শিরোনাম দেখে অনেকেই হয়ত অবাক হয়েছেন।তবুও বলতে হচ্ছে ঘটনাটি সত্যিই। মিয়ানমারের বহরে যে মিগ-২৯ গুলো আছে তার মধ্যে ৩-৪ টা মিগ-২৯ ফাইটার বাংলাদেশের। মানে বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা ছিলো ও বাংলাদেশ সে বিমান গুলি কেনার জন্য টাকা পরিশোধ ও করেছিলো। তবুও বিমানগুলি আজ বাংলাদেশের না,মিয়ানমারের।

পূর্বকথা :-

১৯৯১ সালের বন্যায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রাম বেসের অনেক গুলো বিমান বন্যায় ভেসে যায় যার মধ্যে অনেক নতুন বিমান ছিলো,পাশাপাশি ছিলো এফটি-৬ এর মতো সেযুগের আধুনিক বিমান। এই দূর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নতুন ফাইটার কিনতে আগ্রহী হয়। প্রথমে এফ-১৬ বিমান কিনতে চাইলেও আমেরিকা বাংলাদেশের কাছে বিক্রয় করতে রাজী হয়নি। ফলে রাশিয়া ১৬ টি মিগ-২৯ কেনার ডিল ফাইনাল হয়।

১৯৯৯ সালে আমরা প্রথম ৮ টি মিগে-২৯ ডেলিভারি পাই। আরো ৮ টি মিগ-২৯ আসার অপেক্ষা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা যাই বলি না কেন বাংলাদেশ কর্তৃক মিগ-২৯ এর অর্ডার ক্যান্সেল করা হয়। একদম ডিলিভারির পূর্ব মূহুর্তে ডিল ক্যান্সেল হওয়ায় আইন অনুযায়ী রাশিয়া চাইলে অর্থ ফেরত না দিলেও পারে। সে আটটা মিগ আর আমরা পাইনি। কিন্তু যেহেতু আমরা পেমেন্ট করে দিয়েছি তাই রাশিয়া আর আমাদের টাকা পুরোটা ফেরত দেয় নি,মাত্র ৩০% এর মতো পেয়েছিলাম। আমাদের সে মিগ-২৯ গুলো রাশিয়া বেলারুসের কাছে বিক্রি করে দেয়।

মিয়ানমারের মিগ-২৯

২০০১ সালে,মিয়ানমার বেলারুস হতে ১২ টি সেকেন্ড হ্যান্ড মিগ-২৯ ক্রয় করে। যার প্রায় সবগুলোই বেলারুশের বহু বছর ব্যবহার করা ছিল তবে ৩-৪ টা প্রায় নতুন,অর্থাৎ বাংলাদেশের সেই মিগ-২৯ যেগুলো রাশিয়া বেলারুসের কাছে বিক্রি করেছিলো সে বিমান গুলো। মিয়ানমারের এক স্কোয়ান্ড্রন পুরন করা দরকার ছিলো,(১২/১৬/১৮ টি বিমান নিয়ে স্কোয়ান্ড্রন গঠিত হয়) আর বেলারুস ও এই ডিল হতে ভালো লাভ দেখতে পাচ্ছিলো কারন পুরনো বিমানগুলি কাস্টমার পাওয়া যেখানে কস্টকর সেখানে ১২ টি বিক্রয় মন্দ কি। তো মিয়ানমারের স্কোয়ান্ড্রন পুরনের জন্য পুরনো গুলির সাথে নতুন কেনা মিগ-২৯ গুলো মিলিয়ে মিয়ানমারের কাছে মোট ১২ টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বিক্রয় করে বেলারুস।

আর এভাবেই মায়ানমারের আকাশে আজ বাংলাদেশের মিগ-২৯ উড়ে। তাদের বহরে বর্তমানে মোট ৩২ টি মিগ-২৯ বিমান রয়েছে।

Facebook Comments

1 Comment

Al Jaim Pappu · March 1, 2018 at 1:10 am

রাজনৈতি জিন্দাবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: