পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনীর সৃষ্টি করা অশান্তির এলাকায় বছরের পর বছর শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছে বাংলাদেশ আর্মি৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি এবং সাধারণ উপজাতীয়দের শান্তি বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার জন্য স্বাধীনতার পরপরই সেনাসদস্যরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েন৷বাংলাদেশ আর্মির পার্বত্য চট্টগ্রামে করা ইনসার্জেন্সি অপারেশন অতি দরকার ছিল, কিন্তু তাও কিছু সুশীল নামক দালালরা এর বিরোধিতা করেন। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেলের রাজাদের এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে অবস্থান এটা নিশ্চিত করেছিলো যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে সেনা হস্তক্ষেপ না করলে হয়তো দেশের নয়নাভিরাম এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা অঞ্চলকে অচিরেই হারাতে হতে পারে৷ সেই অপপ্রচেষ্টাকে বানচাল করতেই ১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট সর্বপ্রথম বাংলাদেশ আর্মিকে মোতায়েন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অন্চলে৷ এবং প্রায় এক বছর পরে ৯ আগস্ট, ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাকে অপারেশনাল এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই এলাকায় কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশন পরিচালনা করা হয়৷ তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অপারেশনের সূচনা ১৯৭৬ সালে হলেও অপারেশন মেইনলি শুরু হয় ২০ মার্চ, ১৯৭২ সাল থেকে৷ সেই থেকে শুরু হয় শান্তি বাহিনীর জঙ্গিদের হটিয়ে চট্টগ্রাম বাঁচানোর জন্য অপারেশন যা এখনো চলছে৷

আজ আমরা জানবো এ পর্যন্ত হওয়া কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশনগুলোর নাম এবং কখন হয়েছিলো সেই তথ্যগুলো৷ ১. অপারেশন বাঘের থাবা (২০ মার্চ, ১৯৭২ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ পর্যন্ত) ২. অপারেশন আয়রন ফিস্ট (২২ জানুয়ারী, ১৯৭৪ থেকে ৫ আগস্ট, ১৯৭৫ পর্যন্ত) ৩. অপারেশন ড্রাগন ড্রাইভ (৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ থেকে ১১ আগস্ট, ১৯৭৫ পর্যন্ত) ৪. অপারেশন ডিগ আউট (৬ আগস্ট, ১৯৭৬ থেকে ৩০ জুন, ১৯৭৭ পর্যন্ত) ৫. অপারেশন ট্রাইডেন্ট (১৫ জুলাই, ১৯৭৭ থেকে ৩১ মার্চ, ১৯৭৯ পর্যন্ত) ৬. অপারেশন পাঞ্চিং টাইগার (১ এপ্রিল, ১৯৭৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ পর্যন্ত) ৭. অপারেশন দাবানল (১ জানুয়ারী, ১৯৮৮ থেকে ৩১ জুলাই, ২০০১ পর্যন্ত) ৮. অপারেশন উত্তরণ (১ আগস্ট, ২০০১ থেকে এখনও চলমান) এসব অপারেশনে হাজার হাজার শান্তি বাহিনীর জঙ্গি আর্মির হাতে নিহত হয়৷ একই সাথে অনেক সেনাসদস্যও শহীদ এবং আহত হন৷ আজ তাদের ত্যাগেই পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে৷ কিন্তু খারাপ লাগে তখন যখন দেখি যে তথাকথিত প্রগতিশীল এবং সুশীল নামধারী পেইড দালালরা চট্টগ্রামে সেনা অপসারণের দাবি জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত সন্ত্রাসীর নামের আগে ‘নিরীহ ছাত্র’ উপাধি লাগিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন৷ ধিক্কার জানাই এসব টাকাখোর দালালদের৷ পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পত্তি, হোক সেটা ১০০০ বছর পরে৷

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: