মিয়ানমার মোট ১৬ টি জেএফ-১৭ অর্ডার করেছিলো যার মধ্যে ৬ টি জেএফ-১৭ এর ডেলিভারি তারা ইতিমধ্যেই পেয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মিয়ানমারের আকাশে জেএফ-১৭ উড়তে দেখা গিয়েছে আর বিভিন্ন সোর্স ও তা কনফার্ম করেছে যে মিয়ানমার ৬ টির ডেলিভারি পেয়েছে।

মিয়ানমারের ডেলিভারি পাওয়া JF-17

এখন সকলের মনেই প্রশ্ন জেগে উঠেছে যে মিয়ানমারের জেএফ-১৭ বিমান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঠিক কতটা হুমকি। সে বিষয় নিয়েই এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে। আগে জেনে নিই মিয়ানমারের জেএফ-১৭ এর ক্যাপাবিলিটি কিরকম। সবার আগে যে বিভ্রান্তিটি দূর করা প্রয়োজন সেটি হলো সবাই ধারনা করছে যে মিয়ানমার জেএফ-১৭ ব্লক ২ ক্রয় করেছে, যেটা সত্যি নয়। মূলত মিয়ানমার ক্র‍য় করেছে এফসি-১ RUBY ( চীনে জেএফ-১৭ এফসি-১ নামে খ্যাত )

মিয়ানমারের প্রত্যেকটা জেএফ-১৭ এর দাম পড়েছে মাত্র ৩৬ মিলিওন ডলার করে যার মধ্যে এয়ারফ্রেম মাত্র ১৬ মিলিওন ডলার। এক্ষেত্রেই অনুমান করা নেওয়া যেতে পারে যে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ এর সাথে মিয়ানমারের জেএফ-১৭ এর তুলনা চলবে না। দাম কম পড়েছে এ কারনে যে,জেএফ-১৭ এর RUBY সিরিজ টার ক্যাপাবিলিটি অন্যান্য জেএফ-১৭ এর থেকে কম। পাকিস্তানের জেএফ-১৭ তে বিভিন্ন পশ্চিমা পার্টস ও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও RUBY সিরিজে কোন ওয়েস্টার্ন ছোয়া নেই,পুরোটাই চাইনিজ। আর প্রযুক্তির সেরকম সন্নিবেশ ও নেই যেহেতু শুরুতেই বলা হয়েছে প্রতিটি জেএফ-১৭ এর মূূূল্য মাত্র ৩৬ মিলিওন ডলার এর মধ্যে খুব বেশি কিছু ক্রয় সম্ভব না। পাঠকের বুঝতে সুবিধার জন্য বললে একেকটি ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার এয়ারক্রাফট এর দাম ১৫ মিলিওন ডলার ( ওয়েপন প্যাকেজ ছাড়া  ) সেখানে ৩৬ মিলিওন ডলারের ফোর্থ জেনারেশন ডেডিকেটেড ফাইটার পেতে গেলে যে ব্যাপক কম্প্রোমাইজ করতে হবে তা জানা কথা।

জেএফ-১৭ রুবি সিরিজে মিয়ানমার ব্লক২ বা ব্লক৩ এর মত উন্নত রাডার পাচ্ছে না। তাদের জেএফ-১৭ তে রাডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে KLJ-7 V1 যার রেঞ্জ ১০৫ কি.মি ( ৫ বর্গমিটার এর রাডার ক্রস সেকশন বিশিষ্ট টার্গেটের ক্ষেত্রে )। এটির ওয়েপন প্যাকেজে কি বিভিআর মিসাইল নেওয়া হয়েছে বা আদৌ নেওয়া হয়েছে কিনা তা নিয়ে কোন সুস্পষ্ট তথ্য আমাদের হাতে নেই। তবে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয়েছে বিভিআর একসাথে কেনা হয়নি,পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ক্রয় করতে পারবে এবং ব্যবহার ও করতে পারবে তবে কোনভাবেই ১০৫ কি.মি রেঞ্জের বেশিতে কিছু সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের জেএফ-১৭

তবে জেএফ-১৭ ক্রয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেল আর তা হলো মেরিটাইম স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি। জেএফ-১৭ এন্টি শিপ মিসাইল ফায়ার করতে পারে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের বর্তমানে কোন মেরিটাইম স্ট্রাইক ক্যাপাবল ফাইটার নেই। এফ-৭ বিমান হতে এন্টিশিপ মিসাইল ফায়ার করা গেলেও করা হয়না একটি নির্দিস্ট কারনে। তা পরে আসছে। সেক্ষেত্রে তারা নেভী ফ্লিটের জন্য কিছুটা হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে তা সত্যি তবে এর কাউন্টারপার্ট যে বাংলাদেশের কাছে নেই এমনটি নয়।

এটি বাংলাদেশের জন্য কতটা হুমকি ?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটি বাংলাদেশের জন্য কতটা হুমকি। সর্বপ্রথম, এটির আপাতত বিভিআর না থাকলেও সামনে তারা লাগাতেই পারে ( যদিও তেমন কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না মিয়ানমারের অর্থ ঘাটতির কারনে। তারা ডুয়েল সিটার জেএফ-১৭ চেয়েছে তবে কেবলমাত্র একটার মূল্য পরিশোধ ও অন্যটি বিনামূল্য এর আবেদন জানিয়েছে তারা। ). সেক্ষেত্রে তারা আকাশযুদ্ধে ফাইটার পাবে। পাশাপাশি মেরিটাইম স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি ও অর্জন করবে। তবে,তাদের মেরিটাইম স্ট্রাইকের জন্য ব্যবহৃত হতে যাওয়া ( সম্ভাব্য) সি-৮০২ মিসাইল কে ইন্টারসেপ্টের জন্য বিএনএস বঙ্গবন্ধু ফ্রিগেট বা স্বাধীনতা ক্লাস কর্ভেটে যথেষ্ঠ ভাল CIWS সিস্টেম রয়েছে ও সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল ও রয়েছে। CIWS হিসেবে রয়েছে FL-3000N এর মত জিনিস যা চাইনিজ ডেস্ট্রয়ার এও ব্যবহার হয় ও অত্যন্ত ইফেক্টিভ।

Bangladesh To Make Her Own Missiles and Overhaul plant

BNS Shadhinota Firing FL-3000N

তাই সিঙ্গেল ইঞ্জিন জেএফ-১৭ কে মেরিটাইম স্ট্রাইকে কাজে না লাগিয়ে SU-30K ক্রয় করে সেটিকেই কাজে লাগানোর সম্ভাবনা বেশি মিয়ানমারের। বাংলাদেশ ও এফ-৭ বিমানকে মেরিটাইম স্ট্রাইকে কাজে লাগায়না একারনেই যেহেতু সবাই ডাবল ইঞ্জিন জেটকে মেরিটাইম স্ট্রাইকে কাজে লাগায়।

তাদের জেএফ-১৭ এর রাডার রেঞ্জ সহ অন্যান্য দিক বিবেচনা করলে আমরা জেএফ-১৭ রুবি কে জেএফ-১৭ ব্লক ১ এর সমপর্যায়ের বা এরকম ই একটি ডাউনগ্রেডেড ভার্সন মন্তব্য করতে পারি। মিয়ানমারের ক্ষেত্রে বলা যায় তাদের বহরে বাংলাদেশের মিগের সমপর্যায়ের ( মেরিটাইম স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি বাদে ) কিছু ফাইটার যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য তা দুশ্চিন্তার বটেই কারন বার্মা প্রতিপক্ষ,তবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যদি মিগ-৩৫, সু-৩৫ বা এজাতীয় অত্যাধুনিক বিমান বহরে আনতে পারে তবে জেএফ-১৭ বাংলাদেশের জন্য খুব বেশি কোন হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। তাছাড়া এয়ার ডিফেন্স হিসেবে বাংলাদেশ মিডিয়াম রেঞ্জ এলওয়াই-৮০ সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল অর্ডার করেছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের মত মূল্যের দিক দিয়ে সস্তা এর দিকে না যাওয়ার ফলেই হয়ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রতা লেগেছে ( একই অবস্থা চলছে মালয়েশিয়া, ভারত সহ অনেক দেশের বিমান ক্রয়ে যেহেতু এক্ষেত্রে অনেক দিক বিবেচনার বিষয় রয়েছে )।

সর্বোপরি জেএফ-১৭ বিমান মিয়ানমারের সামর্থ্য বাড়াবে পূর্বের তুলনায় তা সন্দেহাতীত।

Facebook Comments
Categories: Myanmar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: