্রাসন সহ যে কোন দেশের আগ্রাসন থেকে সৌদিআরব সহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ গুলোকে আমেরিকা রক্ষা করবে [ অনেকটা মুরগির নিরাপত্তা শিয়ালের কাছথেকে নেয়ার মত]। আর ঐ চুক্তি অনুযায়ী ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ হয় তৈল এর বিপরীতে, আগে যেখানে প্রতি আউন্স সোনার বিপরীতে ডলারের মান নিয়ন্ত্রণ হত সেদিন থেকে হয় প্রতি ব্যারেল তৈলের বিপরীতে। অর্থাৎ আপনারা হয়তো এবার বুঝে গেছেন কেন তৈল নিয়ে এতো যুদ্ধ 😉
.
.
ওপেকের কলকাঠি আমেরিকার হাতে চলে যাবার পর থেকে অর্থনৈতিক ভাবে আমেরিকার শুধুই অগ্রগামী আর সোভিয়েতের পিছিয়ে যাওয়া। তবে ১৯৭৯ সালে গল্ফ ডিভিশনে আমেরিকা সবচাইতে বড় ধাক্কা খায় যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বড় মিত্ররাষ্ট্র ইরান ইসলামী বিপ্লব ঘটিয়ে বসে, এবং আমেরিকার সাথে সবচাইতে খারাপ সম্পর্ক করে বসে। কেননা বিশ্বের তৈল বাণিজ্যের সিংহভাগ ই ইরানী জলসীমা দিয়ে পরিবহন করা হয়। এদিকে আফগানিস্তান নিয়ে সোভিয়েত-আমেরিকা দন্ড শুরু হয়, আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত প্রভাব ক্ষুণ্ণ করতে আমেরিকা আফগাম মুজাহিদ দের সল্প-ভারি অস্ত্র সরবারহ করে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তার মাধ্যমে আফগানিস্তান কে অস্থিতিশীল করে তুলে। অবশ্য এর পিছনে আরেক কারণ ছিলো, আর তা হলো ইরান, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সোভিয়েত ও অন্য দিকে ইরান কে শায়েস্তা করতেই আফগানিস্তানে আমেরিকার প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী হয়ে উঠে যার ফলে আফগানিস্তানে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র হ্রাস পায়।
.
এর পরের বছর গুলোয় আমেরিকায় ক্ষমতায় আসে প্রেসিডেন্ট রিগান, এ আরেক যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট হবার বদৌলতে স্নায়ুযুদ্ধ আরো বেশি গরম হতে শুরু করে, সে প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে আফগান তালেবান দের অস্ত্র সহায়তা দিতে থাকে, ফলে সোভিয়েত অত্যাধিক বেশি শক্তি আফগানিস্তানে প্রয়োগ করতে গিয়ে অর্থনীতির বারোটা বাজায় যা থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে ফাটল ধরে, সোভিয়েত ব্লকে বিক্ষোভ, নেতা পরিবর্তন সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা। এরি ভেতর সোভিয়েত ইউনিয়নে ক্ষমতায় আসে মার্কিন পন্থী ‘মিখাইল গর্বাচভ’,, সে মার্কিন শপ্ন বাস্তবায়ন করা শুরু করে, সোভিয়েত থেকে অনেক দেশ বেড়িয়ে যাবার প্রস্তুতি শুরু করে, আফগানিস্তানে সোভিয়েত দের করুণ পরিস্থিতি সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন কে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। ১৯৮৭ সালে সোভিয়েত লিডার গর্বাচভ আমেরিকা যায় এবং সেখানে সে তার বক্তব্যে বলে “তোমাদের সকলকে চমকে দিবো, সাথে তোমাদের এক শত্রুও হ্রাস পাবে”। আর ঠিকি তাই হয়, সে আমেরিকার সাথে AENF চুক্তি করে বসে, আর এই চুক্তি অনুযায়ী কিউবা, আফগানিস্তান ও পূর্ব ইউরোপ থেকে সরে যায় বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী “সোভিয়েত রেড আর্মি”। এরপর ধারাবাহিক ভাবে START চুক্তির মাধ্যমে বিশাল সোভিয়েত অস্ত্র ভান্ডার বিলুপ্ত/ভাগাভাগি হতে থাকে। এরপর “পেরেস্ত্রইকা এবং গ্লাসনওস্ট” নামে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এর নামে গর্বাচভ দুটি চুক্তি করে, যার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যেতে শুরু করে। ধিরে ধিরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভুক্ত স্টেট গুলো পশ্চিমা পুঁজিবাদ মতবাদের দিকে ঝুকে পড়ে ফলসরূপ ১৯৮৯ সালে বার্লিন ওয়্যাল পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ডওয়্যার এর সমাপ্তি ঘটে।
.


.
 যদিও দেখা যাচ্ছে আমেরিকাই জিতেছে এই যুদ্ধে, তবুও পরোক্ষ ভাবে বললে বলা যায় কেউ ই জিতে নি । শুধুমাত্র মার্কিন হিসেব অনুযায়ী এই ৪০+ বছরে $৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে স্নায়ুদ্ধের পিছনে সাথে কোরিয়ো ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ মিলে ১+ লক্ষ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যের প্রাণ হারিয়েছে। সোভিয়েত পতনের মধ্যদিয়ে আমেরিকা হয়ে উঠে বিশ্বের একছত্র মোড়ল বা পরাশক্তি। তবে সোভিয়েত পতনের মাধ্যমে সোভিয়েত জনগণের লাভ ই হয়েছে কেননা তারা মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারছে সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তো আছেই, ক্ষতি বলতে শুধু সামরিক শক্তির ক্ষতিই হয়েছে তাদের। এদিকে দুই পরাশক্তির এই শীতলযুদ্ধের ফলে বহু দেশ, জাতি বিভক্ত হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে সন্ত্রাসবাদ। স্নায়ুদ্ধের কারনে আমেরিকা পৃথিবীকে উপহার সরূপ প্রদান করেছে আল-কায়দা বা তালেবানের মত জঙ্গিসংগঠন। মানব সভ্যতা দেখেছে পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জৈবিক ওয়েপন্স এর ভয়াবহতা, দেখেছে মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার মতো অস্ত্রসমূহ।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: