জেএফ-১৭ ( জয়েন্ট ফাইটার ১৭ ) পাকিস্তান ও চীনের একটি জয়েন্ট ফাইটার প্রজেক্ট যার পাকিস্তানে জেএফ-১৭ ও চীনে টি এফসি-১ নামে পরিচিত। চীন এর এফ-৭ বিমানকে আপগ্রেডের প্রজেক্ট সুপার-৭ ১৯৯০ তে বাতিল হয়ে গেলেও ১৯৯৯ তে তা পুনরায় চালু হয় এই এফসি-১ প্রজেক্টের নামে যার অংশীদার পাকিস্তান ও। যদিও এর ফাইটারের অধিকাংশ প্রযুক্তিই চীনের। ২০০৭ সালে জেএফ-১৭ সার্ভিসে আসে চীনের দ্বারা তৈরি হয়ে ও পাকিস্তান জেএফ-১৭ এর ডেলিভারি পায়। ২০০৭ এর পরবর্তী ফাইটার গুলো পাকিস্তান নির্মান করে ( জেএফ-১৭ ) ও করছে যদিও চীনা সাহায্য ও রয়েছে। জেএফ-১৭ পাকিস্তান এয়ারফোর্সের ব্যাকবোন হতে যাচ্ছে অন্যদিকে চাইনিজ এয়ারফোর্স এফসি-১ ব্যবহার করে না। সবমিলিয়ে এটা চীনের জন্য কেবলই একটি ব্যবসায়িক প্রজেক্ট। তবে পাকিস্তান ও এ বিমান বিক্রির জন্য জোর চেস্টা চালাচ্ছে ও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে এ ফাইটারের প্রতি বিশ্বের অনেক দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। নাইজেরিয়া,আজারবাইজান ও মিয়ানমার অলরেডি জেএফ-১৭ অর্ডার করেছে ও মালয়েশিয়ার মতো রাস্ট্রও আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ফাইটার জেট বাংলাদেশের কাছে বিক্রির জন্য ও বারবার চেস্টা চালিয়েছে তবে কোনবারেই ইতিবাচক কোন সাড়া মিলে নি। মোট ৩ বার রিজেক্ট করা হয়েছে এ ফাইটার জেট কে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তরফ থেকে।

সর্বপ্রথম পাকিস্তান ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে জেএফ-১৭ ব্লক ১ বিমান অফার করে। কিন্তু তা তখনো একদম নতুন তারওপর যুদ্ধাপরাধী বিচার সহ অন্যান্য বিষয়ে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না রাজনৈতিক ভাবে। ফলে পাকিস্তান হতে জেট ফাইটার কেনার কথা ভাবেও নি বাংলাদেশ এয়ারফোর্স। এছাড়াও পাকিস্তানী এ ফাইটার টি নতুন বিধায় বাংলাদেশ এয়ারফোর্স সে রিস্ক নিতে চায়নি। অর্থাৎ প্রথমবারের মতো জেএফ-১৭ রিজেক্ট হয় ২০১২ সালে। শুধু বাংলাদেশ না অনেকেই এই ফাইটারের ওপর ভরসা করেনি। শ্রীলংকান এয়ারফোর্সকে পাকিস্তান অফার দিয়েছিলো একটি জেএফ-১৭ বিমান কিনলে একটি এফ-৭ বিমান ফ্রি দিবে তাও শ্রীলংকান এয়ারফোর্স রাজী হয়।

২য় বার পাকিস্তান বাংলাদেশ এয়ারফোর্স কে জেএফ-১৭ ( ব্লক ১) অফার করে ২০১৫ সালে। সেবার আর পাকিস্তানের ফাইটার বলেই রিজেক্ট করেনি বাংলাদেশ এয়ারফোর্স। তবে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স এর পরীক্ষায় টিকতে পারেনি জেএফ-১৭। বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের প্রয়োজনীয়তা পূরন করতে পারেনি সেটা,বিশেষ করে স্পিড ও রেঞ্জ কম ছিলো আর এভয়নিক্স তখনো আন্ডার ডেভেলপমেন্ট। তাই সেবার ও বাংলাদেশ এয়ারফোর্স কর্তৃক জেএফ-১ ফাইটার টিকে রিজেক্ট করা হয়।

এরপর আর পাকিস্তান বাংলাদেশকে অফার করেনি। শেষবার ২০১৭ সালে চীন বাংলাদেশ এয়ারফোর্স কে এফসি-১ অফার করে। তবে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স এর তা মনঃপুত হয়না যেহেতু চীনের জে-১০ বিমান ও মিগ-৩৫ এর মতো বিমান অলরেডি বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের নজরে ছিলো। সেসব বাদ দিয়ে এফসি-১ এর প্রতি কোনরূপ আগ্রহ দেখায়নি বাংলাদেশ এয়ারফোর্স,ফলে ৩য় বারের মতো এই ফাইটার টি রিজেক্ট হয় বাংলাদেশ এয়ারফোর্স কর্তৃক।

বাংলাদেশ এয়ারফোর্স যদিও এখনো সিঙ্গেল ইঞ্জিন জেট ফাইটারের ব্যাপারে কিছু চূড়ান্ত করে নি ( এ বছরের শেষে টেন্ডার ইস্যু হতে পারে) তবুও জেএফ-১৭ এর প্রতি বাংলাদেশ এয়ারফোর্স যে সন্তুষ্ট না তা সহজেই অনুমেয়। প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে,

একান্ত কাকতালীয় কিছু না ঘটলে বাংলাদসশ এয়ারফোর্সে জেএফ-১৭ সংযুক্তির কোনরূপ সম্ভাবনা নেই।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: