বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ত্রিমাতৃক বাহিনী হিসাবে আত্মপ্রকাশ এর শুরু টা হয় চায়নার তৈরী করা টাইপ-৩৫জি সাবমেরিন দিয়ে। এই ক্লাসের সাবমেরিন গুলো মুলত সোভিয়েত ইউনিয়নের রোমিও ক্লাস সাবমেরিন এর চাইনিজ আপগ্রেড ভার্ষন যার স্ট্রাকচার ১৯৬০ এর দশকের ডিজাইন এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়। আমরা সবাই জানি যে এই সাবমেরিন গুলো পুরানা প্রযুক্তির উপর নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এনে বানানো আর আমরা যে সাবমেরিন দুইটি ক্রয় করেছি সেগুলোও ১৯৯০ এর পরে বানানো মোটামোটি ২০ বছরের পুরানো। যেহেতু এই সাবমেরিন গুলো কে আমাদের নৌবাহিনী ট্রেনিং এর কথা চিন্তা করে বিশেষ ভাবে ক্রয় করেছে সেহেতু এটি পুরানো কিনা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত।কারন এই গুলো থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষন আর অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের ভবিষ্যৎ সাবমেরিন যুক্ত করা হবে।একটি দেশের সাবমেরিন সেই দেশের জন্য একটি কৌশলগত অস্ত্র তাই কোন দেশ তার সাবমেরিন নিয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করে না। তবে কিছু তথ্য যা প্রকাশ করার সাথে নিরাপত্তা ঝুকি নেই সেরকম কিছু তথ্য আজকে আলোচনা করবো।

আমাদের নৌবাহিনীর দুইটি সাবমেরিন বিএনএস নবযাত্রা এবং জয়যাত্রা আমাদের বহরে যুক্ত হবার আগে এতে বেশ কিছু আপগ্রেড করা হয়। যার ফলে এটির কার্যকারীতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমেই আলোচনা করবো এর সার্ফেস সার্চ রাডার সম্পর্কে।

টাইপ-৩৫জি ডিজেল ইলেক্ট্রিক্যাল সাবমেরিন এর রাডার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে MRK-50 Topol পালর্স রিফ্লেক্স রাডার যার একুরেসি রেঞ্জ ৩৭.৫ কিমি। সাবমেরিন স্নরকেল করা অবস্থায় এই রাডার ব্যবহার করা যায় তাই শত্রু এর খুব কাজে চলে গিয়ে শত্রুর অবস্থান নির্নয় করতে তেমন অসুবিধা হয় না। বর্তমান যুদ্ধ জাহাজ গুলোতে যেসব সোনার রয়েছে সেগুলো কম বেশি ২৫-২৭ কিমি পর্যন্ত দূরত্বে সাবমেরিন খুজে বের করতে সক্ষম। তাই টাইপ-৩৫জি সাবমেরিন এর ক্ষেত্রে মোটামোটি ৩০ কিমি দূরত্ব বজায় রেখে শত্রু জাহাজের উপর নজর রাখতে পারে সম্পূর্ন স্টীলথ থেকে। এখন কথা শত্রু জাহাজের রাডার ওয়ার্নিং সিস্টেম দ্বারা একে ডিটেক্টকরা সম্ভব কিনা। জ্বি অবশ্যই সম্ভব তবে তার জন্য; সেই সিস্টেম টিকে অবশয়ই সর্বনিন্ম 25db থেকে1khz এর ফ্রিকোয়েন্সি ট্রাক করার মত সক্ষম হতে হবে।; অধিকাংশ রাডার ওয়ার্নিং সিস্টেম 2khz এর নিচে তরঙ্গ গ্রহন বা ডিটেক্ট করতে পারে না। আর পারলেও তার অন্যান্য; সাধারন ফ্রিকোয়েন্সির সাথে মিলিয়ে ফেলে। তাই এই রাডার এর পালস থেকে একে ডিটেক্ট করা কঠিন।

এবার আলোচনা করছি এর সোনার ব্যবস্থা নিয়ে যা যেকোন সাবমেরিন এর জন্য। তার কান হিসাবে কাজ করে।; টাইপ-৩৫জি তে এক্টিভ এবং প্যাসিভ মোটট দুইটি সোনার রয়েছে। এর এক্টিভ সোনার হিসাবে আছে এইচ/এসকিউ২-২৬২সি সোনার যা ফ্রান্সের পাইকজ ১০০এমজি সোনার এর উপর ভিত্তি করে চীনা প্রযুক্তির সমন্বয়ে বানানো। প্রথমে এক্টিভ সোনার কিভাবে কাজ করে; এক্টিভ সোনার মুলত পালস ডপ্লার রাডার এর মত। এটি পানির নিচে একটি নিদিষ্ট দিকে টার্গেট করে শব্দ তরঙ্গ নিক্ষেপ করে। অই শব্দ তরঙ্গ পানির বিভিন্নত উচ্চতায় থাকা বিভিন্ন অবজেক্ট এর গায়ে ধাক্কা খেয়ে আবার সাবমেরিন এর রিসিভার এ ফেরত আসে।

এই আসা যাওয়ার মাঝে সময়ের পার্থক্যকে প্রতি সেকেন্ড হিসাবে একটি নিদিষ্ট দূর্ত্ব হিসাবে কাউন্ট করা হয় এবং সেই গননার ভিত্তিতে তার অবস্থান, পানি গভীরতা, দূরত্ব এবংগতি বিধি নিশ্চিত করা হয়। এর একটি সমস্যা আছে এটি থেকে প্রেরন করা শব্দ তরঙ্গ শত্রু জাহাজ কে সাবমেরিন এর অবস্থান সম্পর্কে সাবধান করে দেয়।আমাদের টাইপ-৩৫জি সাবমেরিনে যে এইচ/এসকিউ২-২৬২সি সোনার ব্যবহার করা হয়েছে তার রেঞ্জ সম্পূর্ন গোপন।আমার সামান্য রিসার্চ এ যতটুকু জানতে পেরেছি নিরাপত্তার সার্থে তা এখানে উল্লেখ করা যুক্তি যুক্ত মনে করছি না।তবে পূর্ববর্তী ভার্ষন যা -ফ্রান্স ব্যবহার করে তার রেঞ্জ ৫.৭ কিমি প্রায়। চীন একে আপগ্রেড করে এর রেঞ্জ এবং এক্যাুরেসি বৃদ্ধি করেছে।

আমাদের সাবমেরিন এর ২য় আরেকটি প্যাসিভ সোনার রয়েছে; যা ফরাসি ডীইউইউএক্স-৫ প্যাসিভ সোনার এর চীনা সংস্করণ। প্যাসিভ সোনার সম্পূর্ন স্টীলথ মোডে কাজ করে এটি মুলত আমাদের কানের মত সমুদ্র তল দেশে এটি সাবমেরিন এর আসে পারের শব্দ গ্রহন করে। মুলত শত্রু জাহাজের প্রপেলার এবংপ্রবাহের কারনে জলে যে আলোড়ল সৃস্টি হয় সেই আলোড়ন কে ট্রাক করে জাহাজ কে নজরদারীতে রাখা প্যাসিভ সোনার এর মুল কাজ এর ফলে এর ডিটেক্ট হবস্র সম্ভাবনা থাকে। এক্টিভ সোনার একবার শত্রু জাহাজের অবস্থান জানার পর সাবমেরিন কে প্যাসিভ মোডে নিয়ে যাওয়া হয়। গোপনীয়তার সার্থে এর রেঞ্জ উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

 

সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই জটিল প্রক্রিয়া।আমাদের সাবমেরিন গুলোতে যোগাযোগের জন্য রয়েছে একটি ম্যাগনাভোক্স স্যাটন্যাভ সিস্টেম যা একটি স্যাটেলাইট নির্ভর গ্লোবাল প্রজিশনিং সিস্টেম এবং নেভিগেশন সিস্টেম এর সমন্বয়ে তৈরী.

Writer

Saurav Datta

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: