আমাদের দেশের মানুষ গুলা বেশি সেন্সিটিভ। শেয়ার বাজারে ভারতের অনুপ্রবেশ নিয়ে খবর প্রকাশ পাবার পর ফেসবুক জুড়ে দেশকে বেচে দেয়া হল আরেকবার। অথচ তখন আমি আপনাদেরকে পোস্ট করে জানিয়েছিলাম কাজ ভারত পাবার কথা না। পাবে চীন।

কেন আমি এটা বলেছি? এর কারন হল বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান চীনের প্রভাব বাড়তেই আছে। আপনারা যদি বিষয়টা একটু বিশ্লেষণ করে নিজের কাছে প্রশ্ন করেন তবেও বুঝতে পারবেন।

বাংলাদেশে যতগুলি প্রজেক্ট বর্তমান আছে তাতে চীনকে দেয়া কাজের পরিমান এত বেশি যে চীনের প্রজেক্ট কন্ট্রাক্ট বাজারে এশিয়ার শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে শুধু অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজেরিয়ার পর বাংলাদেশের অবস্থান। মানে সারা বিশ্বে চীন যে পরিমান প্রজেক্ট কন্ট্রাক্ট পায় তার ভেতর বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। পাকিস্তানের সিপিইসি দিয়েও তারা আমাদের টপকে যেতে পারেনি।

বাংলাদেশে পিপিপি প্রজেক্টে চীন গভির আগ্রহ প্রকাশ করেছে সেই সাথে ২০১৮ এর প্রথম প্রান্তিকে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪৬.৮%!

২০১৮ সালেই চীনের সাথে প্রথম প্রান্তিকে বাণিজ্য প্রায় ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বাড়তেই আছে। ছোট ছোট হাজার প্রজেক্ট বাদ দিলেও বড় প্রজেক্টের ভেতর পদ্মা মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট, কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেইল লিঙ্ক, মহাসড়ক গুলি ৪ লেনে উন্নিত করন, পদ্মা থেকে পানি এনে ঢাকা শহরে সরবরাহ সহ বিলিয়ন ডলারে বহু প্রকল্পে চীন সংযুক্ত রয়েছে।

পদ্মা সেতু এখন কোন স্বপ্ন নয়

দেশে চীনের প্রভার বাড়তেছে যার প্রেক্ষিতে চীন শেয়ার বাজারে যুক্ত হবার আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ কখনোই ভারতের কম অফার মূল্যায়ন করবে না সেটা সার্বিক মুল্যায়ন দেখলেই বোঝা যায়।

সব থেকে বড় কথা, যেখানে ভারত নিজেই এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেখানে কিভাবে আমরা ফেসবুকে ছোট খাটো একটা নিউজ দেখে বুঝে ফেলি দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে?

চীনের গভীর স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশে। সেই সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ ও রয়েছে। যদি এমন হত যে ভারতের সাথে এমন চুক্তি করা হয়েছে যাতে চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে তবে চীন কি বসে থাকবে মনে করেন? তাদের পক্ষ থেকে কিছুই করা হবে না? বাস্তবতা হল, উল্লেখ যোগ্য সব খাতেই যেখানে চীন ভারত দুই দেশ জড়িত সেখানে বাংলাদেশ চীন কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। সেটা পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেখলেও বোঝা যায়।

ভারতের সাথে সামরিক সহযোগিতা স্বারক সাক্ষর নিয়েও দেশ বিক্রি হয়ে গেছে। খেয়াল করে দেখবেন বাংলাদেশ নেভির সাথে চীনের গভির সম্পর্ক। নেভিতে কিন্তু বাংলাদেশ ভারতকে টেনে আনেনি। কৌশুলি হয়ে কোস্ট গার্ডে বিনিয়োগ করতে বলেছে। নেভিতে যেহেতু চীনের স্বার্থ তাই এখানে ভারত কে টেনে এনে বাংলাদেশ দোটানার সমস্যায় পড়তে চাইবে না। আর এটা করলেও চীনের পক্ষ থেকে প্রেশার থাকবে। তাই সামরিক বাহিনীর উপর আস্থা রাখুন।

অনেকেই শেয়ার বাজার নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু সব শঙ্কা আর দেশ বিক্রি সত্ত্বেও চিনের হাত ধরেই ডিজিটাল সিস্টেমে যাচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

তবে বাংলাদেশকে তার নিজের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভারত বা চীন দুই দেশের সাথেই সম্পর্কেই অনেক শর্ত থাকে। বাংলাদেশের জন্য চীনকে দরকার তাদের ফান্ডের জন্য। কিন্তু চীনের প্রতিষ্ঠান গুলির প্রজেক্ট কস্ট বেশি দেখানোর সমস্যা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত হবে জাপান, নেদারল্যান্ড, জার্মানি সহ নরডিক দেশ গুলির সাথে সম্পর্ক ভালো করা। জাপান বা ইউরোপের দেশ গুলির সুবিধা হল এদের থেকে খুব বেশি শর্ত থাকে না। কাজের মান ভাল। সেই সাথে তারা আসলে বাজার প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। ফলে ডিপ্লোম্যাটিক ভাবেও বাংলাদেশের প্রেশার কমে যাবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: