Type 053H3 frigate. P.C : Hqy1228

বাংলাদেশ নেভীর বর্তমান গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট মাত্র চারটি৷ আগামী বছর থেকে দেশে বানানোর কাজ শুরু হবে নতুন ফ্রিগেটের৷ এছাড়াও পুরোনো ফ্রিগেটগুলোও আপগ্রেডেশনে পাঠানো হবে৷ এর ফলে যাতে নেভীকে ফ্রিগেট খরায় ভুগতে না হয় সেজন্য এই বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ নেভী চীন থেকে স্টপ গ্যাপ হিসেবে অর্ডার করে দুটো সেকেন্ড হ্যান্ড টাইপ-৫৩ এইচ-৩ গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট৷ এই ফ্রিগেটগুলো ৯০ এর দশকে তৈরী৷ রিফার্বিশমেন্ট ও নতুন সাজসরঞ্জাম যুক্ত করে নতুন রূপে এগুলোকে সার্ভিসে আনতে চলেছে বাংলাদেশ নেভী৷

ফ্রিগেটের অস্ত্রসজ্জা :-

এয়ার ডিফেন্স হিসেবে রয়েছে FM-90N মিসাইল। Image Source : Megapixie

বাংলাদেশ নেভীর আপকামিং এই দুই ফ্রিগেটের অস্ত্রসজ্জা অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং একই সাথে শত্রুর জন্য হুমকিস্বরূপ৷

মেইনগান হিসেবে এতে থাকবে HPJ-33A ডাবল ব্যারেলড গান৷ এতে ১০০ মিমি এর হাই এক্সপ্লোসিভ অ্যামুনেশন ব্যবহৃত হয় এবং প্রতি মিনিটে ১৮ রাউন্ড শেল ফায়ার করতে পারে৷ সার্ফেস টার্গেটের বিরুদ্ধে এর রেঞ্জ ১৫ কিমি এবং এয়ার টার্গেটের বিরুদ্ধে এর রেঞ্জ ৮.৫ কিমি৷

শত্রুজাহাজকে কাউন্টারের জন্য এতে রয়েছে ৮টি C-802A এন্টি শিপ ক্রুজ মিসাইল৷ এগুলোতে এক্টিভ রাডার হোমিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে৷ এগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ ম্যাক ০.৮ এবং ১৮০ কিমি এর মধ্যে অবস্থিত সকল যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করতে সক্ষম এই মিসাইল৷ তাছাড়া এর সী স্কিমিং কম হবার কারণে একে কাউন্টার করা প্রায় অসম্ভব৷

নেভাল ওয়ারফেয়ারে একটি জাহাজের জন্য বড় হুমকি হলো শত্রুর সাবমেরিন৷ শত্রুর সাবমেরিনকে যথাযথ আপ্যায়নের জন্য বাংলাদেশ নেভীর ক্রয়কৃত এই দুটো জাহাজে রয়েছে এন্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার সিস্টেম৷ এতে রয়েছে ৬টি Type-7424 টর্পেডো লাঞ্চার যার রেঞ্জ ৭.৩ কিমি৷ এছাড়াও রয়েছে ১২ টি Type-81G রকেট প্রপেল্ড ডেপথ চার্জ৷ এগুলোর রেঞ্জ ১২০০ মিটার৷

শত্রুর বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য এতে রয়েছে FM-90N স্যাম সিস্টেম৷ এতে ইলেকট্রো অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় এবং এর রেঞ্জ ১৫ কিমি৷

শত্রুর ক্রুজ মিসাইল থেকে জাহাজকে রক্ষার জন্য রয়েছে চারটি Type-76A ক্লোজ ইন ওয়েপন সিস্টেম৷ এগুলো প্রতি মিনিটে ১৮০ রাউন্ড বুলেট ফায়ারে সক্ষম৷ এর রেঞ্জ ৮.৫ কিমি৷ এছাড়াও রয়েছে ডেকয় এবং চ্যাফ লাঞ্চার যা জাহাজের দিকে আগত মিসাইলকে বিভ্রান্ত করে অন্যদিকে গাইড করিয়ে নেয়৷

ফ্রিগেটের রাডার সিস্টেম:

LJQ-360 Radar. Image Source : Sino Defence

বাংলাদেশ নেভীর চাহিদানুযায়ী রিফার্বিশমেন্টের সময় এর রাডার সিস্টেমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ এতে রয়েছে—

  • LJP-345 SAM/Main gun J Band FCR
  • EOD for SAM target tracking
  • LJQ-352 Ashm FCR
  • LJQ-360 Surface search radar
  • Type-571H-1 2D Long Range A band air search radar
  • LJP-347G radar

এই ফ্রিগেটগুলো ২০১৯ এর জুলাই এর মাঝামাঝি সময়ে দেশে এসে পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশ নেভীর ফ্লিটে ২০৩০ পর্যন্ত সার্ভিস দিবে৷

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: