মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান সেনা কর্মকর্তা হলেও উনি বিডিআরের প্রাক্তন মহাপরিচালক হিসেবেই অধিক পরিচিত সর্বমহলে। আর হবেন নাই বা কেন,উনার নেতৃত্বাধীন বিডিয়ার একই সাথে ভারত ও মায়ানমার এর সাথে সীমান্ত সংঘর্ষে তাদেরকে হারিয়ে প্রমান করেছিলো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব। তাই তো আজও অনেকের কাছেই তিনি রোল মডেল।

মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান ১৯৫১ সালে দিনাজপুর জেলার পূর্ব মোহনপুর এ জন্মগ্রহন করেন। বাল্যকাল কাটে গ্রামেই। মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়কালেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ৭১ এর নভেম্বর এ সেকেন্ড ওয়ার কোর্সের সময়। ভারতের মুতি অফিসার্স ট্রেইনিং একাডেমী হতে ট্রেনিং লাভ করেছিলেন। এছাড়াও পরবর্তী জীবনে তার দীর্ঘ সামরিক কর্মজীবনে আরো অনেক দেশ হতেই তিনি ট্রেনিং নিয়েছিলেন। তার কর্মজীবনের একটা অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে যেখানে তিনি মোকাবিলা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিবাহিনী দলকে। এছাড়াও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ১৯৭৫-১৯৮১ এর সেই সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ এর ফলে সৃস্টি হওয়া দূর্যোগপূর্ন সময়কাল। একবার ১৯৭৭ সালে বগুড়ায় কয়েকজন জেসিও ও সৈনিক দলের এক বিদ্রোহ ও ব্যক্তিত্বের জোরে দমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। ২০০০ সালের ২৯ ই ফেব্রুআরি তিনি বিডিয়ারের ডিজির পদে অধিষ্ঠিত হন। সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন তিনি কঠোর হস্তে দমন করেন।

তার আমলেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সাথে ভারত-মায়ানমারের এখন অব্ধি হওয়া ভয়ংকর সীমান্ত সংঘর্ষ গুলো সংগঠিত হয় যার একটি ২০০০ সালে মায়ানমারের সাথে ও একটি ২০০১ সালে ভারতের সাথে। ২০০০ সালে নাফ নদীতে বাধ নির্মান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ পরিস্থিতিতে তিনি বিডিয়ারকে মায়ানমারের নাসাকার বিরুদ্ধে প্রস্তুত রাখেন ও সীমান্ত সংঘর্ষ ও সংঘটিত হয়। মায়ানমার এমনভাবে পর্যযুস্ত হয় যে তারা হাতে লেখা শান্তি চুক্তি করে,টাইপ রাইটারের অপেক্ষা না করে। ( তথ্যসূত্র :- মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান স্যার স্বয়ং )।

২০০১ এ উনি ভারতের দখলকৃত বাংলাদেশী গ্রাম পাদুয়া দখলে ফোর্স পাঠান ও ভারতীয় বিএসএফ সেখানে আত্মসমর্পন করে। পরে ভারত প্রতিশোধ নিতে পাদুয়া হতে ২০০ মাইল দূরে রৌমারি সীমান্তে বিডিয়ার ক্যাম্প দখল উদ্দেশ্যে আক্রমন চালায়। বিডিয়ারের অসাধারন প্রতিরোধে মাত্র গুটিকয়েক বিডিয়ার সৈন্যের কাছে বিএসএফ এর বিরাট বাহিনী পরাজিত হয়। যা বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। পরাজয় ঘটে ভারতের। এই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন সীমান্তে উত্তেজনা বজায় ছিল যা আ ল ম ফজলুর রহমান স্যার সামলিয়েছেন।

২০০১ এ সীমান্ত সংঘর্ষে জওয়ানদের সাথে ফজলুর স্যার। ©Alamy.com

তবে সরকার তাকে দ্রুতই বিডিয়ারের ডিজির পদ হতে সরিয়ে অন্য পদে বদলী করে। এরপর ২০০১ এ সরকার পরিবর্তন হয় ও দু:খজনক ভাবে নতুন সরকার তাকে চাকরীচ্যুত বা বরখাস্ত করে। তিনি বেশ আক্ষেপের সাথেই একুশে টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন,”এক সরকার আমাকে পদচ্যুত করে,অন্য সরকার আমাকে চাকরীচ্যুত করে”। দু:খজনক হলেও সত্যি যে উনার বীরত্বপুর্ন এ দুই অভিজানের যথাযথ মর্যাদা উনি পান নি। অথচ উনার মতো কেউই বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এভাবে একই ভারত ও মায়ানমার কে হারিয়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে পারেন নি। উনি বর্তমানে একজন লেখক ও কলামিস্ট একই সাথে নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাছাড়া উনি “নির্দলীয় জন আন্দোলন” নামক একটি সামাজিক সংগঠনের ও প্রতিষ্ঠাতা। উনি বারবার একটি কথা বলে এসেছেন “বাংলাদেশ আর্মি-বিজিবি ঘুমন্ত সিংহ,একে খোঁচাতে নেই”, কারন বাংলাদেশ চাইলে কি করতে পারে তার এক ঝলক আ ল ম ফজলুর রহমান স্যার নিজেই দেখিয়েছেন। দূর্ভাগ্য সে জাতির জন্য যারা বীর কে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে পারলো না।

দু:খিত স্যার,স্যালুট আপনাকে !

Facebook Comments

3 Comments

Al Jaim Pappu · December 10, 2017 at 12:47 pm

স্যালুট স্যার

palash · December 11, 2017 at 9:33 am

বস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: