ক্রমাগত চায়নার ঋণ নিতে নিতে এক একটা দেশ ঋণের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে।ব্যাপারটাকে অনেকেই পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা বলে মনে করেন।কিন্তু এসব চীনা যে আসলেই ফাঁদ তার ফল ভোগ করছে শ্রীলঙ্কা।

কয়েকদিন আগের পোস্টে অনেক কিছু বিস্তারিত ক্লিয়ার করতে পারি নাই।বিশেষ করে বাংলাদেশ এই ঋণের ফাঁদে পড়বে কিনা সেটা।আজকে পোস্টটা তাই বিশাল বড়।যদি অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচ নিয়ে সহজ ভাষায় কিছু জানতে চান তাহলে ধৈর্য্য ধরে পড়ুন।প্রথমেই এসব চায়নিজ ঋণের ভিকটিমদের নিয়ে কথা বলতে চাই।

➡প্রথম ভিকটিম: শ্রীলঙ্কা
একটি প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার ৬.৩% সুদে (😵) ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চায়নিজ অর্থায়নে নির্মিত হাম্বানটোটা নৌবন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনকে লিজ দিতে হয়েছে শ্রীলংকাকে।এজন্য আবার ভারতের চাপে রয়েছে বেচারা।কারণ বাণিজ্যের পাশাপাশি চায়নিজ নেভির শিপগুলো এই বন্দর থেকে রিফুয়েলিং সহ অন্যান্য সুবিধা নিবে যা ভারতের অস্বস্তির কারণ।এছাড়াও কলম্বো বন্দরের শেয়ার চীনের আছে।মোট কথা আঞ্চলিক প্রাধান্য বিস্তার তথা ভারতকে বাঁশ দিতে গিয়ে আরেকটা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বাঁশবাগান দিচ্ছে চীন। শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এই বছর সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্ব ১৪.৮ বিলিয়ন ডলার কিন্তু বিশ্বব্যাপি ঋণের পরিমাণ ১২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালে শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চীনের কাছে দেশটির দেনা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

➡ঋণের ফাঁদের নতুন ভিকটিম:
সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপদেশগুলো চায়নিজ ঋণের কেরামতি দেখতে শুরু করেছে।ঋণের বিনিময়ে তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করার চাপ দেয় চীন যা মানতে অস্বীকার করায় কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতে চীনের একটি প্রতিনিধিদলের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছে। ব্যাপারটা হলো, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এই উত্তেজনা বাড়ছে। এই মাসে টোঙ্গা ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার চীনা ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধ করবে। যদিও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিআরআই প্রকল্পের কাছে এই ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার নস্যি। কিন্তু টোঙ্গার কাছে তা অনেক বড় ব্যাপার; তাদের বার্ষিক জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং তাতে দ্বীপটির জাতীয় ঋণের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।ভবিষ্যতে পাপুয়া নিউগিনি ও ভানুয়াতু ঋণ পরিশোধের সময় হলে চাপে পড়বে। পাপুয়া নিউ গিনি সহজ শর্তে চীনের কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল, যা তার মোট ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ভানুয়াতুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও মারাত্মক। কারণ, তার মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি চীনা ঋণ!!
মোট কথা ঔপনিবেশিক যুগের মত একটা দেশকে পরোক্ষভাবে গিলে নিচ্ছে চীন যা সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় নতুন এক স্টাইল।

➡কার কত ঋণ?
২০১৩ সালে নিউ সিল্করুটের উদ্যোগের কথা প্রথম ঘোষণা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাপী রেলপথ, সড়ক এবং বন্দর নির্মাণ করা হবে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে কোটি কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বেইজিং। এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, চীন ঋণের ফাঁদ পেতে তার আওতায় যেসব দেশকে ঋণ দিচ্ছে, সেসব দেশের ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা নেই।এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোতে চীনের বিনিয়োগ #পাঁচ_ট্রিলিয়ন ছাড়িয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে ছয় হাজার কোটি ডলারই সরাসরি বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে এই ভয়ে কিছু দেশ #ঋণ_নিতে বিলম্ব করছে।কারন ফেরত দিতে পারবে কিনা গ্যারান্টি নেই।

গতবছর আগস্টে বেইজিং সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, চীনের অর্থায়নে পরিচালিত #তিনটি প্রকল্প স্থগিত রাখবে তার দেশ। যার মধ্যে দুই হাজার কোটি ডলারের রেলওয়ে প্রকল্পও রয়েছে।অর্থাৎ মালয়েশিয়ার মত উন্নত দেশও ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে পারবে কিনা সন্দিহান!

মালদ্বীপের নির্বাসিত বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ নাশিদ বলেছেন, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে চীনের কর্মকাণ্ড ‘ভূমি দখল’ ও ‘ঔপনিবেশিকবাদের মতো’। মালদ্বীপের ৮০ শতাংশ ঋণ চীন থেকে পাওয়া।২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী চীনের কাছে পাকিস্তানের ঋণ প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার।
জিবুতির ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। কিরগিজস্তানের ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। মন্টেনেগ্রোর ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। মালদ্বীপের ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলঙ্কা প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।

➡চীনের আসল উদ্দেশ্য কি?
চীনের ঋণের ফাঁদে আটকে পড়া দেশগুলোতে চীন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেইসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে যেগুলোতে বিশ্ব ব্যাংক, IMF এর মতো আন্তর্জাতিক #সংস্থা ঋণ দিতে আগেই অস্বীকার করেছে।কারণ হিসেবে তারা বলেছে সেসব প্রকল্পে সাফল্যের সম্ভাবনা নেই।সোজা কথায় এসব প্রকল্পে ঋণ দেয়া(বিনিয়োগ করা) অলাভজনক।অথচ #দেশ চীন সব জেনেও ঐ প্রকল্পগুলোতে ঠিকই ঋণ দিয়েছে।পরে ঐসব দাতা সংস্থার
ভবিষ্যতবাণী (আসলে সার্ভে রিপোর্ট) অনুযায়ী ঋণ নেয়া প্রকল্প গুলো ব্যর্থ হয়েছে।সময়মত ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে #দাতাদেশ চীনকে ঋণের টাকার বদলে অন্য সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছে ঋণ গ্রহীতা দেশ।

মালয়েশিয়ায় চীনের নির্ধারিত বেল্ট এবং রোড ইনিশিয়েটিভের প্রকল্পের সাথে চীনা লক্ষ্যগুলোর একটি যোগসূত্র রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো চীনের বাণিজ্যিক রুট খোলা রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। এর মধ্যে যে কোনো অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে সামুদ্রিক রুট বন্ধ করার চেষ্টা হলে সে পয়েন্টগুলো যাতে বাইপাস করা যায় তার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে কম উন্নত প্রদেশগুলোকে উন্নয়নে একীভূত করার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতেও এসব প্রকল্প বিশেষভাবে সাহায্য করবে। আর কিছু বিআরআই প্রকল্প এমন রয়েছে যেগুলো রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার কৌশলগত প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সাগর লেনগুলোর একটি। উপদ্বীপ মালয়েশিয়া ও বোর্নিও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সমুদ্রাঞ্চল দক্ষিণ চীন সাগরের গেটওয়ে। আর উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার মালাক্কা প্রণালী বাণিজ্যপথ হিসেবে চীনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানি এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে হয়। চীনের রফতানি বাণিজ্যের অর্ধেক এ পথ ব্যবহার করে।
এই প্রণালীর ওপর যেকোনো সম্ভাব্য হুমকিকে বেইজিং কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারে না। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আঞ্চলিক সমুদ্র দাবি বিতর্কে মালয়েশিয়াও একটি পক্ষ। স্বাভাবিকভাবেই, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য দাবিদারের সাথে এক সাথে মিলিত হয়ে মালয়েশিয়া জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে জোরালো সম্পর্ক স্থাপন করুক সেটি চীন চায় না।

অনেকগুলো ক্ষেত্রে চীনের ঋণকে ডলার হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়।কিন্তু বাস্তবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রকৌশল সেবার মতো সুবিধাগুলো দিয়ে থাকে চীন।কিন্তু সরাসরি মুদ্রার (হার্ড কারেন্সি) মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতে বলে দেশটি।
অর্থাৎ চীন কারেন্সির বদলে ঋণ হিসেবে সেবা দেয়,বিনিময়ে ডলার নেয়।এ কারণে কয়েকটা দেশ ঋণের বোঝায় তলিয়ে যাচ্ছে বর্তমানে ৩৫টি সমুদ্র বন্দরের সাথে কোনো না কোনভাবে ঋণ দিয়ে যুক্ত আছে।এভাবে নিজের অর্থনীতি শক্তিশালী করে নিজেকে সুপার পাওয়ার বানাচ্ছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় সিল্ক্করুট প্রকল্পের আওতায় ঋণ গ্রহণকারী আটটি দেশের স্থিতিশীলতার বিষয়ে চরম উদ্বেগের কথা জানা গেছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাকিস্তান, জিবুতি, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, লাওস, মন্টেনিগ্রো, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান।ঐ গবেষণা মতে, ৬৭০ কোটি ডলারের চীন-লাওস রেলওয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মোট জিডিপির অর্ধেক। হর্ন অব আফ্রিকার দেশ জিবুতি ঋণ সংকটের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশটির সরকারি ঋণ ২০১৪ সালে ছিল জিডিপির ৫০ শতাংশ। এটা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ। গত এক দশক ধরে চীনের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী অংশীদার হচ্ছে আফ্রিকা।

➡এই ঋণ কারো জন্য ফাঁদ,কারো জন্য আশীর্বাদ:
আফ্রিকার অনেক দেশ এককভাবে চীনের ঋণের উপর নির্ভরশীল।ফোরাম অন চায়না-আফ্রিকা কোঅপারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আফ্রিকায় নতুন করে ছয় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন

চায়না খালি বাঁশ দিচ্ছে এমন কথা আমিও বলি না।নতুন ঋণ প্রস্তাবের ঘোষণার পাশাপাশি তিনি আগে দেওয়া কিছু ঋণ #মওকুফের ঘোষণাও দিয়েছেন চায়নিজ প্রেসিডেন্ট।তবে স্বার্থ না থাকলে কেউই ঋণ মওকুফ করবে না এটা বুঝতে অর্থনীতিবিদ হওয়া লাগে না।

নতুন ৬০ বিলিয়ন (ছয় হাজার কোটি) ডলারের যে ঋণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শি জিনপিং, তার জন্য #তিন বছর আগেই দাবি তুলেছিল আফ্রিকার দেশগুলো। নতুন বরাদ্দের এক হাজার পাঁচশ কোটি ডলার দেওয়া হবে #সহায়তা ও #সুদবিহীন ঋণ হিসেবে।

ঋণ দেওয়া হবে দুই হাজার কোটি ডলার। দশ হাজার কোটি ডলার দেওয়া হবে চীন-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিলের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে। আরও পাঁচশ কোটি ডলার যাবে আফ্রিকায় #আমদানি_করা_পণ্যের_মূল্য হিসেবে।
(ঘটনা কি বুইঝেন কিন্তু 😛)
শি জিনপিংয়ের ভাষ্য, আগামী তিন বছরে চীনের বিনিয়োগকারীরা অন্তত এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবেন আফ্রিকায়।

➡চায়নিজ ঋণের আরো একটি সমস্যা হচ্ছে চিন মূলত কোন দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে লোন দেয়।বেশিরভাগ সময় লোনের শর্ত থাকে ঐ কাজ কোন চাইনিজ কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হবে।ঐ কোম্পানি গুলো আবার প্রোজেক্টে ইন্জিনিয়ার,অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ লেবার পর্যন্ত চিন থেকে নিয়ে আসে।পদ্মা সেতুর দায়িত্বে থাকা চীনা কোম্পানি চায়নিজ প্রশিক্ষিত/অপ্রশিক্ষিত লেবার পর্যন্ত আমদানি করেছে যা মূলত বাংলাদেশ থেকেই নেয়ার কথা।এই পদ্ধতিতে ঋণগ্রহীতা দেশ শুধুমাত্র প্রোজেক্টের অবকাঠামোটি পায়।তার আর কোন লাভ হয় না।পদ্মা সেতুতে আমাদের লাভ হবেনা এমনটা বলছিনা।বলছি স্থানীয় কর্মসংস্থানের কথা।

চীন ঋণের টাকা ঐ কোম্পানি ও ওয়ার্কার্সদের কাজের মাধ্যমে দেশের টাকা দেশেই ফেরত নিয়ে চলে যায়,তাদের জনগণের বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।আবার সুদসহ ঋণের টাকাও গুনে নেয়।অন্যদিকে সবকিছু মিলিয়ে ঋণগ্রহীতা দেশ উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

➡প্রসঙ্গ পাকিস্তান
একবার ভেবেছি পাকিস্তান নিয়ে লিখবো না।কারণ কমেন্টে কতিপয় পাকিপ্রেমী আঁতেলের আবির্ভাব ঘটবে।অন্যদিকে চাইনিজ ঋণ নিয়ে লিখতে গেলে অবশ্যই পাকিস্তান প্রসঙ্গ আসবে।কারন সবচেয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেনায় আছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৩’র জুনে চীন-পাকিস্তানের এ দ্বিপাক্ষিক ঋণের পরিমাণ ছিল চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭’র জুনে ঋণের পরিমাণ আগের চার বছরে প্রায় তিন বিলিয়ন বেড়ে দাঁড়ায় ৭.২ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিপাক্ষিক ঋণের বাইরেও ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে ঋণের অংকটা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলারে। তাছাড়া চীনের সরাসরি বিনিয়োগকারীদের কাছে পাকিস্তানের ঋণ রয়েছে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।
২০১৭ সালের এ পরিসংখ্যানটাকে ভিত্তি করে ২০১৭’র ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ ৮৩.১ বিলিয়ন থেকে ৮৮.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তা বেড়েই চলেছে। এছাড়া চলতি বছরের ঋণের পরিমাণটা যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।অন্যান্য সকল প্রজেক্ট এর সুদের হিসাব মিলিয়ে যা ২০১৮ তে ৫২ বিলিয়নের মত।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তানকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

সিপিইসির অধীনে পাকিস্তানের জ্বালানিখাতসহ ১৯টি প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছে চীন। এ বিনিয়োগটি বার্ষিক ৭ শতাংশ সুদসহ ২৫ থেকে ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য। অর্থাৎ ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী ৪৩ বছর প্রতিমাসে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ #বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে পাকিস্তানকে।

এটা একমাত্র আলাদিনের চেরাগ হাতে পেলে কিংবা বাংগালি পাকিপ্রেমীদের পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান দিলে সম্ভব 😂😂

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন-পাকিস্তান করিডোর (সিপিইসি) থেকে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের লাভবান হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি পাকিস্তানের অনুকূলে কথা বলছে না। বরং, সিপিইসির ওপর পাকিস্তানের নির্ভরশীলতা ও চীনের প্রতি অতি আস্থা ও নির্ভরতা দেশটির অর্থনীতির জন্য বিরাট জুয়া খেলা হতে চলেছে।যদিও সিপিইসি প্রজেক্ট পাকিস্তানের অর্থনীতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে সক্ষম, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ভয়, এ পরিবর্তনের জন্য পাকিস্তানকে চীনের কলোনি হিসেবে তুলে দিতে হতে পারে।
তাছাড়া, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপালসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে’র অংশ হিসেবে চীনা বিনিয়োগ সবসময়ই অভ্যন্তরীণ বাজার ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চীনের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সিপিইসি’র প্রভাব
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর একটি। এর মধ্যে মহাসড়ক, রেলপথ, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, জ্বালানি, বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ বহুপ্রকল্প রয়েছে। এই অর্থনৈতিক করিডোরের কিছু অংশ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। চীন থেকে ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়েছে গোয়াদার বন্দর পর্যন্ত। সেখান থেকে চীনের পণ্য যাচ্ছে আফ্রিকায় এবং পশ্চিম এশিয়ায়।
পাকিস্তানের ক্ষমসাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন সিপিইসি দেশটির অর্থনীতির পুরো চিত্রই পাল্টে দিতে সক্ষম।কিন্তু পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, এ প্রকল্পটি পাকিস্তানের জন্য তেমন কোনো সুফল বয়ে আনবে না।কারন চীনারা স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করছে না, ফলে পাকিস্তানের যুবসমাজে খুব কমই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাছাড়া চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য পাকিস্তান (অনেকটা বাধ্য হয়ে) ট্যাক্স ছাড়ের সুদূরপ্রসারী সুযোগ দিতে চলেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের উৎপাদনখাতে ধস নামতে চলেছে। এতে স্থানীয় বাজার সয়লাব হয়ে যাবে চীনা পণ্যে।

➡ঋণের ফাঁদে ইউরোপীয় দেশ!
চীনের বিনিয়োগের জালে ফেঁসেছে আলবেনিয়া, বসনিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, মেসিডোনিয়া ও মন্টিনিগ্রো। ওয়াশিংটনভিত্তিক আইএমএফ বলছে, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মধ্যে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে এসব দেশ।বলকান রাষ্ট্রগুলোর জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশই ব্যয় হচ্ছে এ ঋণ পরিশোধে। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, মন্টিনিগ্রো গত বছর জনকল্যাণমূলক ব্যয় হ্রাস, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কর্তন ও সিগারেট, অ্যালকোহল ও কয়লার ওপর কর বাড়িয়ে দেয়।আইএমএফের তথ্যানুসারে, জিডিপিতে ঋণের পরিমাণ
আলবেনিয়ার ৬৯.৯২%
বসনিয়ার ২৬%
বুলগেরিয়ার ২২.৭ %
ক্রোয়েশিয়ার ৭৮%
কসোভোর ১৬.৬৩%
মেসিডোনিয়ার ৩৮.৭%
মন্টিনিগ্রোর ৬২.৫%

➡প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
চায়নিজ ঋণের অন্যতম বড় গ্রহীতা বাংলাদেশ।শত্রু ভারতের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।তাই বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছে চীন।তবে সুদের হার বেশি

কিন্তু ঋণের টাকা কাজে লাগাতে পারবে তো বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ চায়নিজ ঋণের ফাঁদে পড়বে কিনা?

২০১৬ সালে চায়নিজ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সফরকালে ২৪.৪৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল চীন যা বাংলাদেশ এর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি!
এর আওতায় ঢাকা-সিলেট চার লেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-মাওয়া-যশোর রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে তিনটি বড় প্রকল্পে অর্থায়নে ৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে চীন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২% সুদের হার।অন্যদিকে জাইকা,আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এর সুদহার ০.৭৫% থেকে ১% যা অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ১.৫% ও কম।

চায়নিজ ঋনের সার্ভিস চার্জসহ পরিশোধ করতে হবে ২.৪৫% প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ফি ধরা হয়েছে ০.২% এবং প্রতিশ্রুতি ফি ০.২৫%। ঋণ পরিশোধের সময় দেওয়া হয়েছে ২০ বছর (৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ)। এছাড়া চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ফি পুরোটা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, চীনের এই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের বিপদ বাড়তে পারে। কারণ, চীন থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে সার্ভিস চার্জসহ ২.৪৫% হারে।শর্ত অনুযায়ী পাশাপাশি প্রকল্পের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্য #চীন_থেকেই_আমদানি করতে হবে। এছাড়া চুক্তি কার্যকরের এক মাসের মাথায় পরিশোধ করতে হবে চুক্তির ব্যবস্থাপনা ও প্রতিশ্রুতি ফিও।এছাড়া এইসব ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ঠিকাদার হবে চীনের প্রতিষ্ঠান। দরপত্র ছাড়াই নিয়োগ দিতে হবে এসব ঠিকাদার!!
ফলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারিত হবে পারস্পরিক দর কষাকষির মাধ্যমে। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। এ অবস্থায় ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি যথাসময়ে প্রকল্পগুলো শেষ হওয়া নিয়েও সংশয় থাকবে। এতে করে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়ারও আশঙ্কা থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের টোটাল বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। চীনের ঋণ যুক্ত হলে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়বে প্রায় ৬৬ শতাংশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশ ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।প্রকল্প গুলো দুর্নীতি,রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা অন্য যেকোনো কারনে বিলম্বিত হলেই বিপদে পড়বে বাংলাদেশ।

বিগত অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টে সাত বছর পর ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘাটতি হয়েছিল ২০১০-১১ অর্থবছর শেষে। তবে আশার কথা এই যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সময়মতো ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়নি।

➡কয়েকটি উদাহরণ:
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প তে ২০১৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইকালে এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সময় এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৪৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। একই অবস্থা ঢাকা-সিলেট চার লেন প্রকল্পেও। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে চার লেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১২ হাজার কোটি টাকা। এখন এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।কিছুদিন আগে শুনেছিলাম কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে অর্থ ছাড় করতে গড়িমসি করছিল চায়নিজ ব্যাংক।এ বিষয়ে আপডেট তথ্য জানা নেই আমার।

➡ পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মিলবে চীনের কাছ থেকে। বাকিটা (১৮ হাজার ২২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা) বাংলাদেশকে দিতে হবে।
আর প্রকল্প সমাপ্তির সময় ধরা হয়েছে ৩০ জুন ২০২৪। বিপরীতে বর্তমান সরকার ২০১৯ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে চাইছে। সংশোধিত প্রকল্পে বাড়ছে ব্যয়ও। আগের প্রকল্পপ্রস্তাব অনুযায়ী এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে চীনের ঋণ ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।
১০ হাজার ২৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প শেষের সময় নির্ধারিত ছিল ২০২২।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের প্রথম ‘ধাক্কা’ বাংলাদেশ পাচ্ছে এ খাতেই। গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোনের পরিবর্তে ঋণ নিতে হচ্ছে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটে।

ইআরডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন চীন সরকারের নিজস্ব অর্থ থেকে দেয়া হয়। তা দেয়া হয় চীনা মুদ্রায় অর্থাৎ আরএবি ইয়ানে। এ ঋণ চীন ইচ্ছে করলে মওকুফও করে দিতে পারে।
যেমন ঢাকায় চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) নির্মাণে এমন ঋণ ছিল। পরে চীন সরকার তা মওকুফ করে দিয়েছে। বিপরীতে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রে চীন সরকারের অর্থ হলেও সেটি দেয়া হয় চায়না এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে মার্কিন ডলারে।এক্ষেত্রে ব্যাংকের চার্জ বাড়তি গুনতে হয়। এ ঋণ মওকুফের কোনো সম্ভাবনা নেই।তাছাড়া বায়ার্স ক্রেডিটে ৮৫ শতাংশ অর্থ চীন দেবে, বাকিটা সরকার বা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দিতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পসহ কয়েকটি প্রকল্পে বায়ার্স ক্রেডিট এবং কনসেশনাল ঋণ মিলিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি তৈরি করা চীনের নতুন ঋণ পদ্ধতিও প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ঋণ নিতে বাংলাদেশকে বাধ্য করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের ছোট ঋণ হলে কনসেশনালে, এর ওপরে হলে বায়ার্স ক্রেডিটে নিতে হবে। এতে সুদহার যেমন বেশি, রয়েছে বিভিন্ন ফিও।

এত কথার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ফাঁদে পড়ে নি কিন্তু ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।প্রকল্পগুলো একটু এদিক সেদিক হলেই চেইন রিয়েকশন শুরু হবে।প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে,জনগণের ওপর বাড়তি ঋণের বোঝা চাপবে।তাই অর্থনীতিবিদ নাহলেও এটুকু অন্ততঃ উপলব্ধি করতে পারি যে এসব হাইলি সেনসিটিভ ঋণ প্রকল্প শুধু সরকারি আমলাদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির হাতে রাখা উচিৎ।
কেননা চীনের ঋণ গুণগত মানসম্পন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যবহার করা হলে তা দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়াবে। এর ফলে সরকারের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাও বাড়বে।উল্টোটা হলে শ্রীলঙ্কা,পাকিস্তানের মত হলে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ।

মনে রাখতে হবে,
আমাদের অর্থনৈতিক বিপদে এগিয়ে আসার মত পরীক্ষিত বন্ধু কেউ নেই।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: