বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বর্তমানে সেল্ফ প্রপেলড গান বা সংক্ষেপে এসপিজি রয়েছে সার্বিয়ার তৈরি আধুনিক নোরা বি-৫২। তবে এটিই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম এসপিজি নয়। এর আগেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এসপিজি ছিলো এবং সেটা বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার রাই মডিফাই করেছিলো চাইনিজ ট্যাংক টাইপ ৬২ হতে।

১৯৯৯ সাল৷ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের  পর ২৪ বছর পার হয়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের বৈজয়ন্তী ট্যাংককে অবসরে পাঠালো৷ সার্ভিসে আনলো রাশান টি-৭২৷ অবসরে পাঠালেও বৈজয়ন্তীকে তারা স্ক্র্যাপ করলো না৷ বরং তাতে কনভেনশনাল হাউইটজার যোগ করে তৈরী করলো সেল্ফ প্রপেল্ড গান যার নাম দেয়া হলো ক্যাটাপাল্ট৷ ভারতের এই আইডিয়া দেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও অনুপ্রাণিত হলো৷

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুরনো টাইপ ৬২ ট্যাংক

তখনকার সময় পুরোনো বাংলাদেশ আর্মির পুরোনো টাইপ-৬২ ট্যাংকগুলোকে রিপ্লেস করা হচ্ছিলো৷ ওটাকেই কাজে লাগানো হলো৷

বাংলাদেশ আর্মি ১২২ মি.মি কামান ব্যবহার শুরুর ফলে করার ফলে ১০৫ মি.মি প্যাক হাউইটজার অতিরিক্ত ছিলো বাংলাদেশের কাছে। এখান থেকে একটি ১০৫ মিমি এল-১০এ-১ প্যাক হাউইটজার সংগ্রহ করা হলো৷ টি-৬২ টারেটকে মডিফাই করা হলো চীনের সহযোগিতায়৷ মূলত টি-৬২ আর টি-৫৯ এর বডি সেইম হওয়ায় আমাদের ইনভেন্টরীতে স্পেয়ার পার্টসের অভাব ছিলো না৷ আর টি-৫৯ এর ইন্জিনও ছিলো টি-৬২ এর চেয়ে পাওয়ারফুল৷ তাই যোগ করা হলো টি-৫৯ এর ইন্জিন, বাড়লো হর্সপাওয়ার৷ টি-৬২ এর ৮৫ মিমি মেইন গানের জায়গায় বসলো ১০৫ মিমির হাউইটজার৷ এভাবেই দেশে তৈরী হলো আমাদের প্রথম সেল্ফ প্রপেল্ড গান টি-৬২৷ হ্যাঁ,মাদের প্রথম সেল্ফ প্রপেল্ড গান নোরা বি-৫২ নয়, টি-৬২৷ যদিও এটা বেশিদিন সার্ভিসে থাকেনি যুগের সাথে অচল বলে৷

তবুও সেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইন্জিনিয়ারদের শুরুর দিকের এক সাফল্য বলা যায় যদিও তা সার্ভিসে রাখা যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার রা পুরাতন টাইপ ৫৯ ট্যাংককে মডিফাই করে আধুনিক টাইপ ৫৯ দূর্জয় ট্যাংকে রূপান্তর করেছেন।

Facebook Comments

2 Comments

Al Jaim Pappu · April 13, 2018 at 3:27 pm

ওয়াও

palash · April 15, 2018 at 1:24 pm

good

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: