মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা প্রায় চার লক্ষ এমনটাই ধারনা করা হয়ে থাকে। দেশজুড়ে অনেকগুলো বিদ্রোহী গ্রুপের অস্তিত্ব থাকায় ও আয়তন ও বেশি হওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক সেনা মিয়ানমারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে শিশু সৈন্য রয়েছে মোট ৭০ হাজারের মতো । যা মোট সৈন্যসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে সংস্থাটির তরফ হতে এই আশংকাও পোষন করা হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে যে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শিশু সৈন্য এক্টিভ রয়েছে মিয়ানমারে।

২২০ পৃষ্ঠার “My Gun was as Tall as Me: Child Soldiers in Burma” রিপোর্টটিতে মিয়ানমারের শিশু সৈন্য ও তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে ভালো ধারনা পাওয়া যেতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন শিশুসৈন্যের সাথে কথা বলে তাদের সম্পর্কে জানার চেস্টা করা হয়েছিলো। মিয়ানমারে বিভিন্ন ফ্রন্টে একসাথেই বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে যুদ্ধ চলছে। আর সেসব ফ্রন্টলাইনে সম্মুখ সমরে পাঠানো হচ্ছে ১২-১৩ বছরেএ শিশুদের। আবার যেসব বিদ্রোহী গ্রুপ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে তাদের ও শিশুসৈন্য রয়েছে। সবমিলিয়ে Child Abuse এর সর্বোচ্চ পর্যায় চলছে সেখানে এমনটাই মন্তব্য করা হয়েছে হিউম্যান রাইটসের তরফ থেকে।

কেন এত শিশু সৈন্য ?

এর কোন উত্তর মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা কারো থেকে সরাসরি পাওয়া যায়নি। তবে খোজ নিয়ে জানা গিয়েছে এর মূল কারন প্রধানত আর্থিক। মিয়ানমারে সাধারন সৈনিকদের বেতন বাংলাদেশী টাকায় ১২০-২০০ টাকা মাত্র। ( ১৬ বার্মিজ কিয়াট = ১ বাংলাদেশী টাকা) যার ফলে কোনমতে খেতে পারলেও পরিবার সামলানো কোনভাবেই সৈনিকদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই স্বপ্রনোদিত হয়ে সৈনিক পদে আবেদন ও আসে খুব কম বা প্রায় শূন্যের কোঠায় অন্যদিকে মিয়ানমারের সৈন্য চাহিদাও থাকে ব্যাপক। তাই রিক্রুটারদের দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থান যেমন মার্কেট,বাস স্টপ এসব জায়গায় তারা বিভিন্ন মানুষকে আটকিয়ে তাদের সৈনিক হিসেবে যোগদানের জন্য তুলে আনে। তবে এসব ক্ষেত্রে জওয়ান দের আনতে রিক্রুটারদের ব্যাপক বেগ পেতে হয় ও তাদের বশে আনাও কঠিন হয়ে পড়ে। সেদিক দিয়ে শিশুরা বেশ নিরাপদ কারন তাদের ভয় দেখিয়ে কার্যসিদ্ধি সহজে করা যায়। আর এ কারনেই রিক্রুট দের একটা বড় অংশই বয়সে শিশু।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে শিশু সৈন্য রিক্রুট

ভয়াবহ শিশু নির্যাতন :-

শিশুদের সম্মুখ সমরে পাঠানোই অপরাধের মধ্যে পড়লেও তা শুধু এতেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুরা সেনাদল ছেড়ে পালাতে চাইলে তাদের ওপর চালানো হয় ব্যাপক নির্যাতন এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পালানোর সময় গুলি করে হত্যার ও ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অফিসাররা এসব শিশুসৈন্যদের চাকরের মতো ব্যবহার করেন এবং দৈহিক অত্যাচার ছাড়াও মাঝে মাঝে যৌন নিপীড়ন এর ও স্বীকার হন এমন টা তারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধিদের জানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদী রা এ ব্যাপারে জানতে পেরে প্রতিবাদ জানানোর ফলে মিয়ানমার সরকার সময়ে সময়ে কিছু শিশুসৈন্যদের মুক্ত করেছে। কিন্তু তার সংখ্যা খুবই কম ও বর্তমানেও প্রচুর শিশুসৈন্য মিয়ানমারের বাহিনীগুলোতে কর্মরত রয়েছে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: