মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফজিএম-১৪৮ এন্টি ট্যাংক জ্যাভলিন মিসাইল বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা একটি ফায়ার এন্ড ফরগেট এন্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল(এটিজিএম)।
অন্যান্য এটিজিএম এর সাথে এক কাজ করার সিস্টেমে খানিকটা পার্থক্য আছে।ব্যাপারটা আপনাকে খানিকটা ফিজিক্স দিয়ে সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

জ্যাভলিন ফায়ারিং

ধরুন এক কেজি ওজনের একটি ইট ১তলা উপর থেকে আপনার মাথার উপর আমি ফেলবো!
(আশা করি আপনি টাক মাথা নন )
এতে আপনার যা ক্ষতি হবে ১০তলা উপর থেকে ফেললে কি একই ক্ষতি হবে?
উত্তর হচ্ছে ১০ তলা থেকে ফেললে আপনার চান্দি একদম চৌচির হয়ে যাবে।কেননা ১০ তলার উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে ইটে বিভবশক্তি জমা হবে এবং নিচে পড়তে পড়তে তা গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।সর্বশেষ আপনার মাথার সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

জ্যাভলিনের ক্ষেত্রেও এমন অবস্থা হয়।এর ফায়ার মুড হচ্ছে দুটো:
👉টপ টু বটম মুড
👉ডিরেক্ট ফায়ার মুড।

গ্রাফে ফায়ারিং মুড

ডিরেক্ট ফায়ার মুড অন্যান্য সকল এটিজিএম এর মতই এটি সরাসরি টার্গেটের দিকে ছুটে যাবে।তবে মিসাইলের ফ্লাইট প্যাথ সাপের মত খানিকটা আঁকাবাঁকা হয় ট্যাংকের এক্টিভ প্রটেকশন সিস্টেমকে(APS) বোকা বানানোর জন্য।

জ্যাভলিন ডিরেক্ট ফায়ার মুডে সর্বোচ্চ ৬০মিটার উপরে উঠে।অন্য দিকে টপ টু বটম মুডে সর্বোচ্চ ১৫০ মিটার উপরে উঠে এবং অভিকর্ষ+মিসাইলের সলিড ফুয়েল রকেট মোটরের সাহায্যে প্রাপ্ত প্রচন্ড গতিশক্তি নিয়ে সোজা ট্যাংকের চান্দিতে হিট করে।পৃথিবীর প্রায় সকল ট্যাংকই তার দেহের চারপাশে আর্মার দিয়ে ঢাকা থাকলে উপরের দিকে আর্মার সবচেয়ে কম অর্থাৎ ধরে নিন উনি হেলমেট পড়েন না…!
আর ২২.৩ কেজি ওজনের জ্যাভলিন সাহেব হেলমেটবিহীন চান্দিতেই হিট করে।তাই জ্যাভলিনের হাতে ট্যাংকের মরণ #প্রায় নিশ্চিত।এছাড়া মিসাইলের ওয়ারহেড হিসেবে ট্যান্ডেম বা দুইটি পরপর বসানো হিট পেনিট্রেটর চার্জ থাকে।প্রথম চার্জটি ট্যাংকের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বলে খ্যাত এক্সপ্লোসিভ রিয়্যাক্টিভ আর্মারকে ফুটো করে এবং আর ২য়টি ট্যাংকের মেইন বডি আর্মারকে ভেদ করে ক্রুদের পরপারের টিকিট ধরিয়ে দেয়।
জ্যাভলিনের ৮.৪ কেজি ওয়ারহেড প্রায় ৬০০-৮০০ এমএম পেনিট্রেট করতে পারে!!
একে তো হিট করে দুর্বল অংশে আবার ভেদ করে প্রায় ২-২.৬ ফিটের মত।এ কারণেই টপ টু বটম মুডে সাকসেস রেট ৯৭-৯৯ পারসেন্ট।
সুতরাং ট্যাংক সাহেবের বেঁচে থাকার চান্স খুবই কম।জ্যাভলিনের ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ৪৭৫০ মিটার এবং ইফেক্টিভ রেঞ্জ ২৫০০ মিটার।

ফায়ারিং এর পর জ্যাভলিন মিসাইলের ফ্লাইট প্যাথ।এভাবেই উপর দিকে উঠে যায় মিসাইল।

তাহলে ডিরেক্ট ফায়ার মুডের দরকারটা কি?

যদি ট্যাংক এমন পজিশনে রইলো যে সোজা ট্যাংকের চান্দিতে হিট করা যাবে না(যেমন জঙ্গলে গাছের নিচে ট্যাংক পজিশন) তখন অন্যান্য এটিজিএম এর মত ডিরেক্ট ফায়ার মুড কাজে লাগানো হয়।তবে এক্ষেত্রে ট্যাংকের এপিএস(এটি ট্যাংকের x,y,z এর যেকোনো দুটি ভেক্টর অক্ষ অর্থাৎ ৩৬০ ডিগ্রি প্রটেকশন দেয় কিন্তু একটা অক্ষ কিছুটা অরক্ষিত থাকে) ট্যাংকে রক্ষা করার বেশ ভালো সুযোগ পায় তারপরও এই মুডে জ্যাভলিনের সাকসেস রেট ৯০% এর বেশি।এছাড়াও এই মুডে লো-অলটিচুডে থাকা হেলিকপ্টার, বাঙ্কার,বিল্ডিং সহ আর্মার্ড ভেহিকেল নয় এমন টার্গেটের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে ডিরেক্ট ফায়ার মুড ব্যবহৃত হয়।

আন্টি ঘরের মধ্যে জ্যাভলিন প্রাকটিস করছেন।

আঙ্কেল ঘরের বাইরে প্রাকটিস করেন 😊

রাশিয়ার একজন ডিফেন্স এক্সপার্ট Alexey Khlopotov বলেছেন মার্কিন জ্যাভলিন মিসাইল ঠেকানোর মত সক্ষমতা রাশান মেইন ব্যাটল ট্যাংকগুলোর নেই!
তার ভাষায় জ্যাভলিনের সামনে রাশান ট্যাংকগুলো helpless!
আফগানিস্তান,ইরাক যুদ্ধে সাফল্যের সাথে জ্যাভলিন ব্যবহার করেছে মার্কিনিরা।
কিন্তু রাশিয়ান মডার্ন ট্যাংকগুলো জ্যাভলিন ঠেকাতে পারবে কিনা সেটা যুদ্ধক্ষেত্র ব্যতীত বুঝা মুশকিল।

টি-১৪ আর্মাতা বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে সেরা মেইন ব্যাটল ট্যাংক

সম্প্রতি ইউক্রেন তাদের জ্যাভলিন এন্টি ট্যাংক মিসাইলের প্রথম ব্যাচ হাতে পেয়েছে।মার্কিন ঋণের টাকায় এই মিসাইল কেনা হচ্ছে।ঋণের পরিমাণ ৪৭ মিলিয়ন ডলার।৩৭ টি লঞ্চার সহ ২১০টা মিসাইল কেনা হয়েছে।জর্জিয়া তাদের প্রথম জ্যাভলিন মিসাইলের ব্যাচ হাতে পেয়েছে।৪১০টি মিসাইল,৭২টি লঞ্চার(দুটো Block 1 CLUs স্পেয়ার লঞ্চারসহ),১০টি Basic Skills Trainers (BST) ও ৭০টি সিমুলেটেড রাউন্ডসহ ক্রুদের ট্রেইনিংসহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট মিলিয়ে ৭৫মিলিয়ন ডলার খরচ পড়েছে।এবার হিসাব করুন প্রতিটি মিসাইলের দাম কত পড়েছে।

২০০২ সালের হিসাবে একটি জ্যাভলিন লঞ্চারের মূল্য ১২৬০০০ ডলার এবং ২০১৭ সালের হিসাবে একটি জ্যাভলিন মিসাইলের মূল্য ১০৬০০০ ডলার!!

এজন্যই জ্যাভলিনকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি এন্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল বলা হয়।

বাংলাদেশ এন্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল কেনার ক্ষেত্রে বরাবরই রাশিয়া/চীনকে প্রাধান্য দেয়।সেক্ষেত্রে জ্যাভলিন আমাদের সেনাবাহিনীতে আশা করাটা বোকামি।তবে মার্কিন জ্যাভলিন এর টেকনোলজি ব্যবহার করে বানানো ইসরাইলি এটিজিএম “স্পাইক” এর চায়নিজ কপি চায়নিজ HJ-12 বা Red Arrow আমরা নিকট ভবিষ্যতে কিনতে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ।
অর্থাৎ জ্যাভলিন+স্পাইক= Red Arrow

#এম_আর_নাইন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: