একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সহ অনেক কিছুই সীমান্তের উপর নির্ভর করে। যে দেশের সীমান্ত যত বেশি সুরক্ষিত সেই দেশের অবস্থান তত মজবুত। আর এর জন্য পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ সীমান্ত রক্ষা বা সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশের সরকার গুলো সীমান্ত সুরক্ষা বিষয় নিয়ে সেই স্বাধীনতার পর থেকেই উদাসীন বলা চলে এর প্রধান কারন ছিলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। অ-মীমাংসিত সীমান্ত ভূমি [যা বিগত কয়েক বছরে সমাধান হয়েছে] ও দেশের অর্থনীতি উন্নত না হবার ফলে স্বাধীনতার এত বছরেও সীমান্তরেখা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া ও রিং-রোড নির্মান সম্ভব হয়নি, যা একটা সুরক্ষিত সীমান্ত ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গ। আজ আলোচনা করবো কিভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত ও বিজিবি সীমান্ত হত্যা বন্ধ্যে করা যায় এবং কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেই বিষয়ে।

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী এই “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ” এর সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিয়ে বর্তমান সময় অব্দি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। দেশের ৪,৪০০+ কিঃমিঃ সীমান্ত রেখার সুরক্ষার দায়ভার রয়েছে বিজিবির হাতে। তাই এই বাহিনীর ব্যাপক আধুনিকায়ন প্রয়োজন। প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম ও তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অনুধাবন করে সঠিক প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিম্নক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে……

  •  আমাদের দেশের ৭০% সীমান্ত ই স্থলভূমি, তাই প্রতিবেশী দেশদুইটির সাথে যৌথভাবে সমন্বয় করে উন্নত ফেন্সিং ও রিং-রোড নির্মান করতে হবে, এর ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ যেমন বন্ধ হবে তেমনি বিজিবি খুব সহজে টহল দিতে সক্ষম হবে বিভিন্ন ভেহিকেল ব্যবহার করে। সীমান্ত হত্য প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে এই সিদ্ধান্তের ফলে।

বিজিবি এর ছবির ফলাফল

  •  সীমান্তে যে পরিমাণ বিওপি আছে তা প্রয়োজনের ৪০-৪৫ শতাংশ তাই সীমান্তে বিওপি সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ, নজরদারির জন্য উঁচু অধিক “ওয়াচ টাওয়ার” নির্মান ও সেখানে স্নাইপার মোতায়েন। এর ফলে বিজিবির সীমান্তে নজর রাখা সহজ হবে।
  •  সীমান্তে টহল দেবার জন্য হালকা Typhoon MRAP/EQ-2050 HUMVEE জাতীয় আর্মারড ভেহিকেল সহ বিভিন্ন টহল ভেহিকেলের পর্যপ্ত ব্যবস্থা করা, আকাশ থেকে নজর রাখা ও দ্রুত বিপদসংকুল পরিস্থিতে ট্রুপস মোতায়েন ও এয়ার সাপোর্ট এর জন্য Mil Mi-171SH & Bell-206/212 জাতিয় হেলিকপ্টার ও রিকন-ড্রোন এর ব্যবস্থা করা এবং সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে অপারেশনাল রাখা।
বিজিবি হেলিকপ্টার এর ছবির ফলাফল

বিজিবির বহরে হেলিকপ্টার সংযুক্তি ব্যাপক প্রয়োজন

  •  বিজিবি এর অস্ত্রশস্ত্র গুলো অনেক পুরনো আমলের ও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, সাথে বিজিবির অস্ত্র ভান্ডারে ভারি অস্ত্র ও নেই। তাই বিজিবি কে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র প্রদান, 105-120mm এর টাওয়েড আর্টিলারি অস্ত্রভান্ডারে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার আউট পোষ্ট গুলোতে RPG-29/30 & MANPADS SAM রাখা যাতেকরে বিপদসংকুল পরিস্থিতি তে প্রয়োগ করা যায়।
  •  উপরোক্ত ব্যবস্থা গুলো যখন থাকবে তখন সবচাইতে বেশি প্রয়োজন হবে উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, এর জন্য বৃহৎ আকারে বিজিবি ট্রেনিং একাডেমীর ব্যবস্থা করা, যেখানে উন্নত প্রশিক্ষণ, ওয়েপন্স ট্রেনিং, শিক্ষা ও দায়িত্ববোধ এর এমন ব্যবস্থা করা যাতেকরে প্রতিটি বিজিবি সদস্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিস্থার পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থার ভিত গড়তে সক্ষম হয়। একই সাথে বিদেশী সীমন্ত রক্ষী বাহিনী গুলোর সাথে মহড়া ও অভিজ্ঞাতা বিনিময়ের মাধ্যমে আরো চৌকশ ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলা যাতে করে বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে এই ফোর্স দ্রুত ডেপ্লয় করা যায়।
Image may contain: one or more people and outdoor

বিজিবির প্রশিক্ষন বিশ্বমানের

  • সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আলাদা ইন্টেলিজেন্স শাখার ব্যবস্থা করা এবং সহজে তথ্য আদানপ্রদান ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি বিজিবি,কোস্ট গার্ড ও পুলিশের ভেতর সহজে তথ্য আদানপ্রদান এর ব্যবস্থা করা। এতে করে তারা সমন্বিত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
  • সীমান্তে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ বিওপি তে ইলেক্ট্রিসিটি নেই সেখানে ইলেক্ট্রিসিটির ব্যবস্থা করতে হবে এবং সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ যায়গা গুলোর রিং-রোড বরাবার ইলেক্ট্রিক বালব দ্বারা রোডলাইন সংযোগ দিতে হবে। এর ফলে বিওপি গুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরালো হবে।
  •  কিছু দুর্গম সীমান্ত এলাকা রয়েছে যেখান দিয়ে মাদক ও অস্ত্রশস্ত্র দেশে প্রবেশ করে সেই সকল এলাকাজুড়ে মোশন ডিটেক্টর ও ওয়াচ টাওয়ার এর পাশাপাশি থার্মাল ক্যামেরার ব্যবস্থা করা।
  •  প্রতিবেশী দেশ গুলোর সাথে যৌথভাবে লিয়াজো অফিস গড়ে তুলা, এতে করে সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত হবার পাশাপাশি যে কোন ছোটখাটো সমস্য লিয়াজো অফিসের মাধ্যমে সমাধান করা।
  •  সীমান্ত বিওপি গুলোর থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে যাতে সীমান্ত প্রহরী রা সীমান্তে দায়িত্ব পালন করার সময় অন্য সকল সমস্যার সম্মুখীন না হয়।উল্লেখিত পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করলে দেশের স্থল সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে বলে মনে করি।এছাড়া বিজিবিকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে,কোনপ্রকার হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: