বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরেক নতুন সংযোজন এর নাম জিডিএফ -০০৯ এন্টি এয়ার ক্রাফট গান। সুইজারল্যান্ড এর তৈরী এবং বিশ্বের ভারী গান নির্মানের শীর্ষস্থানীয় কম্পানি রাইনমেটাল এর সুইডিশ অংশীদার অরালিকন এই অস্ত্রটি সর্বপপ্রথম ডিজাইন করেন জিডিএফ-০০১ এন্টি এয়ারক্রাফট গান হিসাবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এর উন্নয়নসাধান করা হয়েছে এবং তারই ফলশ্রুতিতে আরো আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে জিডিএফ-০০৯ এন্টি এয়ারক্রাফট গান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে সামনে এসেছে।

 সাধারন তথ্যাবলি :-

৩৫মিমি এর দুইটি গ্যাস অপারেটেড কামান সহ এই এন্টি এয়ার ক্রাফট গান সিস্টেম টি মিনিটে ১১০০ রাউন্ড গুলি ফায়ার করতে সক্ষম। অথাৎ এর প্রতিটি গান মিনিটে ৫৫০ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১১২ রাউন্ড রেডি টু ফায়ার অবস্থায় থাকে। তবে জিডিএফ-০০৯ এর আরেকটি বিশেষ দিক হল এর অটো লোডার ব্যবস্থা যার দ্বারা এতে ২৮০ রাঊন্ড পর্যন্ত গুলি লোড করা যায়।
৩৫ মিমি এর গান ৩ কিমি ব্যসার্ধের মধ্যে ৩৬০° কাভারেজের ভিতর যেকোনো টার্গেট ককে ভূপাতিত করতে সক্ষম। তবে এটির ইফেক্টিভ রেঞ্জ ৪ কিমি এবং ৪ কিমি উচ্চতায় থাকা টার্গেট কে ধ্বংস করতে এটি সমান পারদর্শী। মাত্র ৩-৫ জন ক্র দিয়ে এই এন্টি এয়ার ক্রফট গান পরিচালনা করা সম্ভব।
এখন প্রশ্ন হতে পারে এত কম রেঞ্জের এন্টি এয়ার গান কি দরকার? তার বদলে স্যাম সিস্টেম কেন কেনা হচ্চে না? এই প্রশ্নের উত্তর পরে আসছে।

প্রযুক্তিগত তথ্যসূমুহ :-

জিডিএফ-০০৯ এন্টি এয়ার গান একটি রেডার নিয়ন্ত্রিন অটোমেটিক গান যার রেডার হিসাবে রয়েছে স্কাইগার্ড-৩ ফায়ার কন্ট্রোল রাডার যার সর্বাধিক ট্রাকিং রেঞ্জ ৫০ কিমি। এই রেডার টি এর আগের ভার্ষন গুলো তে ব্যবহার হওয়া ফায়ার কন্ট্রোল রেডার অপেক্ষা বেস উন্নত। ইলেক্ট্রনিক কাউন্টার মেজার সিস্টেম এর হাত থেকে বাচতে এতে বিশেষ ধরনের ইলেক্ট্রনিক কাউন্টার মেজার রেজিস্টেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্কাইগার্ড-৩ রেডার ৫০ কিমি এর ভিতরে যেকোন হাই সাবসনিক টার্গেট কে ট্রাক করতে সক্ষম। এছাড়া এর এন্টি মিসাইল ক্যাপাসিটির কারনে এটি ২০ কিমি দূরর থেকে ক্রজ মিসাইল সাদৃশ্য যেকোন টার্গেট কে ট্রাক করতে পারে এবং সুপারসনিক টার্গেটের ক্ষেত্রে এটি ৮ কিমি দূরর থেকে টার্গেট কে ট্রাক করতে সক্ষম। এন্টি মিসাইল ফিচার এর কারনে এটি ব্রহ্মমস ক্রুজ মিসাইল বা পি৮০০ এর মত সুপার সনিক মিসাইল কে ৮ কিমি দুরত্ব থেকে আইডেন্টিফাই করতে ৪ কিমি এর ভিতর ধ্বংস করতে পারবে। টার্গেট ট্রাক হবার পর ৪ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি এর দুইটি শক্তিশালী ৩৫মিমি কামান থেকে অটোমেটিক গুলি ছুড়তে পারে। এর সিস্টেমে রাডার ছাড়াও এক্টি অপ্টিকাল ট্রাকিং সিস্টেম রয়েছে। যা দিনে রাতে সমান কার্যকরী এবং সর্বোচ্চ ১০ কিমি পর্যন্ত দূর থেকে টার্গেট কে খুজে বের করতে সক্ষম এবং তার কম্পিউটার এ পাঠাতে পারে।

অন্যান্য সুবিধা :-

জিডিএফ-০০৯ কে তাই গ্রাউন্ড বেসড CIWS(Close In Weapons System) হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এর আরেকটি বিশেষত্ব এর এন্টি ব্যালাস্টিক ক্ষমতা। শুনে মনে হতে পারে এটি হয়তো ব্যালাস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে পারে আসলে তা নয়। এন্টি ব্যালাস্টিক ক্ষমতা বলতে এটি ব্যালাস্টিক পাথ অনুসরণ করে এমন টার্গেট কেউ ধ্বংস করতে পারে যেমন রকেট। শত্রুসীমা থেকে ছোড়া রকেট কে এটি ট্রাক করে আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে এর জন্য এর ফায়ার কন্ট্রোল সফটওয়ার এর কিছু পরিবর্তন করতে হয়। আর সেই সাথে এন্টি ব্যালাস্টিক টার্গেট ধ্বংস এর জন্য এই এন্টি এয়ার ক্রাফট গান এ একক ধরনের বিশেষ গোলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।
যা AHEAD নামে পরিচিত। এছাড়া এতে :-

  •  HEI : High Explosive Incendiary
  •  SAPHEI : Semi-Armour Piercing High Explosive Incendiary
  •  FAPDS : Frangible Armour Piercing Discarding Sabot
  •  TP : Target Practice ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

তবে এই সবগুলোর মধ্যে AHEAD রাউন্ড বিশেষ ভাবে ব্যালাস্টিক টার্গেট ধ্বংসের জন্য বানানো। AHEAD এটি প্রাগামেবল রাউন্ড যা সফটওয়ার দারা কন্ট্রোল করা যায়। এটি এমন ভাবে তৈরী যাতে এটি টার্গেট এর কাছাকাছি যাওয়া মাত্র অটোমেটিক ভাবে বিস্ফারণ ঘটায় যা ফলে এত ভিতরে থাকা আরো ১৫২ টি ছোট ছোট রাউন্ড টার্গেট কে আঘাত করতে পারে। প্রগামেবল বলার কারন ফায়্র কন্ট্রোল রাডার এর ব্যালাস্টিক টার্গেট কে ট্রাক করা মাত্র তার উচ্চতা ভর গতি এগুলা গননা করে এবং সেই অনুযায়ী প্রগামেবল প্রজেক্টাইল রেডি করে নিক্ষেপ করে।

এবার আসি প্রশ্নের ব্যাপারে যেটি পোস্টের শুরুর দিকে বলেছিলাম। এত আধুনিক SAM, MANPAD থাকতে গান বেসড এন্টি এয়ার ক্রাফট সিস্টেমের কি দরকার?

তাও এত সল্প রেঞ্জের যেখানে SAM বা MaNPAD দিয়ে আরো দূর থেকেই টার্গেট ধ্বংস করা যায় সেখানে এন্টি এয়ার ক্রাফট কি দরকার?
উপরোক্ত তথ্য থেকে এর অনেকে কিছুর উত্তর হয়তো পেয়ে গেছেন আর যারা এখনো পান নি তাদের জন্য। এন্টি এয়ার ক্রাফট গান শুধু বিমান, হেলিকপ্টার বা ড্রোন ধ্বংস করে না সেই সাথে ছোট টার্গেট কেউ ধ্বংস করতে সক্ষম।
আর রকেট বা মর্টার শেল মত ছোট টার্গেট ধ্বংস করতে কোটি কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবহার করা বোকামি। যেখানে একটি রকেট শেল এর মুল্য কয়েশ ডলার সেখানে একটি মিসাইলের মুল্য কয়েক হাজার এমনি লক্ষ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে তো মশা মারতে কামানের কই দরকার। আর লো ফ্লাইং এর টার্গেট এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র MANPAD বা শর্ট রেঞ্জ স্যাম এর উপর ভরসা করা যায় না। আধুনিক বিমান গুলো যে পরিমান কাউন্টার মেজার সিস্টেম ব্যবহার করে ততে মিসাইল কে ফাকি দেয়া খুব কঠিন নয়। কিন্তু এন্টি এয়ার গান কে ফাকি দেয়া যথেষ্ট কষ্টকর।

বলতে পারেন এন্টি এয়ার ক্রাফট গানও তো ধ্বংস করা যায়।। হা অবস্যই করা যায় সেই ক্ষেত্রে একে খুজে বের করা লাগবে। আর তা বের করা যায় এর রেডার FCR রেডার সিগ্নেচার থেকে। কিন্তু জিডিএফ-০০৯ এর রেডার এবং সফটওয়ার এমন ভাবে তৈরী যা ফলে এর রেডার এর ৩৫মিমি এর গান সিস্টেম থেকে ৫০০ মিটার দূরে রেখে কাজ করা সম্ভব তাই। বিমান থেকে রেডার খুজে পেলেও ৩৫মিমি গান কোথায় লোকানো তা বিমানের পক্ষে বের করা যথেষ্ট কষ্টকর। আর গান সাইডে অপ্টিকাল ট্রাকার থাকায় রেডার ধ্বংস হলেও কোন সমস্যা হয় না।

ধন্যবাদ সবাইকে !

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: