জেনারেল (অব:) ইকবাল করিম ভুঁইয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৪ তম সেনাপ্রধান ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি IKB নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন তার কর্মজীবনে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে সফল সেনাপ্রধানদের মধ্যে একজন হলেন জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া।

জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া ১৯৫৭ সালের ২ই জুলাই কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি তার শিক্ষাজীবন এ কুমিল্লা জিলা স্কুল ও পরবর্তীতে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। ক্যাডেট কলেজ হতে পাশ করার পর তিনি ১৯৭৬ সালে ৩য় বিএমএ শর্ট কোর্সে অংশ নেন ও ৩০ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন।

সিয়েরা লিওনে মিশনে কর্মরত IKB

তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য আমেরিকা, মালয়েশিয়া সহ বহু দেশে নানান কোর্সে অংশগ্রহন করেছেন। তিনি মিরপুরের ডিফেন্স স্টাফ কলেজ হতে ও আমেরিকার কমান্ড এন্ড জেনারেল স্টাফ কলেজ হতে গ্রাজুয়েট হন। এছাড়াও তিনি মালয়েশিয়া হতে কোম্পানী কমান্ডার্স কোর্স ও আমেরিকা হতে শান্তিরক্ষা মিশনের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন।

তিনি তার কর্মজীবনে ১১ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ,১০৫ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার,১৯ ও ২৪ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি,মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ ও সিলেটের স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিক্স এর কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব্ররত ছিলেন। এছাড়াও তিনি লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ মিশনের কমান্ডার ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে ইরাকের কুয়েত দখলের পর পরিচালিত অপারেশন ডেজার্ট স্ট্রোম এ অংশগ্রহন করেন ও তার অসাধারন যোগ্যতার প্রমান দেন। তার বীরত্বের পুরস্কার স্বরূপ কুয়েতি সরকার তাকে ‘কুয়েত লিবারেশন মেডেল’ প্রদান করে। ২০১২ সালের ২৫ জুন তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান পদে নিযুক্ত হন।

নিজ উদ্যোগে হাসপাতালটি নির্মান করেছেন গরীবদের জন্য

তার শাসনামলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এমবিটি-২০০০ যোগ হয়,কিছু নতুন ইউনিট গঠিত হয়,প্রায় ১২০০ এটিজিএম ( Metis M-1) যোগ হয়। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রায় নিয়ন্ত্রনেই থাকে তার আমলে।

২০১৫ সালের ২৫ জুন তিনি সেনাবাহিনী হতে অবসর গ্রহন করেন।

 

Facebook Comments

1 Comment

Al Jaim Pappu · March 3, 2018 at 6:33 pm

<3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: