মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যৌন কেলেঙ্কারির কথা বললে প্রথমেই আসবে বিল ক্লিনটনের কথা। নব্বইয়ের দশকে ক্লিনটন-মনিকা লিউনস্কির যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনী বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ আলোড়ন ফেলেছিল। এ কারণে বিল ক্লিনটনের পদত্যাগের জন্যও চাপ সৃষ্টি করেছিল বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি। তবে ক্লিনটন ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা রয়েছে।
এক নজরে সেসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তালিকা দেখে নেয়া যাক:

জেমস বুকানন 
যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র অবিবাহিত প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানন। ১৮৫৭ থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির পঞ্চদশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমকামী ছিলেন বলে জনশ্রুতি ছিল। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমকামিতা স্বীকৃতি পেলেও সেসময় বিষয়টি নিষিদ্ধ ছিল। ফলে বুকাননের সমকামিতার এ বিষয়টি নিয়ে উপহাস করা হতো।তিনি আলাবামার সিনেটর উইলিয়াম রুফাস কিংয়ের সঙ্গে ১৫ বছর বাস করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন উইলিয়াম রুফাস কিংকে মজা করে ‘মিস ন্যান্সি’ বলে ডাকতেন। বুকানন এবং উইলিয়াম জুটিকে প্রেমিক-প্রেমিকা বলে মনে করতেন অনেকে। এমনকি বলা হয়ে থাকে, বুকাননের শাসনামলে মার্কিন পোস্টমাস্টার জেনারেল অ্যারন ভি ব্রাউন, উইলিয়াম কিংকে বুকাননের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

থমাস জেফারসন 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন থমাস জেফারসন। তিনি দেশটির তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্যালি হেমিংস নামে একজন মিশ্র জাতিগত ক্রীতদাসের সঙ্গে জেফারসনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। স্যালি জেফারসনের স্ত্রীর সৎবোন ছিলেন। স্যালির ছয় সন্তানের জনক ছিলেন মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট। অবশ্য সেসময় ভার্জিনিয়ার ধনী বিপত্নীকদের ক্রীতদাসীদের উপপত্নী হিসেবে রাখা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না।

জর্জ ডাব্লিউ বুশ 
পিতা-পুত্র অর্থাত্ সিনিয়র এবং জুনিয়র দুই বুশের বিরুদ্ধেই বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ তম প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার গুজব ছিল।এদিকে সিনিয়র বুশের ছেলে ৪৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগ ছিল। পরবর্তীকালে কয়েকটি যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে পড়ে। মার্গি ডেনিস নামে টেক্সাসের একজন নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। পরবর্তীকালে মার্গি আত্মহত্যা করেন। অবশ্য দুই বুশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এ ঘটনাগুলো মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও ব্যর্থ হয়।

ওয়ারেন জি হার্ডিং 
২৯তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন জি হার্ডিংয়ের সঙ্গে ক্যারি ফুলটন ফিলিপস নামে এক নারীর ১৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ক্যারি ফুলটন প্রেসিডেন্টের বন্ধুর স্ত্রী ছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে তার চেয়ে ৩০ বছরের ছোট ন্যান ব্রিটন নামে একজন তার উপপত্নী ছিলেন। ব্রিটনের কন্যা এলিজাবেথ অ্যানের বাবা ছিলেন প্রেসিডেন্ট হার্ডিং। ১৯২৩ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে হার্ডিং মারা যান। অনেকেই বলে থাকেন, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ফ্লোরেন্স বিষ প্রয়োগ করে তাকে মেরে ফেলেন।

ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার 
৩৪তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সঙ্গে তার ড্রাইভারকে সামার্সবির যৌন সম্পর্ক ছিল। প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর ছয় বছর পরে তিনি (ড্রাইভার) একটি বইতে এ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু আইজেনহাওয়ারের জীবনীকার জাঁ অ্যাডওয়ার্ড স্মিথ জানান, সন্দেহাতীতভাবেই এ দুজন ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন।

জন এফ কেনেডি 
হলিউডের সাড়া জাগানো তারকা মেরিলিন মনরো এবং জন এফ কেনেডির প্রেম কাহিনী বিশ্বজুড়ে কম বেশি সবাই জানেন। এমনকি বলা হয়ে থাকে কেনেডির জন্যই মেরিলিন আত্মহত্যা করেন! তবে মেরিলিন ছাড়াও অ্যাঞ্জি ডিকিনসন, মারলিন ডিয়েত্রিচ এবং স্ত্রী জ্যাকির প্রেস সেক্রেটারি পামেলা টার্নারের সঙ্গেও ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির প্রেমের গুজব শুনা যায়।

ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট 
মার্লিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সারাজীবন ধরে এমন একজন নারীর সঙ্গে জড়িয়ে পরেন, যিনি তার স্ত্রী এলেনর রুজভেল্টের সেক্রেটারি ছিলেন। লুসি মার্সার এবং রুজভেল্টের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় ১৯১৬ সালে। সেসময় এলেনর এবং সন্তানরা গ্রীষ্মের গরম থেকে বাঁচার জন্য ছুটি কাটাতে ওয়াশিংটনের বাইরে গিয়েছিলেন।
১৯১৮ সালে মার্সারের স্যুটকেসে এক প্যাকেট প্রেমপত্র(!) পান রুজভেল্টের স্ত্রী। যদিও পরবর্তীকালে তিনি স্বামীকে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রস্তাব করেন কিন্তু এ দম্পতি আর বিচ্ছেদের পথে যাননি। ফার্স্টলেডি হিসেবে এলেনর রুজভেল্ট সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। পরবর্তী মার্কিন ফার্স্টলেডিদের কাছে এলেনর রুজভেল্ট দৃষ্টান্তযোগ্য একজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড 
১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণার সময় ডেমোক্রেটিক প্রার্থী গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের সঙ্গে বিক্রয়কর্মী মারিয়া হালপিনের প্রেমের খবর প্রকাশ করে একটি পত্রিকা। পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণেরও অভিযোগ তোলা হয়। জনশ্রুতি আছে, হালপিনের সন্তান হলে তাকে অনাথ আশ্রমে পাঠানো এবং হালপিনকে মানসিক হাসপাতালে যেতে বাধ্য করেন তিনি। গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ এবং ২৪তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

বিল ক্লিনটন 
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যৌন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে প্রথমেই বিল ক্লিনটনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

১৯৯৫ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে চাকরি পায় লুইস এবং ক্লার্ক কলেজ গ্র্যাজুয়েট সুন্দরী মনিকা লুইনসকি। এ সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জেফারসন বিল ক্লিনটন সপরিবারে এই রাজকীয় প্রাসাদে বসবাস করতেন। ২২ বছরের এই সুন্দরীর প্রতি নজর পড়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের। কিছু দিন দৃষ্টি বিনিময় এবং অল্পস্বল্প কথোপকথনের পর মনিকার সঙ্গে ক্লিনটনের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে(৩য় ছবি)। মনিকা এবং ক্লিনটন নিয়মিত অভিসারে মিলিত হতেন। তাঁরা রোমান্স এত উপভোগ করতেন যে হোয়াইট হাউসেই ৯ বার গোপন অভিসারে লিপ্ত হন।এর মধ্যে পাঁচ বার এ রকম অভিসারের সময় ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি রডহাম ক্লিনটন হোয়াইট হাউসে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই অভিসারের খবর হিলারি কেন, কাকপক্ষীও টের পায়নি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুবাদে মনিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তাঁর সহকর্মী লিন্ডা ট্রিপের। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মনিকা তাঁর বিশ্বস্ত বন্ধু ও সহকর্মী লিন্ডাকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর গোপন অভিসারের কথা জানান। ট্রিপ মনিকাকে পরামর্শ দেন, প্রেসিডেন্ট যে উপহার প্রদান করেন তা যেন সংরক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া তিনি আরো অনুরোধ করেন যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গোপন অভিসারের সময় যে বস্ত্র পরিধান করা হয় তা যেন পরিষ্কার না করা হয়।
(কারণটা না বুঝলে মুড়ি খান)
এই বস্ত্র পরে ‘নীল বস্ত্র’ নামে খ্যাতি লাভ করে। মনিকা ও ক্লিনটনের গোপন রোমান্সের কথা লিন্ডা সাহিত্যিক লুসিয়ানা গোল্ডবার্গকে জানান। গোল্ডবার্গ লিন্ডাকে পরামর্শ দেন যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মনিকার কথোপকথন যেন গোপনে রেকর্ড করা হয়। বহুবার চেষ্টার পর ট্রিপ ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের মধ্যকার প্রেমালাপ রেকর্ড করতে সক্ষম হন। এবার গোল্ডবার্গ ট্রিপকে পীড়াপীড়ি করে যে এই রেকর্ড করা টেপটি স্বাধীন তদন্ত কর্মকর্তা কেনথ স্টারকে প্রদান করতে। কিন্তু তাঁর এই আবেদনে ট্রিপ সাড়া দেননি। গোল্ডবার্গ বহুবার চেষ্টা করে ট্রিপকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে এই বছরের শেষের দিকে নিউজউইকের প্রতিবেদন মাইকেল ইসিকফের কাছে এ ঘটনা ফাঁস করে দেন।

এই স্ক্যান্ডালের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৭ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে ড্রাজ রিপোর্ট ওয়েবসাইটে। এই বছরেরই ২১ জানুয়ারি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে এই স্ক্যান্ডালের খবর প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উপায়ন্তর না দেখে ক্লিনটন স্ত্রী হিলারিকে সঙ্গে নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সংবাদ সম্মেলনে ক্লিনটন বলেন, ‘মনিকা নামে যে মহিলার কথা বলা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কখনো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কোনো সময় একটিও মিথ্যা কথা বলিনি। এই অভিযোগ মিথ্যা।’ অতঃপর মনিকাও দাবি করেন যে ঘটনা মিথ্যা এবং ট্রিপ ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এই অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। এমতাবস্থায় ট্রিপ তাঁর কাছে সংরক্ষিত মনিকা এবং ক্লিনটনের প্রেমালাপের টেপ তদন্ত কর্মকর্তা কেনথ স্টারকে প্রদান করেন। কেনথ এই টেপের কথোপকথন পরীক্ষা করে বলেন, এ ঘটনা সত্য।

উপায়ন্তর না দেখে মনিকা গ্র্যান্ড জুরির কাছে তাঁর সঙ্গে ক্লিনটনের শারীরিক সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর কাছে সংরক্ষিত নীল বস্ত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রদান করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এই নীল বস্ত্র পরীক্ষা করে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য এবং ক্লিনটনের দাবি মিথ্যা।[আকাম করে কাপড় না ধুলে যা হয় আরকি।কয়েক বছর আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলোসকুনি (এসি মিলান ক্লাবের মালিক) কাপড় না ধোয়ার কারণে হোটেলের রুম সার্ভিস মেইড(কামের বেডি আরকি 😜) ফেঁসে গিয়েছিলেন]

অতঃপর বিচারক সুসান ডি ওয়েবার মিথ্যা কথা বলার জন্য প্রেসিডেন্টকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করেন। অন্যদিকে ইয়েল আইন স্কুলের ছাত্র ক্লিনটনকে সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে এক মাসের জন্য এবং আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের বার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনা সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর সিনেট সদস্যরা প্রেসিডেন্টের নৈতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ইমপিচমেন্টের দাবি করেন। ক্লিনটনের ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক সদস্য ও বিরোধী রিপাবলিকানদের এই দাবি সমর্থন করেন। ফলে সিনেটে এ বিষয়ে ২১ দিন ধরে তুমুল বিতর্ক হয়। অবশেষে ভোটাভুটিতে ক্লিনটন জয়লাভ করেন। অর্থাৎ এ যাত্রায় প্রেসিডেন্ট ইমপিচমেন্টের হাত থেকে রক্ষা পান। হিলারি ক্লিনটন পুরো ঘটনায় স্বামীর পাশে থেকে স্বামীর মনোবল জোগান।

৩৭ বছর বয়স্ক মনিকা বর্তমানে টেলিভিশনে একটি রিয়েলিটি শো পরিচালনা করছেন। ডেইলি মেইল তার ওই বন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তিনি ন্যাশনাল ইনকুইরার ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, মনিকাকে এখনও বিল ক্লিনটন ভুলতে পারেননি। দ্বিতীয়বারের মতো তারা তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু করেছেন। মনিকার ওই বন্ধু আরও বলেন, মনিকা বলেছেন, তার জীবনে অন্য কোনো পুরুষ আসবে না। কারণ ক্লিনটনের মতো কেউ তাকে সুখী করতে পারবেন না😜
(প্রেসিডেন্টের মত ক্ষমতা বিখ্যাত টাকলা পর্নস্টারেরও নেই মনে হয়)

এছাড়া পলা জোন্স, জেনিফার ফ্লাওয়ার্স, ক্যাথলিন উইলি, এলিজাবেথ ওয়ার্ড গ্রাসেন এবং জুয়ানিতা ব্রোডড্রিকের সঙ্গেও ক্লিনটনের যৌন সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়।এমনকি এখন যখন তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন, তখনো তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারিকে ধরাশায়ী করার জন্য বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন।

লিন্ডন বি জনসন 
৩৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের সঙ্গে অনেকেরই প্রেমের খবর পাওয়া যায়। মেডেলিন ব্রাউন নামে একজন নারীর সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিল তার। প্রেসিডেন্ট তাকে আর্থিকভাবে সাহায্যও করেছিলেন বলে শুনা যায়।
লিন্ডনের জীবনীকার রবার্ট ডালেক বলেন, ‘যখন মানুষ কেনেডির অসংখ্য প্রেমের কথা বলে তখন জনসন টেবিলে আঘাত করে ঘোষণা দেন, তিনি দুর্ঘটনাক্রমে অসংখ্য নারীর সঙ্গে জড়িয়ে পরেন কিন্তু কেনেডি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা করেন।’
অর্থাৎ লিন্ডন সাহেব ভুলে আকাম করেছেন, এটাই তার দাবি!

ডোনাল্ড ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামেও আছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। ২০১৬ সালে নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে এক টেলিভিশন বিতর্কের দুইদিন আগে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। তবে তার বিরুদ্ধে একটি দুটি নয়; প্রায় এক ডজন যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে।
এদের একজন ক্যাথি হেলার বলেন, ২০ বছর আগে ট্রাম্প তাকে জড়িয়ে ধরে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন। এছাড়া মডেল ক্রিশ্চিন এন্ডারসন বলেছেন, ‘১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক কাবে ট্রাম্প আমার স্কার্টের নিচ দিয়ে হাত দিয়ে শরীর স্পর্শ করেন।’ সামার জারভস বলেন, ‘চাকরির সুযোগ দেয়ার কথা বলে ট্রাম্প আমাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।’ জেসিকা লিডস দাবি করেন, প্রায় তিন দশক আগে একটি ফ্লাইটে তার শরীরের আপত্তিকর সব জায়গায় স্পর্শ করেন ট্রাম্প, জাপটে ধরেছিলেন অক্টোপাসের মতো।
অবশ্য ট্রাম্প এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, ‘এসব কেবলই কালিমালেপন। আমার সুনাম নষ্ট করাই উদ্দেশ্য। আমাকে থামানোর ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা। আর যারা অভিযোগ করছেন, তারা মিথ্যুক ও রোগী।’ ক্ষমতায় গেলে তাদের দেখে নেবেন বলেও হুমকি দেন তিনি।সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে 
জানা গেছে, এক দশক আগে পর্নস্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলসন(আসল নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড) ও ট্রাম্প রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সময়টা ছিল এমন, যখন ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়া সদ্য পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন।২য় ছবিতে দেখছেন কোনো এক পার্টিতে ট্রাম্প,মেলানিয়া ট্রাম্প ও স্টর্মি ড্যানিয়েলস।

টাকার কুমির ট্রাম্পের নারী কেলেঙ্কারি গোপন কিছু নয়।তবে তিনি যত আকাম করেছেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেই করেছেন।
তিনি ধর্মযাজক নন, এ কথা জেনেই রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। সমস্যা বাধল এ বছরের গোড়ার দিকে, এ নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর। এতে বলা হলো ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন ড্যানিয়েলসকে চুপ রাখতে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছেন। তিনি নাকি টাকাটা দিয়েছেন নিজের পকেট থেকে। শুধু এই উদ্দেশ্যে তিনি এক ‘ফেক’ কোম্পানি খোলেন, যার মাধ্যমে অর্থের আদান-প্রদান হয়।কোহেন এক বিবৃতিতে স্বীকার করেন, টাকাটা তিনি দিয়েছেন, তবে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু জানেন না। কোহেন কেন তাঁর মক্কেলকে না জানিয়ে এত টাকা একজন পর্নো তারকাকে দিয়েছেন, তার কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি। মার্কিন আইনে মক্কেলের সম্মতি ছাড়া তাঁর পক্ষে কোনো অর্থ প্রদান করা অপরাধ বলে বিবেচিত।আরও জানা গেল, অর্থপ্রাপ্তির শর্ত হিসেবে গত বছরের অক্টোবরে ড্যানিয়েলসন ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘অপ্রকাশ’ বা নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করেছেন। এই চুক্তি অনুসারে, দুজনের সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না তিনি। যদি বলেন, তাহলে যখন ও যতবার মুখ খুলবেন, তাঁকে ততবার এক মিলিয়ন ডলার করে জরিমানা দিতে হবে।এই চুক্তিতে অবশ্য ড্যানিয়েলস অথবা ট্রাম্প কেউই নিজের নাম ব্যবহার করেননি। ড্যানিয়েলসের নাম রাখা হয়েছিল পেগি প্যাটারসন, আর ট্রাম্পের নাম ছিল ডেনিস ডেনিসন। চুক্তিপত্রে পেগি প্যাটারসনের স্বাক্ষর থাকলেও ডেনিস ডেনিসন অর্থাৎ ট্রাম্পের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। সম্ভবত ভবিষ্যতে বিপদে পড়লে অস্বীকার করতে পারেন, সে জন্যই ট্রাম্প নিজের নামের নিচে কোনো স্বাক্ষর করেননি, এই অভিমত নিরপেক্ষ আইনজীবীদের।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: