ট্যাংক এর বিরুদ্ধে ট্যাংকের লড়াই বর্তমানে বেশ বিরল ই বলা চলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্রসমূহ বিভিন্ন মিসাইল আর রকেটেই ট্যাংককে কুপোকাত হতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্রে সমৃদ্ধ পাশাপাশি এদেশের প্রকৃতিও ট্যাংকের অনুকুল না হওয়ায় এদেশে ট্যাংক ওয়ারফেয়ারে বিশ্বের যেকোন দেশেরই নাজেহাল হতে হবে। উল্লেখযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্রসমূহ হলো :-

Metis M-1 :-

মেটিস এম-১ ফায়ারিং

মেটিস এম-১ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহরের সবচাইতে উন্নত ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র। ২০১৩ সালের ২৩ ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহরে ১২০ টি মেটিস এম১ ( সাথে ১২০০ মিসাইল) সহ যুক্ত হয়। এগুলো ৮০ মিটার থেকে ২০০০ মিটারের মধ্যে ট্যাংক কিংবা স্বল্প উচ্চতায় উড্ডীয়মান হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি ৯০০ মিলিমিটারের যেকোন আর্মর এমনকি Explosive Reactive Armor কেও ভেদ করে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পরীক্ষিত একটি অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল । এর সাহায্যে হিজবুল্লাহ বিশ্বখ্যাত ইসরায়েলী মারকাভা ট্যাংক ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল।

HJ-8/বখতার-শিকান :-

বখতার শিকান সহ জনৈক সেনাসদস্য

HJ-8 ও বখতার শিকান এ দুটি মিসাইল পুরোপুরি একই,তবে বখতার শিকান হলো চীনের HJ-8 এর লাইসেন্স নিয়ে বানানো পাকিস্তানী ভার্সন। আমরা চীন হতে HJ-8 ও পাকিস্তান হতে বখতার শিকান দুটিই ক্রয় করেছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০০৪ সালে এই বখতার শিকান ATGM ক্রয় করে পাকিস্তান হতে। এর ওজন মাত্র ২৫ কেজি ফলে তা খুব সহজেই এক সহজেই এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা যায়। এর রেঞ্জ সর্বোচ্চ ৩.৮-৪ কি.মি অব্ধি হয়ে থাকে। ৬০০ মি.মি আর্মররের ট্যাংক কে ধ্বংস করতে সক্ষম এ বখতার শিকান মিসাইল। এটি একটি পরীক্ষিত অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল। সিরিয়া যুদ্ধে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এ এটিজিএম টিকে ব্যাপক হারে ব্যবহার করে আসছে। এই মিসাইল গুলিকে চীনের অত্যাধুনিক HJ-12 দ্বারা রিপ্লেস করা হবে।

PF-98 :-

PF-98 হাতে বাংলাদেশী সেনাসদস্য

পিএফ-৯৮ কোন মিসাইল নয় বরং ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট । এটি তৈরি করেছে চীনের নরিনকো গ্রুপ।এটি অপারেট করতে সাধারণত ১ থেকে ২ জন সৈনিকের প্রয়োজন ।১৯৯৮ সালে সার্ভিসে আসা এই এন্টি ট্যাংক ওয়েপন এর ওজন ১০ কেজি ও রেঞ্জ ১.৮ কি.মি। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ইন্দোনেশিয়া, জিম্বাবুয়ে এটি ব্যাবহার করে।

রিকয়েললেস রাইফেল :-

রিকয়েললেস রাইফেল ফায়ারিং

রিকয়েলেসে রাইফেল বা RR হলো এন্টি ট্যাংক গান। ট্যাংক গান হলেও এর সাহায্যে শত্রুর স্থাপনা যেমন বাঙ্কার ইত্যাদিও ধ্বংস সম্ভব। এটি পুরনো প্রযুক্তি অথচ এখনো কার্যকরি। বাংলাদেশ বেশ কয়েক প্রকারের অ্যান্টি ট্যাংক রিকয়েললেস রাইফেল ব্যবহার করে থাকে যদিও তা রিপ্লেস করা হচ্ছে PF-98 ATW দিয়ে। খুব বেশিদিন আর এটি সার্ভিসে থাকবে না  ।

এছাড়াও আরপিজি-৭/টাইপ ৬৯ রকেট লঞ্চার দিয়েও ট্যাংক কে আক্রমন সম্ভব তবে তাতে সাফল্যের সম্ভাবনা তেমন নেই উন্নত ট্যাংকের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে খুব শীঘ্রই মিডিয়াম ও লং রেঞ্জ এটিজিএম যুক্ত হচ্ছে। রাশিয়া হতে কর্নেট এটিজিএম,আরপিজি ২৯ রকেট লঞ্চার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

Featured Photo credit :- JM Shohel

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: