বাংলাদেশের মান্যনীয় প্রধানমন্ত্রী কদিন আগে একটি ভাষনে ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ক্রেতা নৌবাহিনী হতে নির্মাতা নৌবাহিনীতে পরিনত করা হবে অর্থাৎ নৌবাহিনীর সকল জাহাজ নিজ দেশেই তৈরি হবে। আইনমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই ঘোষনা দিয়ে কনফার্ম করেছেন যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিজস্ব ফ্রিগেট বানাতে যাচ্ছে। ফ্রিগেটের পরীকল্পনা অবশ্য অনেক আগে থেকেই। ইতিমধ্যেই অবশ্য চীন হতে বিশ্বের অন্যতম সেরা কর্ভেট “টাইপ ০৫৬ এর TOT ( Transfer Of Technology ) বাংলাদেশে স্বাধীনতা ক্লাস হিসেবে তৈরি হবে যা বিশ্বের অনেক ফ্রিগেট হতেও উন্নত।

যাইহোক,ফ্রিগেট এর ব্যাপার টা এখনো সম্পূর্নভাবে চুড়ান্ত নয়। ফ্রিগেট বাংলাদেশ বানাবে তা নিশ্চিত,কিন্তু তার মডেল ও ডিজাইন কিরকম হবে তা নিয়ে কিছু ব্যাপার এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। যাই হোক সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মাধ্যমে মডেল কিরূপ হতে পারে তার একটা প্রাথমিক ধারনা দেওয়ার চেস্টা করছি।

কোথায় তৈরি হবে ?

চিটাগং ড্রাই ডকইয়ার্ড

বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন অব্ধি যে জাহাজ গুলো বানিয়েছে যেমন দূর্গম ক্লাস এলপিসি, পদ্মা ক্লাস ওপিভি ইত্যাদি সবই নৌবাহিনীর “খুলনা শিপইয়ার্ড” এ। কিন্তু,খুলনা শিপইয়ার্ড এ খুব বড় আকারের জাহাজ নির্মান সম্ভব নয়,বিপত্তিটা হলো রূপসা ব্রিজ। তবে এ সমস্যার সমাধান হয়েছে অলরেডি। চট্টগ্রাম ড্রাই ডকইয়ার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। চট্টগ্রাম ড্রাই ডকইয়ার্ড কে এখন ফ্রিগেট ও কর্ভেট বানানোর জন্য প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে,এখনো সব কাজ শেষ হয়নি। এক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে কারিগরি সহ অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে।

কোন মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে?

এ মডেল টিই অফার করা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে

প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে যদি কোনো মিরাকল না ঘটে তবে আমরা চাইনিজ প্রযুক্তি ক্রয় করেই এ ফ্রিগেট বানাতে যাচ্ছি। আমাদের কোন প্রকার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় আপাতত বাইরে থেকে প্রযুক্তি ক্রয় করে এগোতে হবে। এরজন্য অনেক গুলো দেশ থেকেই প্রস্তাব ছিলো যেমন দক্ষিন কোরিয়া,সিঙ্গাপুর ইত্যাদি তবে যদ্দুর যা জানা গিয়েছে ফ্রিগেট টি তৈরি হবে চীনা শিপের ওপর বেস করে। চাইনিজ ফ্রিগেট Type-054A ও Type-57 এর একটি কম্বাইন্ড আপগ্রেডেড ভার্সন তৈরি হতে যাচ্ছে। এটি ছাড়া অন্য দেশগুলোর প্রস্তাব গ্রহন করার সম্ভাবনা শুন্যের কাছাকাছি, তাছাড়া তা হবে অতি ব্যয়বহুল। এ ভার্সনটিকে চীনে Type-054B বা Type-57-2 হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

রাডার ও সেন্সর কিরূপ থাকবে?


বাংলাদেশে তৈরি হতে যাওয়া ফ্রিগেট টির ডিজাইন চাইনিজ হলেও রাডার,সোনার, ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট চাইনিজ না হওয়ার ই সম্ভাবনা বেশি। উদাহরন হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেরা ফ্রিগেট বিএনএস বঙ্গবন্ধু কোরিয়ান উলসান ক্লাস ফ্রিগেট হলেও এতে ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ারের প্রায় সবকিছুই উন্নত ইউরোপিয়ান। বিএনএস বঙ্গবন্ধুতে যা ঘটেছে আমাদের বানাতে যাওয়া পরবর্তী ফ্রিগেটেও একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইতালির বিখ্যাত কোম্পানী লিওনার্দো ও ফ্রান্সের কোম্পানী থেলস বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে উন্নত রাডার, সোনার সহ পুরো প্যাকেজ অফার করেছে। বাংলাদেশ এর সাথে ইতালির সামরিক সম্পর্ক বর্তমানে খুবই ভালো চলছে তাই বলা যাচ্ছে আমাদের শিপের রাডার সেন্সর EW স্যুট প্রায় সবই ইউরোপিয়ান তথা ইতালির হতে যাচ্ছে। ইতালির প্রডাক্টের মান ও খুবই ভালো ও উন্নত।

অস্ত্রশস্ত্র কিরূপ থাকবে?

উন্নত ও ভারী ফ্রিগেট হিসেবে বাংলাদেশে তৈরি হতে যাওয়া ফ্রিগেট টির ফায়ারপাওয়ার অন্য যেকোন ফ্রিগেট অপেক্ষা বেশি হবে।

অ্যান্টি শিপ ও অ্যান্টি সাবমেরিন :- 

KH-35

অ্যান্টি শিপ মিসাইল হিসেবে KH-35 ক্রয়ের জন্য রাশিয়ার সাথে আলোচনা চলছে। এটি শুধু অ্যান্টি শিপ না ল্যান্ড অ্যাটাক ও করতে সক্ষম। এ মিসাইলটির রেঞ্জ ৩০০ কি.মি হলেও যেহেতু ৩০০ কি.মি বিক্রি করা যায়না তাই কিনলে এর এক্সপোর্ট ভার্সনের রেঞ্জ হবে ২৮০ কি.মি (কাগজ কলমে)। তবে ধারনা করা যায় ১৬ টির মতো KH-35 থাকবে। যদি KH-35 নাও আসে তাহলে রাশিয়ান ক্যালিবার মিসাইলটি অ্যান্টি শিপ মিসাইল হিসেবে আমাদের দেশে তৈরি ফ্রিগেট এ ব্যবহৃত হতে পারে। আর অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ারের জন্য টর্পেডো তো থাকবেই। তাছাড়া এতে ব্যবহৃত হবে উন্নত ইউরোপিয়ান সোনার তাই সাবমেরিন ডিটেক্ট করা খুব একটা কস্টকর হবে না।

এয়ার ডিফেন্স :- 

 

এয়ার ডিফেন্স হিসেবে চাইনিজ ফ্রিগেট গুলোর মতই LY-80 মিডিয়াম রেঞ্জ স্যাম এর নেভাল ভার্সন থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যদি LY-80 এর লেটেস্ট ভার্সন টা নেওয়া হয় তবে এর রেঞ্জ হবে ৭০ কি.মি। যা নি:সন্দেহে আমাদের দেশের যেকোন ফ্রিগেটের তুলনায় এ ফ্রিগেটের এয়ার ডিফেন্স কে অধিক শক্তিশালী করবে।এছাড়াও ২৪ সেলের FL-3000N মিসাইল থাকবে, যা ইনকামিং মিসাইল এবং  কাছে ও নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম।  ফ্রিগেট ১টি AW-159 হেলিকপ্টার বহন করতে পারবে।

.
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুন বৃদ্ধি করবে এ ফ্রিগেট গুলো। এখনো এ ফ্রিগেট এর নামকরন করা হয়নি। যাই নামকরন করা হোক এরকম মোট ৬ টি ফ্রিগেট দেশে তৈরির পরীকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। এটিই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম স্টেলথ ফ্রিগেট হতে যাচ্ছে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: