বিখ্যাত চীনা সেনাপতি ও সমরবিদ সান জু তার বিখ্যাত “আর্ট অফ ওয়ার” বইটিতে লিখেছিলেন,প্রাচীর বেস্টিত কোন রাজ্যে আক্রমন চালানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।কারন হলো,প্রাচীর ভাঙতেই সৈন্যদের অবস্থা খারাপ হয়ে যেত,রসদ ফুরাতো ও দিনের পর দিন বসে থেকে যুদ্ধ প্রেরনা হারিয়ে ফেলতো। ফলে যুদ্ধ জেতাটা ব্যাপক কঠিন হয়ে পড়ত।কিন্তু,বর্তমানে তো আর রাজ্যের চারিদিকে প্রাচীর থাকে না।তাইলে এ যুগে কি হবে? আসলে এ যুগেও প্রাচীর আছে। সেটাই হলো আকাশ প্রতিরক্ষা বা এয়ার ডিফেন্স। যার এয়ার ডিফেন্স যত বেশি শক্তিশালী সেই যুদ্ধে তত বেশি এগিয়ে থাকে। তাই এ যুগে যার এয়ার ডিফেন্স উন্নত তার সাথে যুদ্ধ লাগতে যাওয়া বোকামী। কারন,আধুনিক কালের যুদ্ধের মোটিভ ই হচ্ছে আগে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে তছনছ করে দেয়া,শেষে সৈন্য নামানো। যদি ধরুন কোনভাবে আপনি এই এয়ার স্ট্রাইক টাকে থামিয়ে দিতে পারেন তবে আপনার শত্রু রা সৈন্য নামানোর চিন্তাও করবে কিনা তাই ভাববার বিষয়। তাই দেশের সুরক্ষার জন্য সর্বপ্রথম যেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে তা হলো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে একটি সম্যক ভাবনা আলোচনা করা হল।

এবার আসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স নিতান্তই অপ্রতুল ( এখন অব্ধি )। যা আছে তা হলো কিছু ম্যানপ্যাড,কিছু আর্টিলারী কামান,এফএম-৯০ মিসাইল যার রেঞ্জ মাত্র ১৫ কি.মি। এটা কখনোই কোন উন্নত এয়ার ডিফেন্স না। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমন ঠেকানোর মত কোন এয়ার ডিফেন্স আমাদের হাতে এখনো নেই। অবশ্য এর কিছু কারন ও আছে। ৯০ এর দশকের আগে আমাদের বিমানবাহিনী ছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা বিমানবাহিনী। কিন্তু বন্যায় আমাদের ১৫০+ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘদিন বড় আকারে কোন বরাদ্দ পায়নি বিমান বাহিনী। এসব কারনেই মুলত ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছে এটি।

আমাদের আকাশ খুব বেশি বড় না। তাই আকাশ সুরক্ষার জন্য আমাদের যে খুব বেশি খরচ করতে হবে ব্যাপার টা মোটেও এমন না। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে। রাতারাতি কিছু করাটা আমাদের সামর্থ্যে নেই এবং তা সম্ভব ও না। আচ্ছা বলি তাইলে আমার মতে কি কি দরকার :-

লং রেঞ্জ স্যাম :-

চীনের লং রেঞ্জ HQ-9 স্যাম ©Military-Today.com

এইচকিউ-৯ লং রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। মোট ৩ রেজিমেন্ট চাই। ২ রেজিমেন্ট হলেই এনাফ তবে তিন রেজিমেন্ট চাওয়ার কারন আছে পরে বলছি। রেঞ্জ ১২০-২০০ কি.মি।

মিডিয়াম রেঞ্জ স্যাম :-

LY-80 মিডিয়াম রেঞ্জ স্যাম ©Military-today.com

এইচকিউ-১২, এলওয়াই-৮০ ইত্যাদি। কয় রেজিমেন্ট প্রয়োজন বলতে পারলাম না। এগুলো সাধারনত কোন গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা ইত্যাদি রক্ষায় কাজে আসে। অর্থাৎ,চট্টগ্রাম বন্দরে তো রাখতেই হবে।

শর্ট রেঞ্জ স্যাম :-

FM-90 SHORADS . এটি বাংলাদেশের রয়েছে

প্রায় প্রত্যেক টা নেভী ফ্রিগেট,ক্যান্টনমেন্ট এ প্রয়োজন রয়েছে।যেমন : এফএম-৯০ স্যাম,পিকোরা,প্যান্টসির ইত্যাদি।

কেউ আমাকে কল্পনাবিলাসী ভাবার কারন নেই। আমি বলছি না এটা এখনি লাগবে। তবে আজ না হোক কাল লাগবে। আমাদের প্রতিবেশি দুই দেশ এর মধ্যে মিয়ানমার দ্বারাই আমাদের এয়ার স্ট্রাইকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কয়েক বছর আগেই ওদের মিগ বাংলাদেশ এর এয়ারে প্রবেশ করেছিল। তবে ভারতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।একটা ব্যাপার হলো,এয়ার স্ট্রাইক হুট করে হয় না। কারন এয়ার স্ট্রাইক মানেই অল আউট ওয়ার। তাই এয়ার স্ট্রাইকের আগে প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ কিছুটা হলেও সময় পাবে।

যদি উপরের স্যাম গুলি হাতে থাকে ইনক্লুডিং এইচকিউ-৯, ভারত ও বার্মার সব ধরনের ফাইটার কেই শুট ডাউন পসিবল। একমাত্র মাথাব্যাথা যেটা তাহলো ভারতের রাফালে। কিন্তু,ভারতের রাফালে আমাদের জন্য না। রাফালে চীন ও পাকিস্তানের জন্য। সে যাই হোক। রাফালের ক্ষমতাটা হচ্ছে এর সিড-ডিড মিশন ক্যাপাবিলিটি। ফলে এটি রাডার কে জ্যাম করে স্যাম অচল করে এয়ার স্ট্রাইক চালাতে পারে। এখানেও একটা কিন্তু আছে। এইচকিউ-৯ রাশান এস-৩০০ এর কপি হলেও দুটার রাডার ভিন্ন ও চীনের এইচ কিউ-৯ এর রাডার টি অপেক্ষা কৃত উন্নত। তাই এই রাডার কে জ্যাম করা রাফালের পক্ষে এতটা সহজ ও হবে না। আবার আমরা যদি দুই রেজিমেন্ট এইচ কিউ-৯ কাছাকাছি অবস্থানে রাখতে পারি তখন আবার রাফালের জন্য ব্যাপার টা আরো টাফ হয়ে দাঁড়াবে। একদম রুখে দিবে তা বলা যায় না তবে হ্যা ব্যাপক কনটেস্ট হবে।

এতক্ষন তো আমার মত দিলাম,এইবার সরকারের পরীকল্পনায় আসি। এতদিন পর বিমানবাহিনী বিশাল অংকের বরাদ্দ পেয়েছে।  অর্থাৎ সরকার যে এবার বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তা বোঝাই যাচ্ছে।বলাই যায় বিমান বাহিনীতে ঈদ লেগেছে ।

আমরা কদিন আগেই এল ওয়াই -৮০ মিডিয়াম রেঞ্জ স্যাম অর্ডার করেছি। এর রেঞ্জ প্রায় ৭০-৮০ কি.মি। এর ফলে আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা আরো কিছুটা জোড়দাড় হবে। আশা করা যায় যে ২০৩০ এর আগেই আমাদের বহরে এইচকিউ-৯ বা এরকম কোন লং রেঞ্জ স্যাম থাকবে । তবে হয়ত তিন নয় এক রেজিমেন্ট ই থাকবে। তাই ইনশাল্লাহ খুব শীঘ্রই আমরা এয়ার ডিফেন্স সংক্রান্ত আরো সুখবর পেতে যাচ্ছি। ( আমাদের সামরিক বাজেট অর্থনীতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে)

সমরপ্রেমী হিসেবে ও ইদানীং কার সামরিক খাতে ব্যাপক উন্নতির উপর ভিত্তি করে আমরা বাংলাদেশের জন্য আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থার আশা করাই যায় ।

বি.দ্র : একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: