রিভার ক্লাস পেট্রোল বোট হচ্ছে ব্রিটেনের রয়েল নেভির একটি অফশোর পেট্রোল ভেসেল(ওপিভি)।এই জাহাজগুলো মূলত রয়েল নেভির ৭টি আইসল্যান্ড ক্লাস এবং দুটি ক্যাসল ক্লাস ওপিভিকে রিপ্লেস করার জন্য বানানো হয়েছে।মোট ৯টি জাহাজ দুটি ব্যাচে বানানোর প্ল্যান করা হয়েছিল।প্রথম ব্যাচে ৪টি এবং দ্বিতীয় ব্যাচে ৫টি।তবে দুটি ব্যাচের ওপিভিগুলোর কনফিগারেশনে কিছুটা পার্থক্য আছে।

৯টি ওপিভির মধ্যে দুটি সম্প্রতি রয়েল নেভি হতে ডিকমিশন করা হয়েছে যা বাংলাদেশ নেভির জন্য কেনা হবে বলে শোনা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য এই রিভার ক্লাসের ৩টি ওপিভি ব্রাজিলিয়ান নেভি আমাজন ক্লাস করভেট হিসেবে এবং ২টি রয়েল থাই নেভি ক্রাবি ক্লাস পেট্রোল ভেসেল হিসেবে ব্যবহার করে।ব্রাজিল এবং থাইল্যান্ড এর জাহাজগুলো তাদের প্রয়োজনমত কাস্টমাইজ করা বিধায় এগুলো রিভার ক্লাসের সাবক্লাস হিসেবে পরিচিত।

ব্রাজিলের মডিফাই করা রিভার ক্লাস ওপিভি যা এমাজন ক্লাস করভেট নামে পরিচিত

রয়েল থাই নেভি

মোট ৯টি ওপিভি ব্রিটিশ নেভির জন্য।ব্রাজিলিয়ান নেভির ৩টিই সার্ভিসে আছে তবে থাইল্যান্ড নেভির ১টি সার্ভিসে ও ১টি কনস্ট্রাকশনে আছে।ব্রিটিশ নেভির ভাগে থাকা ৯টির ২টি সম্প্রতি ডিকমিশন করা হয়েছে(প্যানেট নাম্বার ২৮১ ও ২৮২),২টি কনস্ট্রাকশনে আছে,২টির টেস্ট ট্রায়ালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।অর্থাৎ এই মুহূর্তে রিভার ক্লাস ওপিভির বাকি ৩টি জাহাজ ব্রিটিশ নেভিতে এক্টিভ সার্ভিসে আছে।

কিন্তু ২০০৩ সালে কমিশনড হওয়া ওপিভিগুলো ২০১৭-১৮ এর মধ্যে ব্রিটিশ নেভি কেন ডিকমিশন করলো?এধরনের জাহাজ গড়ে ৩০বছর সার্ভিস দিতে সক্ষম।

কারণ ব্যাচ ১ এর জাহাজগুলো(৪টি) ব্রিটিশ নেভির চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছিল না।তাই খানিকটা আপডেট করে ব্যাচ ২ তে বাকি ৫টি জাহাজ বানানো হয়।এর মধ্যে ব্যাচ-১ এই শেষ জাহাজটি(প্যানেট নাম্বার ২৫৭) টি আপগ্রেডেড ব্যাচ-১ নামে পরিচিত।এটি ২০০৭ এ সার্ভিসে আসে তবে ব্যাচ-১ এর বাকিগুলো ২০০৩ এ সার্ভিসে আসে।সম্ভবত ২০০৩ এ সার্ভিসে আসা ৩টি ওপিভি ইই ডিকমিশন করা হবে।যদিও প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ৪টি রিভারক্লাস ওপিভি কেনার জন্য আবেদন করেছে।

এখন ব্যাচ-১ এবং ২ তে কি কি পার্থক্য আছে সেটা সহ রিভার ক্লাস ওপিভির কনফিগারেশন তুলে ধরবো।
➡ডিসপ্লেসমেন্ট
ব্যাচ-১: ১৭০০ টন
ব্যাচ-২: ২,০০০ টন

➡দৈর্ঘ্য
ব্যাচ-১: ৭৯.৫ মিটার
ব্যাচ-২: ৯০.৫ মিটার

➡বিম
দুটি ব্যাচেই ১৩.৫মিটার

➡ইন্জিন:
দুটি ব্যাচের জাহাজেই ১৪,৭০০ কিলোওয়াট এর দুটি করে MAN 16V28(ব্যাচ-১) ও MAN 33D(ব্যাচ-২) ডিজেল ইন্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

➡স্পিড
ব্যাচ-১: ২০ নট (৩৭ কিঃমিঃ/ঘন্টা)
ব্যাচ-২: ২৫ নট (৪৬ কিঃমিঃ/ঘন্টা)

➡অপারেশনাল রেঞ্জ:
দুটি ব্যাচেই ৫৫০০ নটিক্যাল মাইল (১০,২০০ কিঃমিঃ)

➡এনডিউরেন্স:
ব্যাচ-১: ২১ দিন
ব্যাচ-২: ৩৫ দিন

➡বোট/ল্যান্ডিং ক্রাফট:
সর্বোচ্চ দুটো রিগিড হাল ইনফ্লোইটবল জোডিয়াক বহন করতে পারে।

➡ক্রু:
ব্যাচ-১: ১৮-২০
ব্যাচ-২: ২৬-৫০

➡কমপ্লিমেন্ট:
ব্যাচ-১: ৩০
ব্যাচ-২: ৫৮

➡অস্ত্র:
ব্যাচ-১:
১ টি Oerlikon ২০এমএম ক্যানন
২টি জেনারেল পারপোজ মেশিনগান
ব্যাচ-২:
১টি ৩০এমএম ক্যানন।
২টি এম-১৩৪ মিনিগান
২টি জেনারেল পারপোজ মেশিনগান

➡এভিয়েশন ফ্যাসিলিটি:
ব্যাচ-২ একটি AW101 হেলিকপ্টার বহন করতে পারবে।ব্যাচ-১ এর হেলিডেক মূলত লাইট ইউটিলিটি হেলি অপারেট ক্যাপাবল।তবে তার বদলে একটি ২৫টনের মাল্টিপারপাস ক্রেন ব্যবহার করা হয়।
(ব্যাচ-২ তে ১৬টন)

অফশোর পেট্রোল ভেসেলের মূলকাজ সমুদ্রে নিজেদের নিজেদের অর্থনৈতিক/খনিজ/মৎস সম্পদ ইত্যাদি রেগুলার পেট্রোলিং এর মাধ্যমে নিরাপদ রাখা।এজন্য ওপিভি শ্রেণীর জাহাজের অস্ত্রশস্ত্র খুব একটা বেশি নেই।আসলে এই শ্রেণীর জাহাজে এর চেয়ে বেশি অস্ত্রের দরকার নেই।রিভার ক্লাস ওপিভি এসব পেট্রোলিং এর কাজ বেশ ভালোভাবেই করতে সক্ষম।এছাড়া চোরাচালান, মাদক বা মানব পাচার প্রতিরোধ,ফায়ার ফাইটিং এন্ড রেসকিউ, ডিজাস্টার রিলিফ,এন্টি পলুশন রোলে এটি বেশ কার্যকর।

ব্রিটিশ নেভি মূলত প্রথমে ফিশারী প্রটেকশন স্কোয়াড্রন ও এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোন পেট্রোলিং এর জন্য রিভার ক্লাস বানানোর প্ল্যান করে।পরবর্তীতে তাতে ট্রুপস ট্রান্সপোর্ট(১১০জন) করার ফিচার যোগ করে ব্যাচ-২ কে সার্ভিসে আনে।এছাড়া বিশাল হেলিডেক থাকায় এটি হেলিকপ্টার বেজড আরো কিছু সুবিধা নেভিকে দিতে সক্ষম।একারণে আগের শিপগুলোকে অকালে ডিকমিশন করছে।ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড নিজেদের চাহিদামত আপগ্রেড করে রিভারক্লাস ওপিভিকে ব্যবহার করছে।আমাদের জন্য কেনা হলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য আপগ্রেড এর দরকার নেই।এটি একটানা ১০,২০০ কিঃমিঃ এলাকা টহল দিতে সক্ষম যা আমাদের নেভির জন্য সবচেয়ে দরকারী।এছাড়া অস্ত্র ব্যবস্থাও খানিকটা আপগ্রেড করা সম্ভব।উল্লেখ্য একই জিনিস বাংলাদেশ এর পাশাপাশি ফিলিপাইন এবং পাকিস্তান ও কেনার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।সুতরাং একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।বাংলাদেশ বৃটিশ নেভির মতোই রিভার ক্লাস দিয়ে আইসল্যান্ড ক্লাসকে রিপ্লেস করবে।
#এম_আর_নাইন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: