বাংলাদেশ সৃস্টির পর হতেই নিঃস্বার্থ ভাবে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে আসছে পশ্চিমা বিশ্বের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে। মুসলিম বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলো যখন নির্লজ্জের মত ইসরায়েলের সাথে মাখামাখি করে,( এমনকি নির্বাচনে টাকা দেয এবং সামরিকভাবে সহায়তাও করে ),তখন বাংলাদেশ একটা তৃতীয় বিশ্বের রাস্ট্র হয়েও সমগ্র হুমকি-ধামকিকে উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
.
ফিলিস্তিনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ব্যাপক গভীর ও ভ্রাতৃত্বসুলভ ও স্বার্থহীন। যদি এই সম্পর্কের ব্যাপারে জানতে হয় তবে একটু পিছনে ফিরে তাকানো লাগবে…
.
বাংলাদেশ সৃস্টির পূর্বেই বাংলাদেশ সরকার ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তরিক ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সেই কঠিন সময়,যখন ইসরায়েল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়,তখন বাংলাদেশ সরকার তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করে শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের কথা চিন্তা করে। ( বি.দ্র: বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল,১৯৭১ এর এপ্রিলে,তবে মুজিবনগর সরকার তা প্রত্যাখ্যান করায় তা গন্য করা হয় না ) ।
.
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আরব দেশগুলো বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারছিল না।কিন্তু ১৯৭৩ এর আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিয়া,মিশর ও ফিলিস্তিনী যোদ্ধাদের পূর্ন সমর্থন প্রদান করে এমনকি মেডিকেল হেল্প ও রিলিফ ও পাঠায়। একটা সদ্য জন্ম নেওয়া রাষ্ট্রের কতটা আন্তরিকতা থাকলে এ পদক্ষেপ নেওয়া যায় একটু ভেবে দেখুন !! এরপর হতেই আরব বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন শুরু হয় ও আরব দেশগুলোর চাপেই মূলত পাকিস্তান ১৯৭৪ এ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
.
এই ছিল শুরু,যখন বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন দেয় ও কাজ করা শুরু করে।
.
১৯৭৩-১৯৭৪ এর ঘটনাবলি ও বাংলাদেশের সমর্থনের কারনে ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপিত হয় ও বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় পিএলও এর অফিস খোলার অনুমতি দেয়।এরপর বাংলাদেশ সরকার নানাভাবে ফিলিস্তিনকে সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে।বাংলাদেশ থেকে অনেক যোদ্ধা ফিলিস্তিন-লেবানন যায় ও সেখানে ইসরায়েল এল বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যান্য ফিলিস্তিনীদের সাথে।তাদের সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক জানা যায় নি,তবে ১৯৮৮ সালে আমেরিকার লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস এর প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের প্রায় ৮০০০ স্বেচ্ছাসেবক যুবক এর করার কথা বলা হয়েছিল।
.
তখন থেকেই ফিলিস্তিনীরা বাংলাদেশে ট্রেনিং এর জন্য আসত ও এখনো আসে। যোদ্ধারা যারা এদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে যায় তারা বাংলাদেশকে “সেকেন্ড হোমল্যান্ড” বলে ও অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করে.
.
লেবানন শাখার ফাতাহ সেক্রেটারি আবু আল আরাদাতের মতে,”বাংলাদেশি যোদ্ধাদের সংখ্যা প্রায় ১০০০-১৫০০ ছিল।এমনকি যোদ্ধাদের নিয়ে ব্যাটেলিওন ও গঠিত ছিল যার সকল সদস্যই বাংলাদেশি। তবে তাদের অধিকাংশই বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন গ্রূপের সাথে ছিল।
.
তিনি আরো বলেন,”আমার মনে আছে তারা ছিল ব্যাপক সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী।তারা তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের জন্য সুপরিচিত ছিল। যখন ইসরায়েলের আক্রমনে কিছু বাংলাদেশী তাদের কাছে আটক হলো,তখনও অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়েও শত অত্যাচার সহ্য করেও তারা দৃঢ়তার সাথে স্লোগান দিত,”পিএলও,ইসরায়েলি নো”,তাদের সাথে অন্যান্য যোদ্ধাদের খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল”।
.
এমনকি,১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করে একটি স্মারক ডাকটিকিটও তৈরি করে।

আসুন তবে জানি ফিলিস্তিন এর জন্য প্রাণ দেওয়া এক বাংলাদেশি যোদ্ধার সম্পর্কে

ছবিতে যে স্মৃতিস্তম্ভ দেখছেন তা এক বীর বাংলাদেশী যোদ্ধার যিনি ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করতে গিয়ে প্রান দিয়েছিলেন। তার নাম কামাল মুস্তাফা আলী। ১৯৮২ সালের ২২ ই জুলাই দক্ষিন লেবাননের বেফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলী সৈন্যদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি শাহাদত বরন করেন। বৈরুতের ফিলিস্তিনি রিফুইজি ক্যাম্পে শহীদ কবরস্থানে খুব কম সংখ্যক বিদেশী যোদ্ধাদের ব্যাপারে ফলকে উল্লেখ রয়েছে যাদের মধ্যে একজন হলেন বাংলাদেশের কামাল মুস্তাফা আলী।
.
তার মরদেহ উদ্ধারে হিজবুল্লাহর ভূমিকা প্রধান। ২০০৪ সালে হিজবুল্লাহ চারজন ইসরায়েলীর লাশের বিনিময়ে ইসরায়েল হতে ৪০০ এর অধিক বন্দী ও ৬০ জন যোদ্ধার লাশ ও দক্ষিন লেবাননে ইসরায়েল যে ল্যান্ড মাইন বসিয়েছিল তার ম্যাপ আদায় করে নেয়। এভাবে কামাল মুস্তাফা আলীর মরদেহ উদ্ধার হয় ও উনার দেহের হাড়-কঙ্কাল বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দক্ষিন লেবাননের ফিলিস্তিনের শহীদ স্মৃতি কবরস্থানে তার সম্মানে একটি ফলক স্থাপন করা হয়েছে যা আপনারা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন এই ফলকের ওপর লেখা আছে পবিত্র আল কুরআনের একটি আয়াত-“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।” (Al-Baqara: 154)
.
ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের যোদ্ধাদের অংশগ্রহন সত্যিই এক অপূর্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের পরিচয় দেয়।আজও বাংলাদেশ নিঃস্বার্থভাবে ফিলিস্তিনকে সাহায্য করছে। কদিন আগেও ইসরায়েল তরফ থেকে বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়েছিল স্বীকৃতির জন্য,তবে বাংলাদেশ সরকার রাজী হয় নি।
.
ফিলিস্তিন এর প্রতি সাহায্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশএর এক অসাধারণ জাতীয় ঐক্য পরিলক্ষিত করা যায়। আওয়ামী লিগ হোক,বিএনপি হোক বা যেকোন শাসন আমলই হোক না কেন,ফিলিস্তিনের প্রতি সাহায্যে কোন শাসনামলেই কোন ভাটা পড়েনি।(সম্প্রতি এক নেতার মোসাদের সাথে বৈঠকের কথা জানা গেলেও তাদের শাসনামলে এমন কিছু শোনা যায় নি )

We stand with Palestine and support them totally !

Facebook Comments
Categories: Palestinian

2 Comments

fahim · February 13, 2018 at 5:33 pm

সত্যিই জেনে অভিভুত হলাম

বাংলাদেশ হতে সামরিক প্রশিক্ষন নেওয়া ফিলিস্তিনি ক্যাডেটগন - Frontline Bangladesh · May 15, 2018 at 3:28 pm

[…] এর কিছু অবদান নিয়ে পড়তে পারেন এই লিংকে […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: