বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেরা ফ্রিগেট ( এখন অব্ধি ) হলো বিএনএস বঙ্গবন্ধু এবং পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের সেরা ফ্রিগেট হলো কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেট। যদিও কিয়ান সিত্তাহ বিএনএস বঙ্গবন্ধুর তুলনায় অনেক নতুন,তবুও এই দুইটি ফ্রিগেটের টক্কর হলে কি হতে পারে তার ওপরই এ আর্টিকেল।
.
বিএনএস বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয় ২০০১ সালে।অন্যদিকে কিয়ান সিত্তাহ মায়ানমার নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয় ২০১৪ সালে। বিএনএস বঙ্গবন্ধু যখন কমিশনপ্রাপ্ত হয় তখন তা ছিলো দক্ষিন এশিয়ার সেরা ফ্রিগেট। তবে কিয়ান সিত্তাহ এর তুলনায় পুরনো হলেও সময়ে সময়ে এটিতে আপগ্রেডেশন করা হয়েছে।

বিএনএস বঙ্গবন্ধু হতে সূর্যাস্তের দৃশ্য

গতিবেগ :-

বিএনএস বঙ্গবন্ধুর গতিবেগ ঘন্টায় ৪৬ কি.মি অন্যদিকে কিয়ান সিত্তাহ এর গতিবেগ ঘন্টায় ৫৬ কি.মি। এদিক হতে কিয়ান সিত্তাহ এগিয়ে আছে। অবশ্য এটা কোন বড় ফ্যাক্টর না।

ডিটেকশন :-

বার্মিজ নৌবাহিনীর কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেট

সর্বপ্রথম যে ব্যাপার টা আপনাদের মাথায় এসেছে সেটা হলো কিয়ান সিত্তাহ তো স্টেলথ ফ্রিগেট,অন্যদিকে বিএনএস বঙ্গবন্ধু স্টেলথ নয়। তাহলে বলবো আপনাদের স্টেলথ প্রযুক্তি নিয়ে আরেকটু জানা দরকার। স্টেলথ প্রযুক্তিতে জাহাজ রাডারে অদৃশ্য হয় না,কেবল ছোট দেখায়। মায়ানমারের কিয়ান সিত্তাহ এর স্টেলথ কতটুকু তাও সন্দেহ আছে। অর্থাৎ রাডার ক্রস সেকশন আমরা যতটা ভাবছি অতটা কমবে না। যেকোন স্টেলথ জাহাজ ই একটা পর্যায়ে ধরা পড়ে। আবার , আমাদের বিএনএস বঙ্গবন্ধুকে ডিটেক্ট করাও অত সহজ না। কারন এতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা এটি হতে উৎপন্ন তরঙ্গ শুষে নিয়ে এটিকে যথাসম্ভব সাইলেন্ট রাখে যাতে তা রাডারে ডিটেক্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার রাডারের ক্ষেত্রেও বিএনএস বঙ্গবন্ধু এগিয়ে রয়েছে। এছাড়াও বিএনএস বঙ্গবন্ধুতে উন্নতমানের স্করপিওন জ্যামার রয়েছে যা দুইটি টার্গেট কে জ্যাম করে দিতে সক্ষম ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজে। এখন,আসি সবচাইতে মজার বিষয়ে। কিয়ান সিত্তাহ ক্লাস ফ্রিগেটের সামনের অংশে যদি খেয়াল করেন দেখবেন যে সেটি সুচালো নয়। অর্থাৎ গভীর সমুদ্রে যেতে ও ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে যেরকম স্ট্রাকচার প্রয়োজন তা নেই কিয়ান সিত্তাহ তে। ফলে এটি উপকূল ছেড়ে গভীর সমুদ্রে যেতেই পারবে না,কারন এটি সর্বোচ্চ সি স্টেট ৪ অব্ধি সহ্য করতে পারবে।

কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেট

.
অস্ত্রশস্ত্র :-

♦ বিএনএস বঙ্গবন্ধুর প্রধান অস্ত্র হলো এর আটটি অটোম্যাট এমকে২ ব্লক ৪ অ্যান্টি শিপ মিসাইল যার রেঞ্জ ২২০ কি.মি। অন্যদিকে কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেটের প্রধান অস্ত্র হলো এর সি-৮০২ মিসাইল যার রেঞ্জ ১২০ কি.মি। এক্ষেত্রে কিয়ান সিত্তাহের মিসাইল রেঞ্জের ১০০ কি.মি বাইরে থাকতেই বিএনএস বঙ্গবন্ধু কিয়ান সিত্তাহকে মিসাইল দ্বারা ধ্বংস করতে পারবে। অ্যাটোম্যাট আটকানোর মতো কাউন্টারমেজার মিয়ানমারের নেই।

 

বিএনএস বঙ্গবন্ধু মেইন গান

♦বিএনএস বঙ্গবন্ধুতে CIWS চারটি অন্যদিকে কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেটে তিনটি।
.
♦বিএনএস বঙ্গবন্ধু হতে ৬ টি A244S টর্পেডো ছোড়া সম্ভব। অন্যদিকে কিয়ান সিত্তাহ হতে সাইনা টর্পেডো ছোড়া সম্ভব। এক্ষেত্রে,বিএনএস বঙ্গবন্ধুর টর্পেডোর রেঞ্জ বেশি। তবে এ দুটো শিপ মুখোমুখি হলে খেলা দেখাবে মূলত এন্টি শিপ মিসাইল।

এয়ার_ডিফেন্স :-

এফএম-৯০ স্যাম

বিএনএস বঙ্গবন্ধুতে এয়ার ডিফেন্স এর জন্য রয়েছে এফএম-৯০এন স্যাম যা হতে আটটি স্যাম নিক্ষেপ করা যাবে। এর রেঞ্জ ১৫ কি.মি। অন্যদিকে মিয়ানমারের কিয়ান সিত্তাহ ফ্রিগেটে রয়েছে আটটি মিসাইল সমেত ইগলা ম্যানপ্যাডস ( হাতে বহন যোগ্য মিসাইল ) যার রেঞ্জ মাত্র ৫ কি.মি। ইগলা হতে এফএম-৯০ নিশ্চয়ই অনেক বেশি এফেক্টিভ। এছাড়া,বিএনএস বঙ্গবন্ধুতেও আরো অনেক ম্যানপ্যাডস ব্যবহৃত হতে পারে যেমন QW-2,FN-16 ( রেঞ্জ ৬ কি.মি )। অর্থাৎ এয়ার ডিফেন্সের দিক দিয়ে কিয়ান সিত্তাহ বিএনএস বঙ্গবন্ধুর চেয়ে শোচনীয় ভাবে পিছিয়ে আছে।

#সারসংক্ষেপ :-

বিএনএস বঙ্গবন্ধু সি স্টেট সহ্য গভীর সমুদ্রে যেতে পারলেও কিয়ান সিত্তাহ তা পারে না। সুতরাং বিএনএস বঙ্গবন্ধু কিয়ান সিত্তাহের রেঞ্জে আসার আগেই কিয়ান সিত্তাহ আমাদের ফ্রিগেটের রেঞ্জে এসে যাবে। বিএনএস বঙ্গবন্ধুর হেলিকপ্টার রয়েছে যা এই দুইটি জাহাজের সংঘর্ষে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে ( কিয়ান সিত্তাহ এর হেলিকপ্টার সেক্ষেত্রে বেশ পুরনো ও অনুন্নত)। আবার, তাদের তাদের কিয়ান সিত্তাহ এর চেয়ে আমাদের বিএনএস বঙ্গবন্ধু মিসাইলের মিসাইল রেঞ্জ (২২০-১২০)= ১০০ কি.মি বেশি হওয়ায় ১০০ কি.মি দূর হতেই আমরা তাদের মিসাইল ফায়ার করতে পারব অথচ তারা তা আটকাতে পারবে না। ফলাফল সহজেই অনুমেয়..

.

এতো গেলো আমাদের বহু পুরনো মহারাজার সাথে ওদের তুলনা। আমরা চিটাগং এ চীন হতে প্রযুক্তি নিয়ে যে স্টেলথ ফ্রিগেট বানাতে যাচ্ছি অর্থাৎ টাইপ ০৫৪, তার কাছে কিয়ান সিত্তাহর পাত্তা পাওয়ার কোন কারন দেখি না 😛

আমাদের দেশে বানাতে যাচ্ছি টাইপ-০৫৪এ এর কোন কাস্টমাইজড ভার্সন

Facebook Comments

3 Comments

সানি লিওন · January 15, 2018 at 5:40 pm

অনেক বালো হয়েছে

fahim · February 14, 2018 at 9:51 am

শুনে গর্ববোধ হচ্ছে,

বাংলাদেশ বনাম মিয়ানমার সামরিক শক্তির তুলনা – Bangladesh Defence Forum · March 10, 2018 at 1:56 pm

[…] বাংলাদেশের বহরে ফ্রিগেট রয়েছে ৬ টি ও মিয়ানমারের ও ৬ টি। তবে মিয়ানমারের ফ্রিগেট গুলি উন্নত না হওয়ায় সমরবিদ রা একে কর্ভেট ক্যাটাগরিতে ফেলতেই পছন্দ করেন। বাংলাদেশের ফ্রিগেটের মিসাইলের রেঞ্জ যেখানে ২২০ কি.মি সেখানে মিয়ানমারের মিসাইলের রেঞ্জ ১০০ কি.মি। আরো পড়ুন :- বাংলাদেশের বিএনএস বঙ্গবন্ধু বনাম মিয়… […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: