খেলার সাথে রাজনীতি মিশেছিল ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে। পাকিস্তান দল প্রথম এসেছিল বাংলাদেশ সফরে, আসলে পরের ভারত সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে। বিমানবন্দর থেকে নেমে ইমরান খান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে “নমস্তে” উচ্চারিত করেন, প্রকৃতপক্ষে যা বোঝাতে চাইলেন আদতে দশ বছর বয়সী বাংলাদেশ ভারতেরই একটা অংশ। এরপরে আরেক খেলোয়াড় বড়ে মিয়াঁ তথা জাভেদ মিয়াঁদাদ ঘটালেন আরেক কলঙ্কিত কান্ড, উপস্থিত তরুণীদের হাতের মালা, যা ক্রিকেটারদের বরণে ব্যবহৃত হচ্ছিল, ফেলে মাটিতে পিষে দেন।

চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে তার প্রতিশোধ উঠেছিল দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির পরে, ড্রেসিংরুমে গিয়ে বেধরক পিটুনি দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের। “৭১ ভুলি নাই, পাকিস্তানের ঠাঁই নাই” স্লোগান দিয়ে জাভেদ মিয়াদাঁদ কে আচ্ছামত পিটুনি দেয় জনতা, স্পিনার কাসেমের হাত ভেঙ্গে ফেলে। বাদ যায় নি একটি শিশু, যার পিঠে চেয়ার ভাঙ্গে নি। বাতিল হয় সিরিজ। ১৯৯০ সালের আগে আর এই দেশে আসে নি পাকিস্তান।

১৯৮৫ সালের ৩১ মার্চ, এশিয়া কাপের খেলা, পাকিস্তান আর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম স্বীকৃত একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা। সেই ম্যাচে তাচ্ছিল্য করে পাকিস্তান, মাঠে গিয়ে টস করতে অস্বীকৃতি জানায়, বরং ড্রেসিংরুমেই টস করতে চায়। যদিও তাদের আবদার ধোপে টেকে নি।

নমস্তে জানানো সেই ইমরান খানের চাচা ছিলেন আমীর আব্দুল্লাহ খান মোহাম্মদ নিয়াজী , পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যার নাম টাইগার নিয়াজী। মে থেকে ডিসেম্বরের অসংখ্য গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের নীলনকশার অন্যতম প্রণেতা, হাজার হাজার নারী নির্যাতনকারী সেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন অংশের প্রধান।

ত্রিশ লক্ষ শহিদ আর দুই লক্ষ নারী নির্যাতনের হুকুমদাতা নিয়াজীর ভাতিজা ইমরান খান, যিনি আজ পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী, তিনি খেলার সাথে রাজনীতি মিশিয়ে আমাদের অপমান করেছিলেন আজ থেকে ৩৮ বছর আগেই। অথচ পাকিস্তানের খেলা হলেই আমরা অর্গাজমে আক্রান্ত হয়ে যাই, ভাই ভাই তত্ত্ব চলে আসে, খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না ঠিকই আসে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: