পত্রপত্রিকাতে আমরা প্রায় সময় স্টিলথ বিমানের কথা শুনে থাকি। আসলে আমরা কি কখনো ভাবছি এটি কি? অনেকের ধারনা স্টিলথ নিশ্চয়ই এমন কোন প্রযুক্তি, যা বিমানকে শত্রুপক্ষের রাডারের সামনে অদৃশ্য বা অনেক ক্ষুদ্র করে দেয়। অর্থাৎ, কেউ দেখতে পারবে না!! আসলে কি তাই?

তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চায়না, রাশিয়া সহ অনেক দেশতো স্টিলথ প্রযুক্তির জিনিসের জন্য পাগল!! তাহলে মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে স্টিলথ প্রযুক্তিটা কি? চলুন জেনে নেওয়া যাক……

স্টিলথ প্রযুক্তি কি??

স্টিলথ প্রযুক্তি হচ্ছে এমন প্রযুক্তি, যার সাহায্যে যুদ্ধবিমান বা যুদ্ধজাহাজ কিংবা সামরিকযানকে প্রতিপক্ষের রাডারের নজর এড়িয়ে আক্রমন চালাতে সক্ষম অর্থাৎ রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। আর যে সব বিমানে এই সব প্রযুক্তি আছে। সেই সব বিমানকে স্টিলথ বিমান বলে। যেমনঃ আমেরিকার তৈরি বি-২ বোম্বার, এফ-২২ রেপ্টর, এফ -৩৫ লাইটেনিং, রাশিয়ার সু-৫৭, চায়নার জে-২০, জে-৩১ ইত্যাদি।
এই বিমান ফাইটার জেট হতেও পারে আবার বোমারু বিমানও হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ, ফ্রিগেট, ড্রেস্ট্রয়ার এমনকি মিসাইলেও স্টিলথ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।
একজন বৈমানিকের সবচেয়ে বড় শত্রু হল মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র। মিসাইল বিমানের দিকে ছুটে আসা মানেই বৈমানিকের মৃত্য অনেকটা নিশ্চিত। যদিও অনেক রকম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুদ্ধবিমানে আছে। তারপরও বর্তমান যুগের অত্যাধুনিক সারফেস টু এয়ার মিসাইলের আছে যার কাছে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো খুব একটা কাজে লাগে না বললেই চলে।
F-22 Raptor
যাই হোক যা বলছিলাম, কোন দেশকে আক্রমন করতে হলে প্রথমে তার বিদ্যমান রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই হবে। যদি ধ্বংস করা সম্ভব না হয়ে থাকে তাহলে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে আসতে থাকবে সারফেস টু এয়ার মিসাইল। আর যদি ছুটে আসতে থাকে তাহলে কি হবে তা তো বললামই। তার মানে দাঁড়াল রাডার ডিটেক্ট করতেই পারলেই কেল্লাফতে। যা কিছু করার দরকার তা মিসাইলেই তা নিমিষে করে দিবে।
Lockheed Martin F-35 Lightning II
যেহেতু মিসাইল রাডার হতে প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডাটা সংগ্রহ করে, অতঃপর সেই ডাটা বিশ্লেষণ করে বিমান লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ হয়, তাঁর সেন্সর দিয়ে ডিটেক্ট করে লক্ষ্য বস্তু কে আঘাত করে । যদি রাডারকে ধ্বংস করতে পারেন তাহলে মিসাইলের কোন চিন্তা আপনাকে করতে হবে না যেহেতু মিসাইল আর তথ্য পাচ্ছে না। এরপর ওই দেশ ধ্বংস করা সময়ের ব্যাপার।
স্টিলথ বিমানকে অত্যাধুনিক রাডার ছাড়া ডিটেক্ট করা সম্ভব হয় না। ফলাফল স্বরূপ, আপনি রাডারের মাথার উপর এসে মিসাইল, বা বোমা মেরে দিয়ে চলে যেতে পারেন। এরপরে বিমানের এক বিরাট বহর এসে পুরো দেশ খেয়ে ফেলবে। তাছাড়া এয়ার টু এয়ার মিশনে বা BVR (Beyond-visual-range missile) এর ক্ষেত্রে আপনার জেট স্টিলথ হলে প্রতিপক্ষের জেট তা সহজে ডিটেক্ট করতে পারবে না। কিন্তু আপনি ঠিকই তার জেট ডিটেক্ট করতে পারবেন যেহেতু সেটা স্টিলথ না।
AAM-4 Missile(BVR)
তখন আপনি এয়ার টু এয়ার মিসাইল তার দিকে অনেক আগেই নিক্ষেপ করে ধ্বংস করে দেওয়া সময়ের ব্যাপার। এই ক্ষেত্রেও আপনি প্রতিপক্ষের বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তখন জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাছাড়া স্টিলথ ড্রোন দিয়ে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোন দেশের অভ্যন্তরে চুপিসারে প্রবেশ করে আক্রমণ করে আবার চুপিসারে বেড়িয়ে আসা যায়।

কিভাবে স্টিলথ প্রযুক্তি কাজ করে?

কিভাবে স্টিলথ বিমান কাজ করে তা বুঝতে হলে রাডার কি? কিভাবে রাডার কাজ করে তা বুঝতে হবে।

রাডার কিঃ

দুরের কোন বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তাকে বলে রাডার। রাডার (RADAR ) আসলে একটি শব্দসংক্ষেপ (Radio Detecting and Ranging)। এই রাডারের সাহায্যে ঘন অন্ধকার রাতেও দূরের বস্তুকে লক্ষ্য করা যায়। এর ফলেই রাডার বিমানের পাইলট কিংবা সামূদ্রিক জাহাজের ক্যাপ্টেন বা স্থল সামরিক বাহিনীর সদস্যের কাছে একটি তৃতীয় নয়ন হিসাবে কাজ করে। যদি কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেন তাঁর রাডার যন্ত্রের পর্দায় চোখ রাখেন তাহলে দেখতে পাবেন পর্দার কোথাও ফুটে উঠেছে একটি ক্ষুদ্র আলোর বিন্দু ।
Radar
রাডারের পর্দাটি আসলে একটি টেলিভিশন পর্দার মতো। এই পর্দার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছে একটি অপেক্ষাকৃত বড় আলোর বিন্দু। বড় আলোর বিন্দুটি হল নিজের অবস্থান। এর চারপাশে যদি কোনো আলোর বিন্দু ফুটে ওঠে তাহলে ধরে নিতে হবে ওখানেই আছে বা এত দূরে আছে নির্দিষ্ট বস্তুটা। রাডারের পর্দার নম্বর এবং অক্ষরই বলে দতে পারে বস্তুটির অবস্থান কোথায়, কোন দিকে আছে এবং কত দূরে আছে।
রাডার যন্ত্র আকাশে উড়োজাহাজে, সামুদ্রিক জাহাজে এবং স্থলভাগের যে কোনো স্থানেই ব্যবহার করা যায়। স্থলভাগে বসানো রাডার যেমন বলে দিতে পারে আকাশে কোথাও শত্রু বিমানের আগমন ঘটেছে তেমনি বিমানে অবস্থিত রাডারও বলে দিতে পারে নিচে কোথায় বিমান বন্দরের অবস্থানটার লক্ষ্যবস্তু বা তার আশেপাশের অন্য কোনো শত্রুর বিমান আছে কিনা, কত দূরে আছে।
তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে রাডার ক্রস সেকশন কি??

রাডার ক্রস সেকশনঃ

রাডার ক্রস সেকশন বা RCS হলো রাডারের নিকট বা রাডার স্কিনে একটা বিমানের আকৃতির পরিমাপ।অর্থাৎ রাডারে নিকট বস্তুটির আকার কতটুকু সেটাই বুঝায়।

 

 

রাডার ক্রস সেকশন এর গুরুত্ব কি??

রাডার ক্রস সেকশন এর অনেক গুরুত্ব। বিমান বড় হলে বা স্টিলথ না হলে রাডার ক্রস সেকশন ওই বিমানের বেড়ে যায়। রাডার ক্রস সেকশন যত বেশি হবে সেই বিমান তত তাড়াতাড়ি রাডারে ধরা পড়বে। হা আপনারা হয়তো বুঝতে পেরেছেন ইঞ্জিনিয়ারদের সব সময় বিমানের রাডার ক্রস সেকশন কমানোর চেষ্টা করতে হয়। কারন যত কম হবে ততই কঠিন হবে সেই বিমান ডিটেক্ট করা আর সেই বিমান সহজে রাডার ফাঁকি দিতে পারবে, রাডারে তাকে ধরা কঠিন হবে ।আপনাদের কয়েকটা উদারন দিই তাহলে ব্যাপারটা সহজে বুঝতে পারবেন।

 

সুইডেনের JAS-39 Gripen এর রাডার ক্রস সেকশন হল ০.৫(দশমিক পাঁচ) বর্গমিটার,
ফ্রান্সের রাফালের হলো ০.২ (দশমিক দুই)বর্গ মিটার।
মার্কিন F 22 এর কত জানেন??
মার্কিন F-22 Raptor এবং B-2 এর রাডার ক্রস সেকশন হলো . ০০০১(দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য এক) বর্গমিটার ।
এখন বুঝতে পেরেছেন তো আমেরিকা কেন এই দুই বিমান নিয়ে গর্ব করে। এটা গর্বের ব্যাপার বটে। এতো কম রাডার ক্রস সেকশন মানে হলো একে ডিটেক্ট করা অত্যন্ত কঠিন। রাডার স্কিনে এদের আকার অতি ক্ষুদ্র হবে। ক্ষুদ্র মানেই যে একে ডিটেক্ট করা কঠিন তা কিছুক্ষণ আগে আপনাদের বললাম। আশা করি এই পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।

কিভাবে স্টিলথ প্রযুক্তি কাজ করে??

মনে করুন আপনার অবস্থান হতে দশ মিটার দূরে একটি প্রজাপতি আছে। আপনি প্রজাপতিকে দেখতে পাবে খুব সহজে এবং এর উপর নজর রাখতে পারবেন অনেকক্ষণ। কিন্তু এবার সে প্রজাপতির জায়গায় একটি মাছি রাখলে সেটা দেখা প্রায় অসম্ভব। কারন প্রজাপতির তুলনায় অনেক ছোট।এবার সেই মাছিকে ১ মিটার দূরত্বে আপনার অবস্থান হতে নিয়ে আসলে আপনি হয়তো মাছিটিকে দেখতে পারবেন কিন্তু তার উপর নজর রাখতে পারবেন না। একটু পর পর সে আপনার দৃষ্টির বাহিরে চলে যাবে। তাকে মারার জন্য আপনাকে বলে হলে সেটা আরোও কঠিন কাজ হবে।কারন আপনি তো তার উপর নজর রাখতে পারছেন না। এই সময় কানের সাহায্য নিতে হবে। অর্থাৎ মাছিটির ভনভন শব্দ শুনে এর অবস্থান নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন আর সেখানে আঘাত করার চেষ্টা করবেন যাতে মাছিটি মারা যায়।তবে বাস্তবে দেখা যায় সেটা সম্ভব হয় না। কারন মাছিটি তার আগেই অন্য জায়গায় চলে যাবে।
আর ঠিক এভাবে স্টিলথ বিমান কাজ করে।দশমিটার দূরত্বে যে জায়গায় প্রজাপতি ছিলো ঠিক সেই জায়গায় একটি সাধারন বিমান আর মাছিটির জায়গায় একটি স্টিলথ বিমানের কথা চিন্তা করুন। প্রজাপতিকে আপনি যেভাবে ডিটেক্ট করেছেন ঠিক সেভাবে রাডার সাধারন বিমানগুলোকে ডিটেক্ট করতে পারবে। এবার মাছিটির কথা চিন্তা করুন। আপনি কিন্তু তাকে দেখতে পান নি। মনে আছে তো। ঠিক স্টিলথ বিমানও সাধারন বিমানের মত রাডার এতো দূর থেকে ডিটেক্ট করতে পারবে না।
এবার আপনার অবস্থান হতে যখন ১ মিটার দূরত্বে মাছিটি ছিলো আপনাকে তাকে দেখতে পেরেছিলেন কিন্তু তার উপর নজর রাখতে পারেন নি। ঠিক তেমনি আধূনিক রাডারের স্টিলথ বিমানের অনেকের কাছে আসলে ডিটেক্ট করতে পারবে কিন্তু ট্র্যাক করতে পারবে না। আপনার যেই রকম মাছিটির উপর নজর রাখতে অসুবিধা হচ্ছিল ঠিক রাডারের তেমনি কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যাবে ডিটেক্ট করা।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কি ভাবে একটি বিমানকে স্টিলথ করা হয়?
দুইভাবে একটি বিমানকে স্টিলথ করা হয়।
  • বিমানের আকৃতি
  •  রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থ

বিমানের আকৃতিঃ

আপনারা যদি স্টিলথ বিমান যেমন এফ ২২ বা এফ ১১৭ ভাল করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন বিমানগুলো কিছুটা কোনাকৃতির। এই কোনাকৃতির কারন হচ্ছে রেডিও ওয়েব যাতে ধাক্কা খেয়ে অন্যদিকে চলে যায়। ফলে রাডারের দিকে রেডিও ওয়েব যেতে পারে না। ছবিটির দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন।তাছাড়া বিমানের ভারটিকেল লেজ বাঁকা করে তৈরি করা হয়,এয়ার ইনটেক বিশেষভাবে তৈরি করতে হয়।

রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থঃ

বিমানকে স্টিলথ করার আরেকটি উপায় হচ্ছে রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থ দ্বারা বিমানকে রং করা। এই পদার্থ রাডার হতে নির্গত রেডিও ওয়েব শোষন করে। যার ফলে নির্গত রস্নি প্রতিফলিত হয়ে ওয়েব রাডারে ফেরত যেতে পারে না। এই পদার্থটি বিশেষ কিছু পদার্থের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। যা বেশ গোপনীয়।

অসুবিধাঃ

  • স্টিলথ বিমানে বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। প্রথমতো স্টিলথ প্রযুক্তি কতটুকু কার্যকরি তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে।
  •  আধুনিক যুগের বেশ কিছু অত্যাধুনিক রাডার আবিষ্কৃত হয়েছে যা স্টিলথ বিমান ট্র্যাক করতে সক্ষম। যেমনঃ রাশিয়ান High-power VHF radars ,চাইনিজ JY-27A 3-D long-range surveillance/guidance radar,  Type 517M VHF search radar ইত্যাদি।
  •  স্টিলথ বিমানের ইনফ্রারেড সিগনেচার দিয়ে বিমান ডিটেক্ট করা যায়।
  •  স্টিলথ বিমান যখন বোমা বা মিসাইল নিক্ষেপ করার জন্য ওয়েপন বে (নিক্ষেপণের জন্য ঢাকনা) খুলে তখন বিমানের রাডার ক্রস সেকশন বেড়ে যায়। ফলে বিমানকে সহজে ট্র্যাক করা সম্বব হয়। তখন প্রয়োজনীয় ডাটা বিশ্লেষণ করে লেজার গাইডেড বা সেন্সর যুক্ত সারফেস টু এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করে সহজে ভূপাতিত করা সম্বব।
  •  সবচেয়ে বড় কথা, হলো স্টিলথ বিমানের রক্ষনাবেক্ষন খরচ অনেক বেশি এবং এটা চালাতে অনেক জ্বালানীর প্রয়োজন হয়। যার ফলে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের পক্ষের স্টিলথ বিমান রাখা সম্ভব নয়।
  •  স্টিলথ বিমানের রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থ নিয়মিতভাবে নতুন করে দিতে হয়। এই কাজটি করতে তিন চারদিন লাগে। যা জটিল ও সময় সাপেক্ষ। যার ফলে বিমানকে সব সময় রেডি করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থ খুবই বিষাক্ত পদার্থ। সাধারনত একটি স্টিলথ বিমান অপারেশনের জন্য তৈরি হতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগে।
স্টিলথ বিমানের এতো অসুবিধা থাকলেও সারা বিশ্বে এখনো এর চাহিদা অনেক।
সবশেষে একটা কথা বলে শেষ করবো—

“Stealth doesn’t mean invisible rather it means less visible”.

 ধন্যবাদ সবাইকে।

তথ্যসুত্রঃ

  •  উইকিপিডিয়া;
  • ইন্টারন্যাশনাল মিলেটারী জার্নাল।
  • Straus Military Reform Project
  • How does stealth technology work?
Facebook Comments

1 Comment

স্বাধীনতা ক্লাস কর্ভেট - বাংলাদেশ নৌবাহিনী - Frontline Bangladesh · May 2, 2018 at 1:22 pm

[…] ফলে শত্রু বুঝতে পারে না। আরো পড়ুন :- স্টেলথ প্রযুক্তি কি ? . এটি কর্ভেট হলেও এর ফায়ারপাওয়ার ( […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: