ঘটনার সূত্রপাত এক মায়ানমারের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী দলের কারনে। সংগঠন টির নাম রোহিংগা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমার আর্মির ওপর আচমকা হামলা করে যার ফলে চার মায়ানমারের সেনাসদস্য নিহত হয়। এরপর মায়ানমান ব্যাপক ভাবে ফুসে উঠে ও বাংলাদেশ সীমান্তে শক্তিবৃদ্ধি করে।
.
কিন্তু,তারা এটা মেনে নেয় না যে এই হামলা তাদের অক্ষমতা বিদ্রোহ দমনে। তারা দোষ চাপিয়ে দেয় বাংলাদেশের ওপর। তারা দাবী করে,বাংলাদেশী ভু-খন্ড ব্যবহার করে আরএসও সদস্য রা এ হামলা চালিয়েছে তথা বাংলাদেশের মদদ আছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা অস্বীকার করে ও বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এদেশের পাহাড়ে যা লুকিয়ে বা অন্য পন্থায় ছিল তারাও বিতাড়িত হয় স্বল্প সময়ের মধ্যেই।

কিন্তু মুল সমস্যা আরএসও না,এই ঘটনার কিছুদিন পরেই ২০১৪ সালের ২৯ মে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির ওপর অতর্কিত আক্রমন করে ও বিজিবির নায়েক মিজান কে অপহরন করে। উভয় পক্ষেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় সীমান্তে শক্তিবৃদ্ধি করে। এর পরের দিন জানা যায় নায়েক মিজান বিজিপির হাতে নিহত হয়েছেন। কূটনৈতিক প্রচেস্টায় সিদ্ধান্ত হয় যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নায়েক মিজানের লাশ ফেরত দিবে মায়ানমার।

হঠাৎ তাদের আগ্রাসী হওয়ার কারন হিসেবে যা অনুমান করা যায় তাহল,২০১৪ এর সেসময় নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফে ইয়াবা স্মাগলিং কঠোর হস্তে দমন করাতে বার্মিজ বিজিপিদের আয় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় ( বুঝেন ই তো তাদের অন্যতম আয়ের উৎস ইয়াবা ) পাশাপাশি সে অঞ্চলে আরো নতুন পাচটি বিজিবি বিওপি স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এই ঘটনার সাথে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের ও যোগসাজশ থাকতে পারে তারা শুরু থেকেই এর বিরোধীতা করছিল ফলে সীমান্তে বিজিবি-বিজিপি উত্তেজনা ছিল ১৩ ই মে থেকেই।

বিজিবি চাচ্ছিলো ৫০ নং পিলারের কাছে এই ফ্লাগ মিটিং হোক। অন্যদিকে মিয়ানমার জানায় তারা এ ফ্লাগ মিটিং করবে ৫২ নং পিলারের দিকে। ৫২ নং পিলারের এলাকাটি অত্যন্ত দূর্গম একটি এলাকা। বিজিবি উভয় অপশন ই খোলা রাখে,৫০ নং ও ৫২ নং পিলার উভয়ে স্থানে প্রতিনিধি দল পাঠায়। ৫০ নং পিলারের এলাকায় কোন এক্টিভিটি দেখা যায় নি। বিজিবির যে দলটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত আনতে গিয়েছিল তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ আলী যিনি চট্টগ্রাম এর রিজিওনাল কমান্ডার ছিলেন। এছাড়াও তার সাথে আরো সিনিওর অফিসার কর্নেল ফরিদ হাসান,লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিক প্রমুখ ছিলেন।

৫২ নং পিলারের নিকট পৌছাতেই বিজিবির টিমের ওপর মায়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপির যৌথ ভাবে আক্রমন চালায় তাদের ওপর। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলিবর্ষন শুরু করে। প্রায় পাচ ঘন্টা উভয় পক্ষে গোলাগুলি চলে। উভয় পক্ষ হতেই মর্টার,রকেট লঞ্চার ও হেভী মেশিন গান ব্যবহার করা হয় এ সংঘর্ষে


নানান সূত্রমতে,মর্টার শেলের আঘাতে ৬ জন বার্মিজ সেনা নিহত হয়। এর মধ্যে দুইজন ছিল অফিসার। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়,তারা প্রায় ১২-১৩ জনের বার্মিজ লাশ পড়ে থাকতে দেখেছে। যাই হোক নিহত সংখ্যা সব সময়েই একটু কমিয়ে বলা হয় যেমন টা আমরা দেখেছি ২০০১ ও ২০০৫ এ।
.
এই ঘটনার পর মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌছায়। মায়ানমার তাদের সীমান্তে আর্টিলারি ব্রিগেড সহ বিপুল পরিমান সেনা মোতায়েন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও বিজিবি মোতায়েন করে। রহমান কে ফেরত দিলে তার যথাযথ রাস্ট্রীয় সম্মানের সাথে দাফন করা হয়। কিন্তু অনেক দিন বার্মিজ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের বিজিবি অ্যালার্ট পজিশনে ছিল। বাংলাদেশের তরফ হতেও কিছু সেনা মোতায়েন ছিল।একপ্রকার যুদ্ধের আশংকা থাকলেও ধীরে ধীরে উত্তেজনা প্রশমিত হয় ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর এসকল কীর্তি চাপা পড়েই থাকে। কক্সবাজার বা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বর্ডারে বিজিবির সাথে বিভিন্ন সংঘর্ষের কথা অল্প কিছু জানতে পারলেও দেশের মিডিয়ায় তা আসতে দেওয়া হয় না। এমনকি ২০১৪ সালের এ ঘটনাটিও এখন ওয়েবে সার্চ দিলে তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। ওই সংঘর্ষের পর প্রেস ব্রিফিং এ রিজিওনাল কমান্ডার সৈয়দ আহমেদ আলীর দেওয়া বক্তব্য হতেই এ সংঘর্ষের ব্যাপারে ধারনা লাভ করা যায়। দেখুন ভিডিওটি।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: