হিটলারের দেশ জার্মানিকে চেনেনা এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না। ফুলবলেও এদেশে রয়েছে জার্মানির বিশাল ভক্ত। আজ জার্মানির একটা ভিন্ন গল্প শোনাব।

আপনারা এতদিন জেনে এসেছেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের সব থেকে বড় একক ক্রেতা বাজার যে দেশটি সেটা হল ট্রাম্প কাক্কুর আমেরিকা। দেশে বিদেশের এবং নিকট প্রতিবেশিদের শক্ত লবিং করার ফলে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে আমেরিকা। যদিও গার্মেন্টস শিল্প জিএসপি সুবিধার আওতায় ছিলনা তবুও এই গার্মেন্টস শিল্পের ছুতা তুলে জিএসপি বাতিল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাজার সংকুচিত হতে থাকে। সেখানে বাংলাদেশকে টপকে উপরে উঠে যায় ভিয়েতনাম ও ভারত।

গত বছরের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব থেকে বড় বাজার থাকলেও সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্থান কেড়ে নেয় ইউরোপের দেশ জার্মানি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয় $৫.৩৫ বিলিয়ন ডলার। আর জার্মানি থেকে বাংলাদেশ আয় করে $৫.৫৮ বিলিয়ন ডলার।

আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে বেশ কিছু সমস্যা ছিল এবং এখনো আছে। রানা প্লাজা ধ্বস, তাজরিন ফ্যাশনে হৃদয়বিদারক দূর্ঘটনার পর একোর্ড ও এলায়েন্সের অধিনে ইন্সপেকশন শুরু হয়। সেই সাথে মাত্র কয়েক বছরেই এই শিল্পে আসে আমুল পরিবর্তন। শিশু শ্রমিক নেয়া বন্ধ হয়। ঝুকিপুর্ন ভবন এবং অবকাঠামো বন্ধ করে দেয়া হয় অথবা সংস্কার করা হয়। সারা বিশ্বে সব থেকে মর্যাদাপূর্ণ লিড সার্টিফিকেট ধারী প্রতিষ্ঠানের প্রথম ১১ টার ৮ টাই এখন বাংলাদেশের দখলে। নিরাপদ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি হয় দেশে।

এর সাথে অবকাঠামো সমস্যাতো আছেই। ঢাকা -চট্টগ্রাম সড়কে জ্যাম, বন্দরের সময় বেশি লাগা সহ অনেক সমস্যা এখনো বিদ্যমান। এত সমস্যার ভেতর নতুন করে আঘাত আসে নিউ জেএমবির গুলশানে হলি আর্টিসানে এটাক। নিরাপত্তার কথা ভেবে অধিকাংশ গার্মেন্টস ক্রেতা দেশ সরাসরি বিমান ফ্লাইট ক্যান্সেল করে। ফলে ভিন্ন উপায়ে অন্য দেশের বিমানবন্দরে চেকিং করে পণ্য পাঠাতে খরচ বেড়ে যায়।

আজ আরেকটি সমস্যার কথা বলব। গার্মেন্টস পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা সেটা মূল্যায়নের জন্য সার্টিফিকেট নিতে হয় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে ল্যাব টেস্টের পর। এজন্য আমাদের কে এমন হইছে যে পণ্য উৎপাদন করে স্যাম্পল টেস্টের জন্য পাঠাতে হয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং এ। খরচ বেড়েছে অনেক। সেই সাথে রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য সময় ও লেগেছে অনেক।

সম্প্রতি জার্মানির বিশ্বখ্যাত টেক্সটাইল ল্যাব টেস্টিং প্রতিষ্ঠান HOHENSTEIN বাংলাদেশে জার্মানির অর্ডার বৃদ্ধি পাবার নিমিত্তে এবং গার্মেন্টস অর্ডার আরো দ্রুততর করার জন্য জার্মান এবং বাংলাদেশি উভয় ব্যাবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে দুইটি ল্যাব উদ্ভোধন করেছে। ল্যাব দুটির একটি হবে ঢাকাতে অন্যটি চিটাগং এ।

এই ল্যাবে প্রতিদিন প্রায় ২০০০ স্যাম্পল টেস্টিং এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। ল্যাব দুটি মোট একশটি কারখানাকে এই সেবা দিতে পারবে। চাহিদার আলোকে ল্যাবের ক্ষমতা ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হবে।

এই ল্যাবের সুবিধা হল, উৎপাদিত পণ্যের মান নিশ্চিত এবং সার্টিফিকেট এর জন্য এখন আর অন্য দেশে স্যাম্পল পাঠাতে হবে না। এদেশেই সল্প খরচে এবং দ্রুত কাজটি সমাধা করা যাবে। ভবিষ্যতে জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ট্রেড যে আরো বৃদ্ধি পাবে এটা তারই ইঙ্গিত। হয়ত আর কয়েক বছর পর জার্মানি ভারতকে টপকে দ্বিতীয় বৃহৎ ট্রেড পার্টনার হতে চলেছে।

আমাদের উচিত এখন থেকেই জার্মানির সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করা।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: