অস্ত্র পরিচিতি :

ইন্ট্রোডাকশন টু ইনফিনট্রি ফাইটিং ভেহিকেল বা IFV.

গ্রাউন্ড ওয়ারফেয়ারে একটা সময় পদাতিক সৈন্য বাহিনী এবং ঘোড়সওয়ার দের আধিপত্য ছিল। যুগ বদলানোর সাথে সাথে মোটর চালিত যানবাহনের ওপর মেশিনগান লাগিয়ে পদাতিক সৈন্যদের সাপোর্ট দেওয়ার রীতি প্রচলিত হয়।

পরবর্তী সময়ে অস্ত্রের আরো উন্নতি সাধিত হলে আরো বড় বড় মোটর চালিত যানবাহনের ওপর বড় এবং ভারী ক্যালিবারের সেইসাথে অধিক ফায়ার রেট সমৃদ্ধ অস্ত্র সংযুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় থেকে ট্যাংকের বহুল ব্যবহার শুরু হলে, ট্যাংক রেজিমেন্ট এর পেছনে পদাতিক সৈন্য বাহিনীর বিশাল দল শত্রুর ফ্রন্টলাইনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করে। কিন্তু অতি দ্রুতই এই কৌশলে বিশাল বড় একটি সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়।

মেইন ব্যাটেল ট্যাংক অস্ত্র হিসেবে অত্যন্ত বিধ্বংসী এবং প্রচন্ড ফায়ার পাওয়ার সমৃদ্ধ হলেও এর মবিলিটি ছিল অত্যন্ত কম। অর্থাৎ অতিরিক্ত অস্ত্র এবং প্রচুর ভারী হওয়ার জন্য এটি সহজে দ্রুত চলাফেরা করতে সক্ষম নয়।

ট্যাংকেরআরো অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে এটি সমস্ত ভূমি পরিবেশে চলাচলের উপযোগী নয় ফলে পদাতিক সৈন্য বাহিনী কে সব সময় ভারী ফায়ার সাপোর্ট দিতে ট‍্যাংক কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেনি। এছাড়া ট্যাংকে জায়গা স্বল্পতার কারণে ট্রুপস ট্রান্সপোর্টেশন সম্ভব নয়।

পদাতিক সৈন্য বাহিনীর এই চাহিদা থেকে উদ্ভাবিত হয় ইনফান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকেল।
এই যুদ্ধযান গুলো , ট‍্যাংক হতে অনেক কম ওজন বিশিষ্ট, অধিক মবিলিটি সম্পন্ন । শুকনো ভুমি বা জলমগ্ন স্থান সহ প্রায় যে কোনো স্থানে চলতে সক্ষম, অথচ পদাতিক সৈন্য বাহিনী কে ফায়ার সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। এই সকল যুদ্ধযান এতটাই শক্তিশালী যে এরা যুদ্ধক্ষেত্রে মেইন ব্যাটেল ট্যাংককেও এন্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল দিয়ে টক্কর দিতে পারে। এদের বিভিন্ন ক্যালিবারের মেইন গান শত্রুপক্ষের পদাতিক সৈন্য বাহিনী কে এবং তাদের ডিফেন্স পোস্ট কে কচুকাটা করতে সক্ষম।

প্রথম যুগের আইএফভি সমূহ ওজনে অত্যন্ত হালকা ছিল কারণ তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুততার সাথে ট্রান্সপোর্টেশন এবং ফায়ার পাওয়ার ডেলিভারি। কিন্তু হালকা আইএফভি র প্রধান সমস্যা ছিল এদের আর্মর এতটাই পাতলা যে সাধারণ ফিফটি ক্যাল মেশিনগান দিয়ে ভেতরের সৈন্যদের ক্ষতি করা যেত। দিনবদলের সাথে সাথে পদাতিক সৈন্য বাহিনীর হাতে উন্নত এটিজিএম কিংবা রকেট আসার ফলে, এ সকল যুদ্ধযানের নিমার্তারা ট্যাংক এর মত ভারী আর্মর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বর্তমান প্রজন্মের ইনফান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকেল সমূহ প্রটেকশন মবিলিটি এবং ফায়ার পাওয়ার এর মধ্যে সমন্বয় করে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার K-21 , সুইজারল্যান্ডের CV90 , কিংবা জার্মানির PUMA এর মত যুদ্ধযান সমূহকে অনেক বোদ্ধা লাইট ট্যাংক আবার অনেকে আই এফ ভি নামে অভিহিত করে থাকেন।

মোটকথা এই দাঁড়ায় যে যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক সৈন্য বাহিনীর সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হলো এই আইএফভি। এইগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ফ্রন্ট লাইনে এমন ফায়ার পাওয়ার ডেলিভার করে যা পদাতিক সৈন্যদের একটা বড় গ্রুপের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব।
ছবিতে রাশিয়ার অন্যতম সেরা আইএফভি BMP-3.

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: