৫৭০ খ্রিস্টাব্দের কথা,নিজ গীর্জার গুরুত্ব বাড়াতে ইয়েমেনের শাসক আবরাহা কাবা শরিফ ধ্বংসে বিশাল হাতিবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়। তাকে আটকানোর মতো শক্তি কুরাইশ দের ছিলো না।
.
এমন সময়ে,আকাশে ঝাকে ঝাকে ক্ষুদ্র একপ্রকার পাখি মুখে করে পাথর কনা বয়ে এনে আবরাহার বিশাল বাহিনীর ওপর ছুড়ে মারে। আর এতেই,এত বড় বাহিনী কেবল এ অসংখ্য পাখির ছোড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা ফীল এ উল্লেখ রয়েছে। যেই পাখিটি মুখে করে পাথর বয়ে এনে মেরেছিলো,সে পাখিটির নাম হলো “আবাবীল”।
এই ঘটনাটির পিছনের ইসলামীক সেন্টিমেন্ট কে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান তাদের একটি মিসাইল এর নামকরন করে “আবাবীল”। বলা হয়ে থাকে যে এ আবাবীল ও হস্তিবাহিনীকে ধ্বংস করবে। উল্লেখ্য যে এখানে হস্তীবাহিনী কথাটি রূপক,এখানে হস্তীবাহিনী দিয়ে মূলত ভারত কে বুঝানো হয় কারন ভারতেই এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি হাতি পাওয়া যায়।

ababeel missile এর ছবির ফলাফল

Ababeel Missile

এই ছিলো পাকিস্তান এর এই মিডিয়াম রেঞ্জ ব্যালেস্টিক মিসাইল টির নামকরন এর ইতিহাস। পাকিস্তানের দাবীমতে এটি MIRV বা মাল্টিপল টার্গেটেবল রিএন্ট্রি ভেহিকল বহন করতে পারে। মানে ব্যাপার টা সোজাভাবে বুঝিয়ে বললে অনেক টা এরকম যে মিসাইল টি একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে পারবে ও টার্গেটের দিকে যাওয়ার সময় তা বিচ্ছিন্ন হয়ে একাধিক মিসাইল এ পরিনত হয়ে একেক টা একেক টার্গেটের দিকে যাবে,যেমন একটা দিল্লী তো আরেকটা মুম্বাই ( কেবল উপমা )। এজন্য MIRV গুলোকে প্রতিহত বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১০ সালেই বিবিসি রিপোর্ট করেছিলো যে পাকিস্তান ও চীন MIRV টেকনোলজির ওপরে কাজ করছে,তবে এখনো অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞই আবাবীল এ MIRV টেকনোলজি থাকার ব্যাপারে সন্দেহ পোষন করেন। যেমন MIRV এর জন্য ওয়ারহেড সাধারনের হিসাবে ছোট হতে হয় যেহেতু অনেকগুলো ওয়ারহেড বহন করতে হয় মিসাইল টিকে।

ababeel missile এর ছবির ফলাফল

তবে MIRV টেকনোলোজি নিয়ে সন্দেহ আছে

তবে পাকিস্তান নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের এরকম ক্ষুদ্র সংস্করন আদৌ বানাতে পেরেছে কি না তা নিয়ে অনেকের ই এখনো সন্দেহ আছে। আর সন্দেহের কারন মিসাইল টির উপরে একটু বড় আকারের “নোজ কোন” ( মাথার দিকে সরু অংশ ) রয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় যে হয়ত ওয়ারহেডের ক্ষুদ্র সংস্করন তৈরিতে ঘাটতি রয়ে গেছে। আবাবীল মিসাইল টির প্রথম টেস্ট ফ্লাইট করা হয় এ বছরের জানুয়ারি তে। তাতে এ মিসাইল টি প্রায় ১১০০ কি.মি পথ অতিক্রম করে,যদিও পাকিস্তান কর্তৃক দাবী করা হয়েছে যে আবাবীল এর রেঞ্জ ২২০০ কি.মি, সেদিন টেস্ট ফ্লাইটে এটি অত দূরত্ব অতিক্রম করেনি কারন রেঞ্জ এর পরীক্ষা করা হচ্ছিলো না,অন্যান্য যান্ত্রিক ব্যাপার গুলোই ছিলো সে টেস্ট ফ্লাইটের প্রধান উদ্দেশ্য। এটি জ্বালানি হিসেবে সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে ও একই সাথে পারমানবিক বা সাধারন বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। পাকিস্তান এর ব্যালেস্টিক মিসাইল এর রেঞ্জে পুরো ভারত থাকায় ভারত ব্যালেস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে মজবুত করে। এরই জন্য মূলত পাকিস্তান MIRV প্রযুক্তির দিকে ঝুকেছে। যদিও এখনো পাকিস্তান পুরোপুরি সফল হয়েছে কি না বলা যাচ্ছে না তবে যদি সফল হয়,তবে তা দেশটির শত্রুদের জন্য চিন্তার কারন বটে

 

Facebook Comments
Categories: Pakistan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: