বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কে? শেখ মুজিব নাকি মেজর জিয়া?
.
খুবই আফসোসের সাথে বলতে হয় যে আমরা আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে এতটাই কম ধারনা রাখি যে এরকম ক্রিষ্টাল ক্লিয়ার ফ্যাক্ট নিয়েও বিতর্কের সৃস্টি হয়,এটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহার করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষক যিনিই হোন তাকে সরাসরি মেনে নেওয়া টাই ভালো,যদিও বাংলাদেশের অসুস্থ রাজনীতির ধারা চলমান থাকায় একে অপরকে দোষারোপ করতে করতে আসল ইতিহাস ই চাপা থেকে যায় বারবার।

যাইহোক,বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছে এরকম প্রথম ইঙ্গিত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান,৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এর মাধ্যমে। ছাত্র রা ট্রেইনিং নেওয়া সহ অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে তখন থেকেই,যদিও তা অল্প পরিসরে। সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে,তখনো অব্ধি মেজর জিয়াউর রহমান is a nobody.

২৫ ই মার্চ ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইটের নামে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গনহত্যা চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কে,তা তিনি নিজেও জানতেন। গ্রেফতার হওয়ার আগেই নেতাকর্মীদের কিছু দিক নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবার আসি স্বাধীনতার ঘোষনা প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ই মার্চ পালন করা হয়। ২৬ ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়াতে ২৬ ই মার্চ স্বাধীনতা দিবস,খুবই সহজ সমীকরন। তারিখের দিকে খেয়াল করলেই এই বিতর্ক মিটে যাওয়ার কথা।

৭ই মার্চের ভাষণ এর ছবির ফলাফল
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় ২৬ ই মার্চ ১৯৭১ রাত ১২ টা এক মিনিটে। বলধা গার্ডেন হতে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ওয়ারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বার্তা পাঠান যার শুরুতে ছিলো,”এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা। আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন। “(উল্লেখ্য যে ঘোষনাটি ছিলো ইংরেজীতে) এটাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা যা বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরির কাছে পাঠিয়েছিলেন। ২৬ মার্চ দুপুরে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র হতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন। ২৬ ই মার্চ সন্ধ্যায় আবুল কাশেম স্বন্দীপ এ ভাষন পুনরায় বাংলা ভাষায় পাঠ করেন।

পরের দিন অর্থাৎ ২৭ ই মার্চ ১৯৭১ সালে,মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন। তার এ স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ আগের দুইজনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো,কারন আগের দুইজনের ঘোষনা পাঠ কেবল চট্টগ্রামে প্রচারিত হলেও মেজর জিয়াউর রহমানের সে ঘোষনা পাঠ সারাদেশে সম্প্রচারিত হয়। জনগন যখন চরম পর্যায়ে বিভ্রান্ত ও আতংকিত, তখন একজন সামরিক অফিসার এর থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করতে শুনে তারা উজ্জীবিত হয়। যে যেই রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হোক না কেন ইতিহাসের এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না যে একজন আর্মি অফিসার হিসেবে মেজর জিয়ার ঘোষনা পাঠ ও অন্যদের ঘোষনা পাঠে তফাৎ ছিলো। অবশ্য মেজর জিয়া চট্টগ্রামে না থাকলে হয়ত চট্টগ্রামে থাকা অন্য অফিসার সুযোগ পেতেন। যাইহোক,এটা পরিষ্কার যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন,স্বাধীনতার ঘোষনার পাঠক। তার যে ঘোষনা পাঠ বেতারে সম্প্রচারিত হয় তাতে তিনি নিজেই বলেছিলেন যে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে সে ঘোষনা পাঠ করছেন

সম্পর্কিত ছবি

আসুন এবার এমন কিছু তথ্য জেনে নিই যাতে আপনার কাছে এ বিতর্ক কেবলই হাস্যকর মনে হবে।

  •  ২৬ ই মার্চ রাত ১ টা বেজে ৫ মিনিট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া রেডিওতে ঘোষনা দেন যে,শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছে ও এর জন্য শেখ মুজিব কে ভয়াবহ শাস্তি পেতে হবে।
  •  জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী করেননি।
  • মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কেউ এই নিয়ে বিতর্ক করেনি স্বাধীনতার ঘোষক কে ছিলেন,কারন তার ভাষন পাঠেই কার পক্ষে বলছেন তার উল্লেখ ছিলো।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃতির এ ধারা বন্ধ হোক। জিয়াউর রহমান,এক আর্মি অফিসার হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করার গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধি করা উচিত,তা অস্বীকার করা উচিত না তেমনি স্বাধীনতার ঘোষককে পালটে দেওয়াও উচিত না।

Facebook Comments

1 Comment

palash howlader · March 28, 2018 at 8:38 pm

hm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: