লেখাটা তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে সামরিক বাজেট, এরপর অবকাঠামো আর সব শেষে অস্ত্র ক্রয়।

সামরিক বাজেট:

গণতন্ত্র ফিরে আসার পর প্রথম বাজেট ১৯৯১ সালের। এই সালে সামরিক খাতে বরাদ্ধ ছিল ১৩৯৬ কোটি টাকা। ১৯৯৫ সালে সেই বাজেট গিয়ে দাঁড়ায় ২৪৯৭ কোটি টাকায়। এটা বেগম জিয়ার প্রথম মেয়াদের অবস্থা। এখানে দেখা যাচ্ছে ৫ বছরে সামরিক বাজেট বৃদ্ধি পায় প্রায় ১১০১ কোটি টাকা।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া

দ্বিতীয় মেয়াদে বেগম জিয়া ক্ষমতায় আসেন ২০০১ সালের শেষ দিকে। আর প্রথম বাজেট আসে ২০০২ সালে। ২০০১ সালে সামরিক বাজেট ছিল প্রায় ৩৯৩৭ কোটি টাকা। ২০০২ সালের প্রথম বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৩৯৪৬ কোটি টাকা। আগের বাজেটের থেকে মাত্র ৯ কোটি টাকা বেশি বাজেট দিলেও পরের বছর এই বরাদ্ধ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০০৬ সালের বাজেটে এই অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় ৫৭১৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ দ্বিতীয় মেয়াদে বিএনপি এর আমলে ৫ বছরে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৭৭৩ কোটি টাকা।

অবকাঠামো উন্নয়ন :-

এবার আসি অবকাঠামোগত উন্নয়নে। অনেকেই হয়ত এই বিষয়টাকে গ্রুরুত্ব দিবেন না। কিন্তু অস্ত্র যতটা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততটা গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি। তবে এই সময়ের ভেতর এক্ষেত্রে উল্লেখ করবার মত খুব বেশি উপলক্ষ নেই। ১৯৯২ সালে ১ম প্যারা কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন এর যাত্রা সিলেটে শুরু হয়

বাংলাদেশের প্রথম তৈরি রিভারাইন পাবনা ক্লাস পেট্রোল বোট তৈরি করে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ১৯৭২-১৯৭৭ সালের ভেতর। ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয় ২০০২ সালে।

তবে ২০০৪-০৫ সালের দিকে বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব অ্যাসল্ট রাইফেল তৈরির কারখানা করার পরিকল্পন করা হয়। উক্ত সময়ে সাবমেরিন কেনার ও প্লান করা হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় চাপ থাকায় সেই পরিকল্পন আর এগোয়নি। এছাড়া আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিএনপি আমলেই গঠিত হয়

সমরাস্ত্র ক্রয় :-

এই অংশটিকে ৩ টি ভাগে সাজানো হয়েছে। সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উন্নয়ন :

বেগম জিয়ার আমলে বাংলাদেশ আর্মির যথেষ্ট উন্নয়ন করা হয়েছে। তার আমলে ১৯৯১-৯২ সালে ৫০ টা HN-5A Manpad সংগ্রহ করা হয়। ১৯৯২ সালে ৪২ টা M-30 122 mm Towed Gun কেনা হয়। ১৯৯৫ স্লে টাইপ -৫৯-১ ১৩০ মিমি আর্টিলারি ১৮ টা সংগ্রহ কর হয়।

১৯৯১ সালে চীন থেকে ৫০ টা টাইপ-৬৯ ট্যাংক সংগ্রহ করা হয়। ১৯৯৩ সালে ৫ টা ARV কেনা হয়।

টাইপ ৬৯ মেইন ব্যাটল ট্যাংক

দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৩ সালে ২০ টা টাইপ-৮৩ ১২২ মিমি টোওড আর্টিলারি কেনা হয়। এর সাথে ২৫০ টার মত কিউডব্লিউ-২ ম্যানপ্যাড কেনা হয়। এছাড়াও ২০০৫ এর দিকে ১৪ টা ডি-৩০ আর্টিলারি গানের অর্ডার করা হয়।এছাড়া পাকিস্তান থেকে বখতার শিখান এন্টি ট্যাংক মিসাইল সিস্টেম কেনা হয়।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়ন :-

বেগম জিয়ার আমলে বাংলাদেশ নেভির জন্য ১৯৯১ সালে ১০ টা সিল্কওয়ার্ম-১ (SY-1) এন্টিশীপ মিসাইল কেনা হয়। এর পরের বছর ১৯৯২ সালে আরেকটু উন্নত ভার্সন SY-1A এর ৫ টা মিসাইল সংগ্রহ করা হয়।

SY-1 Anti Ship Missile

আর জাহাজের ভেতর এই ১০ বছরে কোন ফ্রিগেট বা কর্ভেটের মত বড় জাহাজ যুক্ত না হলেও, ১৯৯২ সালে ১টা টাইপ-০২১ ফাস্ট এটাক ক্রাফট (FAC) এবং ১ টা টাইপ-০২৪ FAC সংগ্রহ করা হয়। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ নেভির জন্য ১টি মাইন সুইপার সংগ্রহ করা হয়।

এছাড়া ২০০৫ এর দিকে চীন থেকে ১০ টা C-802 এন্টিশীপ মিসাইল সংগ্রহ করা হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ নেভিকে বেশ বড় ধাক্কা খেতে হয় যখন ফ্লাগশীপ ফ্রিগেট বিএনএস বঙ্গবন্ধু কে ২০০১ সালে কমিশন করার মাত্র ৭ মাসের মাথায় ডিকমিশন করে রাখা হয়। এবং দ্বিতীয় উলসান ক্লাস ফ্রিগেটের অর্ডার বাতিল করা হয়। উপকূলীয় জলসীমা রক্ষার জন্য কিছু ছোট FAC কেনা হলেও বড় কোন জাহাজ এই সময়ে বাংলাদেশ নেভি পায়নি।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী :-

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এর জন্য বেগম জিয়ার দুই মেয়াদে প্রায় ১০ টা পিটি-৬ বেসিক ট্রেইনার বিমান যুক্ত হয়। এছাড়াও এল-৪১ ট্রেইনার জেট যুক্ত হয়। আর ফাইটার হিসাবে ১৬ টা এফ-৭ বিজি যুক্ত হয়।

এছাড়া ১০০ টি এর মত পিএল-৭ SRAAM কেনা হয় ২০০৫ সালে। বিমানবাহিনীর সব থেকে দামি এয়ারক্রাফট ৮ টি মিগ-২৯ কে গ্রাউন্ডেড করে রাখা হয়। এবং বাকি ৮ টি মিগ-২৯ এর অর্ডার বাতিল করা হয়। এর পেছনে কারন হিসাবে চীনের হাত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। কারন মিগ-২৯ গুলা গ্রাউন্ডেড করবার সময় পকিস্তানি পত্রিকা দ্যা ডন, এবং ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকার সূত্র ধরে জানা যায়, বেগম জিয়া চীন থেকে সস্তায় বিমান না কিনে ১৪ মিলিয়ন ডলারে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনার কারণে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তিতে দূর্নীতির মামলা আনা হয়।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর দুই মেয়াদে সামরিক উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র এটিই। বাকী সরকার গুলোর সামরিক উন্নয়ন ক্রমান্বয়ে লিখা হবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: