শক্তি সঞ্চার বাংলাদেশ আর্মির প্রথম দেশী মেইড এলসিটি তথা ল্যান্ডিং ক্রাফট ফর ট্যাংক৷দেশের জাহাজ শিল্পের অগ্রগামী রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ড এর নির্মাতা৷ জলপথে ট্যাংক, এপিসি, আর্মার্ড ভেহিকল এবং ট্রুপস পরিবহন ও মোতায়েনের জন্য এই শক্তি সঞ্চার ক্লাস এলসিটি আর্মি ব্যবহার করে৷ এর ওয়ার্কিং রোল হলো মূলত এমফিবিয়াস ওয়ারফেয়ার৷ শ্যালো ওয়াটারে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে তৈরী এই শক্তি সঞ্চার ক্লাস এলসিটি খুব সহজেই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে লজিস্টিক সাপ্লাইয়ের কাজ করে থাকে৷ আকারের হিসাবে এটির দৈর্ঘ্য ৬৮.৫ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং গভীরতা ৩.৮ মিটার৷ শক্তি সঞ্চার ক্লাস এলসিটির ধারণক্ষমতা ব্যাপক৷ এটি একসাথে ৪৫৫ টন সাপ্লাই বহন করতে পারে৷ এটি একসাথে ৯ টি ট্যাংক বা ১২ টি এপিসি বহন করতে পারে৷ এছাড়াও ১৫০ জন ট্রুপস ও ৪৫ জন ক্রুও বহন করে এটি৷ এতে একটি হেলিকপ্টার ডেকও রয়েছে৷ শক্তি সঞ্চার ক্লাসের একটি ইউনিক বৈশিষ্ট্য হলো এতে কেবল সামনে পিছনে নয়, দুই পাশেও ভেহিকল এবং ট্রুপস নামানোর ব্যবস্থা আছে৷ নর্মাল এলিসিটিতে কেবল সামনের দিকে নামানো গেলেও শক্তি সঞ্চারে চারদিকেই এই সুবিধা পাওয়া যায়৷ আকার-আকৃতিতে বিশাল এবং ব্যাপক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই এলসিটির মূল চালিকাশক্তি হলো এর দুটো ৬০০ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন এবং দুটো ৫০ কিলোওয়াট জেনারেটর৷ এগুলোর সাহায্যে এই এলসিটি ফুল পেলোডে ১৮ নট গতিতে চলাচল করতে পারে৷ এর প্রটেকশনের জন্য এর প্রতি পাশে একটি করে মোট দুটি হেভী মেশিনগান রয়েছে৷ বাংলাদেশ আর্মি বর্তমানে তিনটি শক্তি সঞ্চার ক্লাস এলসিটি ব্যবহার করে৷

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: