গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ এর নতুন লাইট ট্যাংক কেনার এর জন্য টেন্ডার ওপেন করা হয়। শুরু হতেই বাংলাদেশের পছন্দের তালিকায় রয়েছে চীনের ভিটি-৫। গত ফেব্রুআরি মাসে বাংলাদেশ হতে একটি প্রতিনিধি দল চীনে গিয়ে ভিটি-৫ লাইট ট্যাংক পরীক্ষা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল শর্তই চাইনিজ এ লাইট ট্যাংকটি পূরন করেছে। কিছু ছোটখাট মডিফিকেশন চাওয়া হয়েছে চীনের কাছে তাতে তেমন সমস্যা হবে না। এখনো অফিশিয়াল ঘোষনা আসে নি তবে যা বুঝা যাচ্ছে আপাতত ১ রেজিমেন্ট ( প্রায় ৫০ টা ট্যাংক) ক্রয় করে কিছু সময় গ্যাপ নিয়ে আবার ২ রেজিমেন্ট ক্রয় করে মোট ৩ রেজিমেন্ট ভিটি-৫ লাইট ব্যাটল ট্যাংক ক্রয় করা হবে।

সুতরাং,বলা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের পরবর্তী লাইট ট্যাংক হতে চীনের তৈরি VT-5 লাইট ট্যাংক।এই ট্যাংকটি ডেভেলপ করেছে নরিনকো।সর্বপ্রথম এই ট্যাংকের ছবি প্রকাশ হয়েছিলো ২০১০ সালে।তবে চীন খুব গোপনীয়তার সাথে এই ট্যাংকটি ডেভেলপ করেছে।পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এই ট্যাংকটি জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়।

এই ট্যাংকটি মূলত গোয়েন্দাগিরি এবং ইনফেন্ট্রি সাপোর্টের জন্য তৈরি করা হয়েছে।মেইন ব্যাটেল ট্যাংকগুলোর তুলনায় এই ট্যাংকের ওজন অনেক কম এবং গতিও অনেক বেশি।আকারে ছোট হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে এই ট্যাংকটি টার্গেট করাও অনেক কঠিন।পাহাড়-পর্বত, বন জঙ্গল,নদী-নালা বেষ্টিত অঞ্চলে এই ট্যাংকটি সহজেই অপারেট করা যায়।

এই ট্যাংকের হাল টারেটটি কীসের তৈরি তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও ধরা হয় এক্সপ্লোসিভ রিয়েক্টর বা স্টীলের আর্মার দিয়ে তৈরি। এন্টি ট্যাংক মিসাইল বা রকেট থেকে বাঁচাতে এই ট্যাংকের কিছু জায়গায় কেজ আর্মার লাগানো থাকে।এই ট্যাংকে সাধারণ NBC প্রোটেকশন এবং অটোম্যাটিক ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।এছাড়াও এই ট্যাংকে লেজার ডিটেক্টর সহ পেসিভ প্রোটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে এন্টি ট্যাংক মিসাইল থেকে বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অস্ত্রশস্ত্র :-

এই ট্যাংকের মেইন গান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ১০৫ মি.মি. রাইফেলড গান।এর এফেক্টিভ ফায়ারিং রেঞ্জ ৩ কি.মি.।সেকেন্ডারি অস্ত্র হিসেবে আছে হিসেবে আছে ১ টি ১২.৭ মি.মি. মেশিনগান,১ টি ৪০ মি.মি. গ্রেনেড লঞ্চার ও ১ টি ৭.৬২ মি.মি. মেশিনগান।এছাড়াও এটি থেকে ১০৫ মি.মি. এন্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল ফায়ার করা যায় যার ইফেক্টিভ রেঞ্জ ৫ কি.মি.।

এছাড়াও এই ট্যাংকে হান্টার কিলার প্রযুক্তি,নেভিগেশন-স্যাটেলাইটসিস্টেম সহ বিভিন্নত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ৩ রেজিমেন্ট লাইট ট্যাংক কিনবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। তিন রেজিমেন্ট VT-5 ট্যাংক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এই ট্যাংক সম্পর্কে কিছু সাধারণ তথ্যঃ

  • ভুমিকাঃ লাইট ট্যাংক
  • অরিজিমঃ চীন
  • ক্রুঃ ৩ জন
  • ওজনঃ ৩৩-৩৬ টন
  • দৈর্ঘ্যঃ ৯.২ মিটার
  • প্রস্থঃ ৩.৩ মিটার
  • উচ্চতাঃ ২.৫ মিটার
  • ইঞ্জিনঃ FX0012 diesel (১০০০ অর্শ্বশক্তি সম্পন্ন)
  • সর্বোচ্চ গতিঃ ৭০ কি.মি./ঘন্টা

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: