আপনি জানেন কি?
২০০৬ সালের ১৮ মার্চ একটি মার্কিন Ticonderoga ক্লাস ব্যাটলক্রুজারে এট্যাক দিয়েছিল ২৭ জন অকুতোভয় সোমালি জলদস্যু…!
বাকিটা এখন ইতিহাস!!

প্রথমেই অন্য কাহিনীতে যাই।২০১০ সালে বাণিজ্যিক জাহাজ মনে করে USS Ashland (LSD 48) নামের একটি মার্কিন এমফিবিয়াস ওয়ারফেয়ার শিপে এট্যাক করেছিল আনুমানিক ৪/৫ জন জলদস্যু।শিপের ২৫ এমএম মেশিনগানের জাস্ট দুই রাউন্ড ফায়ারে তাদের ইন্জিন চালিত নৌকা একদম শেষ!!
১জন জলদস্যু মারা যায় এবং দুজন আটক করা হয়(বাকিরা নিখোঁজ)।আটক দুজন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেলে বন্দি।
আপনি হয়তো জলদস্যুদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করবেন এই বলে
“দূর থেকে ল্যান্ডিং ক্রাফট(উপরে প্লেইন ডক এবং ক্রেন) দেখা যাচ্ছে বিধায় ভুল করে বানিজ্যিক জাহাজ মনে করে নেভি শিপে এট্যাক দিয়েছিলেন জলদস্যু কমান্ডার।
(তিনি ঘুমে থাকেন তাই হিসাব থাকে না)

কিন্তু ২০০৬ সালে কোন দেশে উৎপাদিত গাঁজা খেয়ে মার্কিন ব্যাটলক্রুজারে এট্যাক দিয়েছিল জলদস্যুরা?
সোমালি জলদস্যুরা গাঁজা খায় কিনা জানি না তবে “চিকোরি” নামের একপ্রকার গাছের পাতা চিবিয়ে খায় যার কারণে ঘুম আসে না!!
মূলত দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য এই পাতা খায় ওরা।Captain Philips মুভিটা দেখলে বুঝতে পারবেন কিছুটা।এটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে বানানো মুভি যেখানে ইউএস নেভি ও নেভি সীল বাহিনী জিম্মি হওয়া কন্টেইনার ক্যাপ্টেন ফিলিপসকে উদ্ধার করে।

ডাউনলোড লিংক: http://moviescounter.biz/2013-movies/captain-phillips-2013-movie-free-download-720p-bluray-mc8/

ক্রমাগত যাত্রীবাহী(বিলাসবহুল ক্রুজ লাইনার) ও বাণিজ্যিক জাহাজে(পণ্যবাহী কন্টেইনার শিপ) জলদস্যু এট্যাক হচ্ছিল তখন।শিপ দখল করে সোমালিয়ায় ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হত।এটা ঠেকানোর জন্য বস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি দেশ টাস্কফোর্স ১৫০ নামের একটি নৌবাহিনী গঠন করে যারা সোমালি উপকূল দিয়ে চলা বিশ্বের যেকোনো দেশের মার্চেন্ট শিপকে চাইলেই নিরাপত্তা দিবে।মানে ঐ পথটুকু এসকর্ট করে পার করে দিবে।

বর্তমানে এমন নিরাপত্তা দেয়া হয় না বরং বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সি যেখানে বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশের প্রাক্তন সোলজার/কমান্ডো জাহাজে এসল্ট রাইফেল,স্নাইপার রাইফেল ও ক্ষেত্রবিশেষে মেশিনগান নিয়ে জাহাজকে জলদস্যু আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে।

প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড

জলদস্যু মারতে স্নাইপারের বিকল্প নেই

ভিডিওতে দেখুন প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসের সাথে জলদস্যুদের গুলি বিনিময়: https://m.youtube.com/watch?v=tpNpDM-enLw

২০০৬ সালের ১৮ মার্চ মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ফ্লিটের ব্যাকবোন বলে খ্যাত আর্লে বুর্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার(যাকে রাশানরাও সমীহ করে) ইউএসএস গোনাজালেস দুটো গ্যাসোলিন চালিত ট্রলার/বোটকে রাডারে ডিটেক্ট করে।গোনজালেস যে মার্কিন নেভি শিপ সেটা হয়তো বুঝতে পেরেছিল জলদস্যুরা।তাই সেখানে এট্যাক না করে তার ৪৫ কিঃমিঃ পিছনের জাহাজে এট্যাক করে জলদস্যুরা।
(মনে করেছে ইউএসএস গোনজালেস মনে হয় পিছনের জাহাজকে এসকর্ট করছে)

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস।
ঐ জাহাজটি ছিল মার্কিন নেভির Ticonderoga ক্লাস ব্যাটলক্রুজার USS Cape St. George (CG-71) যার ওয়েপন পাওয়ারের কারণে আপনি তাকে আর্লে বুর্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ারের বাপ ও বলতে পারেন!!
(স্বাভাবিকভাবেই ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে ক্রুজারের শক্তি বেশি)

অর্থাৎ সন্ধ্যার ঠিক একটু আগে আধো অন্ধকারে শিপের সাইজ দেখেই ছেলেকে বাদ দিয়ে বাপকে এট্যাক দিয়েছিল বেচারা জলদস্যু ক্যাপ্টেন!
(মদ্যপ ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো!)
তবে ডেস্ট্রয়ার থেকে ঐ বোট দুটো জলদস্যুদের হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা রেডিও মারফত জানার পর ব্যাটলক্রুজার থেকে ফায়ার ওপেন করার আগে দুটো ইনফ্লোইটেবল জোডিয়াক পাঠানো হয় ব্যাপারটা শিউর হতে।কেননা জেলেদের বোট হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।
মার্কিন জোডিয়াককে গুলি ছুড়তেই বোটের মানুষগুলো কারা সেটা পরিস্কার হয়ে গেছে ক্রুজারের ক্যাপ্টেনের কাছে।জোডিয়াকে গুলি করায়(কেউ হতাহত হয়নি) এমনিতে ব্যাটলক্রুজারের ক্যাপ্টেনের চান্দি গরম ছিল তার উপর বেক্কল জলদস্যুরা ক্রুজারে আরপিজি মেরে বসলো!!
হাজার টনি জাহাজের আর্মারের কাছে আরপিজি তো জাস্ট একটি ফুলের টোকা।তেমন কোনো ড্যামেজ না হলেও আক্রমণের স্বীকার হওয়ায় মুহূর্তেই ক্রুজারের সব ওয়েপন(এন্টিশিপ মিসাইলসহ!) অনলাইনে চলে আসে।ক্যাপ্টেন ক্লোজ ইন ওয়েপন সিস্টেম দিয়ে একটি সুইপিং ক্লিনিং মিশন করতে চেয়েছিলেন পরে ৫০ ক্যালিবারের মেশিনগান দিয়ে ফায়ার করার আদেশ দেন।
কারণ কিউসে একবার ফায়ার করলে জলদস্যু বোটের চিন্হ ও খুঁজে পাওয়া যাবে না)
মেশিনগানের গুলিতে বোটের দফারফা হয়ে যায় এবং নিহত ১,আহত ৫জন সহ ১২জনকে উদ্ধার ও গ্রেফতার করে ব্যাটলক্রুজার ইউএসএস ক্যাপ সেন্ট জর্জ।

অপর বোট লেজ তুলে পলায়ন করে।কিন্তু বাপের উপর হামলার প্রতিশোধ নিতে পথ আগলে দাঁড়ায় ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস গোনজালেস
সেও ৫০ ক্যালিবারের মেশিনগান থেকে ফায়ার করে।তবে বাপের খানিকটা দয়ামায়া থাকলেও ছেলের তা ছিল না।জলদস্যুদের বোটের ফুয়েল ট্যাংকে হাই ক্যালিবারের টেসার বুলেটের হিট করার কারণে বিস্ফোরণে বোট স্রেফ উড়ে যায়।২য় বোট থেকে কেউ বাঁচে নি।সংক্ষেপে এটাই হলো জলদস্যুদের অতিরিক্ত চিকোরি খাওয়ার ফলাফল।

আরো কিছু ঘটনা:
➡২০০৭ সালে ইউএসএস কার্টার হল নামের একটি এমফিবিয়াস ল্যান্ডিং শিপ ডেনমার্ক এর একটি জাহাজকে এসকর্ট করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় এবং জলদস্যুরা জাহাজটি ধরে নিয়ে যায়।৮৩ দিন আলোচনার পর মুক্তিপণ ৭.২৩ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১.৫ মিলিয়ন দিয়ে জাহাজটি ছাড়িয়ে আনে জাহাজটির মালিক কোম্পানি।
(ল্যান্ডিং শিপে মেরিন সোলজারসহ স্পেশাল ফোর্স থাকার কথা কিন্তু তারা ঘুমে ছিল মেবি)
➡২০০৭ সালে এসকর্ট এর দায়িত্বে থাকা আর্লে বুর্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস পোর্টার সাহেব ঘুমে থাকায় ও হিসাব না থাকায়
একটি জাপানি অয়েল ট্যাংকার দখল করে জলদস্যুরা।পরে ডেস্ট্রয়ার থেকে ওয়ার্নিং শট ফায়ার করা হলেও ঘাড়ত্যাড়া জলদস্যু জাহাজ ত্যাগ করে নি বরং ক্রুদের জিম্মি করে জাহাজ সোমালিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল।পরে মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজকে ছুটানো হয়েছিল।
➡২০০৬ সালে একটি এমভি সাফিনা নামের ভারতীয় সুন্দরীকে দখল করে নেয় বখাটে জলদস্যুরা।খবর পেয়ে বাংলা সিনেমার নায়ক পাতলা খান রূপে আবির্ভুত হয় আর্লে বুর্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস উইস্টন এস চার্চিলের।তার বিশাল সাইজের সাদা বন্দুক(৭৬ এমএম নেভাল গান) এর থেকে দুটো ওয়ার্নিং শট ফায়ার করা হয় এবং এতেই বখাটে জলদস্যুরা ভয় পেয়েও বাপ বাপ করে আত্মসমর্পণ করে।

অতঃপর জাহাজ দুটি সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: