বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য রাশিয়ান ফ্লাইং ট্যাংক MI-35 অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এয়ারফোর্স তথা বাংলাদেশের প্রথম ডেডিকেটেড অ্যাটাক হেলিকপ্টার হতে যাচ্ছে এটি। সূত্রমতে যদ্দুর জানা গিয়েছে খুব শীঘ্রই দুদেশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে চুক্তি সাক্ষর করবেন যা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। ৮-১২ টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
.
Mil Mi-35 হচ্ছে একটি মাল্টিরোল এট্যাক হেলিকপ্টার,মাল্টিরোল এই কারনে যে এটি একইসাথে অ্যাট্যাক মিশন যেমন পরিচালনা করতে পারে তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রে ৮ জন সৈন্য বা রশদ পৌছে দিতে সক্ষম। Mi-35M হচ্ছে Mi-24V এর ব্যাপক আধুনিকীকরণ এর সমষ্টি বা Mi-24V এর উন্নত ভার্সন হচ্ছে Mi-35M,, এটি আবার Mi-24 এর এক্সপোর্ট ভার্সন ও বটে। মজার ব্যাপার হলো এটিকে “ফ্লাইং ট্যাঙ্ক” ও বলা হয় এর অস্ত্র বহনে সক্ষমতা দেখে। Mil Mi-35 এর প্রডাকশন শুরু হয় ২০০৫ সালে

Mi-35M এর বৈশিষ্ট্য:-

Mi-35M কে মূলত ডেভেলপড করা হয়েছে Mi-24 থেকে। Mi-35M এ কিছুটা ইম্প্রুভমেন্ট করা হয়েছে,যেমন এতে তুলনামূলক ছোট উইংস যুক্ত করা হয়েছে,,নুতুন রোটার সিস্টেম, উন্নত এভিওনিক্স,আপগ্রেডড টার্বোস্যাফট ইঞ্জিন এবং হাইড্রলিক সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এর ককপিট এবং অত্যাবশ্যক উপাদান সমূহ গুলো উল্লেখযোগ্যভাবে আর্মড অর্থাৎ এর উল্লেখযোগ্য স্থান গুলো বিশেষ ভাবে সুরক্ষিত।
.
Mi-35M এর সামগ্রিক দৈর্ঘ্য ২১.৬ মিটার এবং উইংস্প্যান ৬.৫ মিটার আর উচ্চতা ৬.৫ মিটার। এটি সর্বোচ্চ ১২,০০০ কেজি ওজন বহন করে উড়তে সক্ষম। এটি ৮ জন সৈন্য বা ২,৪০০ কেজির পেলোড বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৩১০কি:মি:। এটি সর্বোচ্চ ৫,৪০০ মিটার উচ্চতায় উড়তে পাড়ে এবং এই অ্যাটাক হেলিকপ্টার টির কম্ব্যাট রেঞ্জ ৪৬০ কি:মি:।
.
Mi-35M এর রয়েছে ২ আসনের গ্লাসকপিট এবং যেখানে ২ জন(পাইলট+গানার) এর জন্য টেনড্যাম কনফিগারেশন এ বসার ব্যাবস্থা রয়েছে অর্থাৎ এক জন সামনে এবং অপর জন পিছনে তুলনামূলক উপড়ে বসে। এতে আরো রয়েছে Night vision goggle-Compatible Cockpit Integrates Multi-Functional Displays, Redundant flight controls এবং State-Of- The-Art avionics(রাশিয়ার সবচাইতে উন্নত এভিওনিক্স ব্যাবস্থা)। এই এট্যাক হেলিকপ্টার টিকে সজ্জিত করা হয়েছে OPS-24N Surveillance-And-Sighting station, ১ টি Television Channel, ১টি GPS-guided navigation system এবং ১ ট Optional non-Russian radio station(যে দেশ কিনবে তারা তাদের দেশের মত করে সাজিয়ে নিতে পারবে)।

অস্ত্রশস্ত্রসমূহ:-

Mil Mi-35M এ রয়েছে ১টি দুই-ব্যারেল যুক্ত GSh-23V 23mm cannon চেইন-মাউন্টেড টারেট, যেটায় ৪৫০-৪৭০ রাউন্ড এমুনেশন্স থাকে। এই GSh-23V ৩,৪০০-৩,৬০০ রাউন্ড প্রতি মিনিট ফায়ার করতে পারে। এর স্টাব উইংস বিভিন্ন রকম এন্টি-ট্যাঙ্ক-মিসাইল,,গাইডেড/নন-গাইডেড রকেটস পডস, গান পডস এবং ফুয়েল ট্যাংক বহনে সক্ষম।
.
অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় ১টি Mi-35M এ থাকে

  • ৮টি 9M114 or 9M120 Ataka-V SACLOS Radio Guided Anti-Tank-Missiles.আরো থাকে
  • ৮০+ ‘S-8’ 80mm unguided rockets এবং
  • ২০টি ‘S-13’ ধরনের 122mm unguided Aircraft Rockets.

প্রতিরোধ ব্যাবস্থা:- Mi-35M তে প্রতিরোধ বা সুরক্ষা ব্যাবস্থার মধ্যে রয়েছে Radar Warning Receiver, ১টি Laser Range Finder এবং ১টি Location Finder, আরো রয়েছে Chaff and Flare Launch System, Infrared Jamming System and Engine-Exhaust IR suppressor.

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে রাশান উড়ন্ত ট্যাংক Mil MI-35 এর পাশে বাংলাদেশ আর্মির একজন ক্যাপ্টেন৷ আগামী বছর বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের পাইলটদেরও একই পোজে দেখতে পাবেন

নি:সন্দেহে এটি বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের সক্ষমতা বহুগুনে বৃদ্ধি করবে। এই ফেব্রুআরি মাসেই ডিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর তা হলে ২০১৯ এ বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে MI-35. কিন্তু এগুলো কিনা হচ্ছে মূলত ইউএন মিশনের জন্য,তাই দেশে কয়েকটা থাকলেও অধিকাংশই জাতিসংঘের মিশনে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

Facebook Comments

2 Comments

সানি লিওন · January 21, 2018 at 5:07 pm

সেই

Al Jaim Pappu · January 23, 2018 at 2:42 pm

ভালো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: