আপনি কি জানতেন! ইসরাইলের সবথেকে বেশি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার রেকর্ডটি একজন বাংলাদেশী পাইলটের।
হ্যা যদি না শুনে থাকেন তবে ঠিকই শুনেছেন। আজ অব্দি ইসরাইলের সবথেকে বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার রেকর্ড বাংলাদেশী পাইলট “গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আযম কাশেম” স্যার এর। শুধু তাইনয় তিনি একমাত্র ফাইটার পাইলট জিনি ৪টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের বিমানবাহিনী তে সার্ভিসে ছিলেন একই সাথে জঙ্গিবিমান উড়িয়েছেন,, আযম স্যার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ২২ জন জীবিত পাইলট বা “Liveing Eagles” এর একজন। ২০০১ সালে US Air Force তাকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করে।

১৯৬৫ পাক ভারত যুদ্ধঃ –
১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাক-ভারত যুদ্ধে F-86 Sabers নিয়ে ১৭ নং পিএএফ স্কোয়াড্রন সারগোধা থেকে অংশ নেন।

                               F-86 Sabre

সেই সময় একদিন সফল গ্রাউন্ড এট্যাক শেষে ফেরার পথে ভারতীয় বিমানবাহিনীর Folland Gnat যুদ্ধবিমান ইন্টারসেপ্ট করে,,, এসময়কার ডগফাইটে সাইফুল আযম স্যার একটি Folland Gnat ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় পাকিস্তান তাকে সে দেশের তৃতীয় সামরিক সম্মান “সিতারা-ই-জুরাত এ ভূষিত করে, এবং তার বীরত্ব এর জন্য বহুল প্রশংসিত হয়।

১৯৬৭ আরব ইসরাইল যুদ্ধঃ –
১৯৬৬ সালের শেষদিকে সাইফুল আজম স্যার Royal Jordanian Air Force এ “এডভাইসার” হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং ভলেন্টিয়ার হিসেবে তিনি ১নং স্কোয়াড্রন এর সাথে Hawker Hunter যুদ্ধবিমান অপারেট করতেন।

                       Hawker Hunter

৫ জুন ১৯৬৭ তে RJAF Mafraq নামক একটি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে ইসরাইলী বিমানবাহিনী সেখানে এট্যাক করে এবং অধিকাংশ RJAF এয়ারক্রাফট ধ্বংস হয়। সাইফুল আজম সেই সময় তার Hawker Hunter বিমান নিয়ে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং ইসরাইলী এয়ারক্রাফট গুলোর সাথে ডগফাইটে ১টি ইসরাইলী Mirage-III শুটডাউন করে এবং ১টি Vautour Bomber কে শুট করায় সেটি ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে ইসরাইলী সীমান্তের দিকে উড়াল দেয়, পড়ে সেটিও বিধ্বস্ত হয়। সাইফুল আযম স্যার এর এই অসাধারণ কৌশল ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে জর্দান সরকার ”Husame Isteqlal ” বা স্বাধিনতা পদকে ভূষিত করে।

                              Mirage lll

ঠিক তার ২ দিনপর ৭ জুন ইরাকের পশ্চিমাংশে ইরাকি এয়ারবেস H-3 তে অবস্থান করছিলেন সাইফুল আযম এবং ইরাকী Hawker Hunter অপারেট করছিলেন। ইসরাইলী বিমানবাহিনী দুর্ভাগ্য নিয়ে H-3 তে এট্যাক করে বসে এমতাবস্থায় সাইফুল আজম তার হান্টার নিয়ে আকাশে উঠে, এর কিছুক্ষণের মাঝেই তার উইংম্যান কে ইসরাইলী Mirage-III এর পাইলট ড্রোর শুটডাউন করে কিন্তু সাইফুল আযম তার Hawker Hunter নিয়ে ড্রোর এর Mirage-III এর ডগফাইটে জরিয়ে পরে, আর আযম স্যার Mirage-III কে শুটডাউন করে। এরপর সাইফুল আযম স্যার আরো একটি ইসরাইলী Vautour Bomber কে শুটডাউন করে এবং বাকি ইসরাইলী এয়ারক্রাফট গুলোকে ইরাকের আকাশ থেকে পালাতে বাধ্য করে। সঠিক সময় ড্রোর ও গোলান নামের দুই পাইলট ই ইজেক্ট করায় প্রাণে বাচে তবে তাদের যুদ্ধবন্দী করা হয়। উল্লেখ্য Hawker Hunter এর তুলনায় Mirage-III অনেক বেশি সুপেরিওর ও আধুনিক ছিলো সেইসময়, কিন্তু সাইফুল আযম স্যার এর কৌশল ও দক্ষতার কাছে ইসরাইলী বিমান বাহিনী মার খায় এবং এখন অব্দি সাইফুল স্যার এর রেকর্ড টি অক্ষুণ্ণ। ইরাক সরকার সাইফুল আযম এর বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য তাকে ”Noth-es-Shuja” পদকে ভূষিত করে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: