মানুষ পৃথিবিতে বসবাসের পর থেকেই বিভিন্ন কারনে তাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ ছড়িয়ে পড়ে । যুদ্ধের অনেক কারন বিদ্যমান থাকে এবং সময়ের সাথে কারনগুলো পরিবর্তন হয় বা নতুন নতুন কারন যোগ হয়।তাহলে আসুন আমরা অতীত এবং বর্তমানের যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কিছু আলোচনা করি। প্রথমে আমরা অতীতের যুদ্ধের বিষয় নিয়ে আলোকপাত করবো। অতীত বা সেকাল বলতে আমরা বিস্ফোরক দ্রব্য আবিস্কারের পূর্বের যুদ্ধের ধরন ,কারন ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো।
প্রথমে আসি সেসময়ের যুদ্ধের কারন গুলো নিয়ে সেসময়ের যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য কারনগুলো হলো, কোনো বিশেষ ব্যাক্তি হত্যার স্বীকার হলে, কোনো রাজা বা সেনাপতির রাজ্য জয়ের নেশা থাকলে এছাড়া আরেকটি হলো ধর্মীয় কারন। সে সময়ের যুদ্ধের ধরন ছিলো দ্বিমাত্রিক অর্থাৎ যুদ্ধ সংঘঠিত হতো জল পথে আর স্থল পথে ,দুটি পক্ষ যে কোনো একটি স্থানে সেটা জল বা স্থল হতে পারে সেখানে জড়ো হয়ে মুখোমুখি যুদ্ধ জড়িয়ে পড়তো এবং সেথানেই তাদের জয় পরাজয় বা সন্ধি নির্ধারিত হতো। যুদ্ধে অস্্র ছিলো তীর, ধনুক, বর্শা আর বাহন ছিলো ঘোড়া ,হাতি ,গাধা,যার ফলে এই যুদ্ধের প্রভাব যুদ্ধচলাকালীন সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলো । যদিও বিজয়ীদল কিছু কিছু যুদ্ধে বিজয় করা রাজ্য বা এলাকায় হত্যা ও লুটতরাজ চালাতো ।তবে হেরে যাওয়া রাজ্য বা এলাকা বাদে আশেপাশের অন্য রাজ্য বা এলাকা যুদ্ধের প্রভাবমুক্ত থাকতো ।
যুদ্ধের স্থায়িত্বের ব্যপারে বলতে গেলে মূল যুদ্ধ ৬ মাস বা একবছরের বেশি স্থায়ি হতো না। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুদ্ধসংঘঠিত স্থান অল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসতো । হাতাহতের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলতে হবে প্রথমে সামরিক সদস্যরাই হতাহত হতেন তারপর ক্ষেত্র বিশেষ সাধারন জনতা হত্যার স্বীকার হতেন।
এবারে আসুন একাল নিয়ে আলোচনা করি। একাল বলতে বর্তমানে আধুনিক যুগের যুদ্ধের কারন ,ধরন ও প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। তাহলে বর্তমান সময়ে যুদ্ধ সংঘঠিত হওয়ার কারন গুলো দেখে নেই প্রধান কারনগুলোর মধ্যে আছে অর্থনীতি, কয়েকটি দেশের সা¤্রাজ্যবাদী মনোভাব,অ¯্র ব্যবসা,খনিজ সম্পদ ও ধর্মীয় কারন। যুদ্ধের ধরন বহুমাত্রিক অর্থাৎ জল ,স্থল ,আকাশ ,তথ্য ,সাইবার ,গোয়েন্দা,বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। প্রথমে উভয়পক্ষের মধ্যে গোয়েন্দা যুদ্ধ শুরু হয়, এটি যুদ্ধের প্রাথমিক ধাপ, উভয় পক্ষই নিজ নিজ শত্রুর তথ্য গোয়েন্দাবাহিনীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে। এরপর উভয়পক্ষই তার শত্রুকে বিভিন্ন মাধ্যমে হামলা করতে থাকে যার ফলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি অনেক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হতাহতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেসামরিক মানুষ থাকে। আবার যুদ্ধের কৌশল হিসেবে বেসামরিক ব্যাক্তিদের টার্গেট করে হামলা করা হয়।ফলে সামরিক সদস্যদের চেয়ে বেসামরিক জনগনই বেশি হতাহতের স্বীকার হয়। যুদ্ধে ব্যবহৃত অ¯্ররে মধ্যে রয়েছে ট্যাংক ,মিসাইল,বিমান , যুদ্ধজাহাজ ,ভিবিন্ন প্রকার রাসায়নিক গ্যাস ,এটম বোমাসহ আরও বহু ধরনের অ¯্রশ¯্র। যুদ্ধের স্থায়িত্ব ১ বছর বা ১০ বছরও হতে পারে তবে তার প্রভাব থাকে অনেকদিন কারন যেসব অ¯্র ব্যবহার করা হয় তা প্রকৃতিতে বিরুপ পরিবেশ সৃস্টি করে ফলে যুদ্ধের খারাপ প্রভাব বহু বছর বিদ্যমান থাকে। এছাড়া যুদ্ধরত দুটি পক্ষ ছাড়াও আশেপাশের দেশ বা এলাকার উপর যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে তারা অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখিন হন। সাইবার যুদ্ধের ফলে অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতির সম্মুুখিন হয় যার কারনে যুদ্ধরত দেশ বাদে অন্যরাও এর খারাপ প্রভাবের আওতায় পড়ে।
Howladar Polash
পলাশ হাওলাদার
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: