সাল ২০০২। লুইয়েন সো ( ছদ্মনাম ) নামে এক বার্মিজ তরুন রেঙ্গুনে গিয়েছিলেন তার চাচীর সাথে দেখা করতে। পথিমধ্যে তাকে একজন অফিস্যার আটকায় ও তার আইডেন্টিটি কার্ড দেখতে চায়। সে জানায় যে তার চাচীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। সে তার আইডি কার্ড দেখালে অফিসার টি তার আইডি কার্ড ছিড়ে ফেলে ও তাকে আইডি কার্ড না থাকার কারনে গ্রেফতার করে। তাকে হুমকি দেওয়া হয় যদি সে সেনাবাহিনীতে যোগ না দেয় তবে তাকে সারাজীবন জেলে পুড়ে রাখা হবে।
.
সে বার্মিজ সেনাদের নির্যাতনে অবশেষে মায়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে সম্মত হয়।তার অন্যান্য কোন যোগ্যতা পরীক্ষা কিছুই হয় নি। তাকে “Tha Hton” মিলিটারি বেসে নিয়ে যাওয়া হয় ও সেখানে তার ৪ মাসের ট্রেনিং হয়। সে ট্রেনিং এর পর তার কর্মস্থল হয় বার্মিজ আর্মির ১০২ লাইট ইনফ্যান্টি ব্যাটালিয়ন। সে ব্যাটালিয়নে শিশু সেনারাও ছিল।
.
সে জানায়,সৈনিক দের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও অফিসার রা সৈনিক দের সাথে অকথ্য গালাগালি ও নির্যাতন করতো। ব্যাক্তিগত কাজ করানো তো স্বাভাবিক ব্যাপার,সামান্য ব্যাপারেও বেয়নেট দিয়ে খুচিয়েও জখম করে ফেলত। আর প্রহার তো নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। সে যখন সেনাবাহিনীতে যোগদান করে,তখন তার বেতন ছিল ৩৫০০ কিয়াট বা ২.৬ ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ২০৮ টাকা মাত্র। এর দশ বছর পরে যখন সে বার্মিজ আর্মি হতে পালিয়ে যায় তখন তার বেতন ছিল ৪৫,৬০০ কিয়াট বা বাংলাদেশী টাকায় ২৭১৪ টাকা। সে জানায়,সে বার্মিজ আর্মিতে সৈনিক হিসেবে না বরং বন্দি হিসেবেই নিজেকে মনে করত। তার মতো লোকেরাই মায়ানমার সেনাবাহিনীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
.
উপরে যে বেতনের কথা বললাম,সেটা অফিশিয়াল হিসাব। বাস্তবতা হলো সৈনিক রা সেটাও পুরোপুরি পেত না / পায় না। অফিসারদের বিভিন্ন ফান্ড,অনুষ্ঠানের চাদা ইত্যাদি তাদের বেতন হতে কেটে রাখা হয়।
.
যেহেতু সৈনিক দের বেতন যথেষ্ঠ না,তাই সৈনিক।দের স্ত্রী দের বাইরে কাজ করতে হয়।কিন্তু তা সহজ না,কারন এরজন্য অথিরিটির অনুমতি।লাগে,যা সচরাচর তারা পায় না। তাই মানবতের জীবন ই কাটাতে হয় তাদের। আর রেশনের অবস্থাও খুবই ভয়াবহ। ছেলেমেয়ের শিক্ষার জন্য ২০০০ কিয়াট বি
রাদ্দ থাকে,যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২০ টাকা। বার্মিজ সেনাদের অধিকাংশ সেনারাই তাই সন্তানদের লেখাপড়া করাতে সক্ষম হয় না।
.
সে জানায়, বার্মিজ সেনা অফিসার দের লুটপাট খুবই কমন বিষয়।প্রায়ই নানান গ্রামে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন ট্যাক্সের নামে চাদা তুলে। কিন্তু কোন কাজ করে না। সে তার আরেকটি অভিজ্ঞতায় জানায়, সে যখন তার ব্যাটালিয়ন এর সাথে ডুপ্লায়া গ্রামে গেলো সেখানে গ্রামের লোকেদের দিয়ে আর্মির পুরো পরিবহনের কাজ করানো হলো। তাদের ট্রাক্টর সহ অন্যান্য যান ব্যবহার করা হলেও গ্রামবাসীদের কোন মজুরি দেওয়া হয়নি। সে টাকা মূলত অফিসার দের পকেটে গিয়েছে।
.
এসব অমানবিক কর্মকান্ড এর ফলে আর্মির প্রতি তার মন ব্যাপক বিষাক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও,সে আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছিলো না ও তার বেতন ও খুবই অল্প যা তার জন্য মোটেও যথেষ্ঠ ছিল না। তাই সে মায়ানমার সেনাবাহিনী হতে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
.
১১ ই জুন ২০১১ সালে সে বার্মিজ সেনাবাহিনী হতে পালিয়ে যায় ও থাইল্যান্ডের এক ব্যাক্তির কুড়েঘরে আশ্রয় নেয়। সেনারা তার পিছু নিয়ে তাকে ফেরাতে চেস্টা করে ও একপর্যায়ে গুলি চালায়। কিন্তু সে ‘মোই’ নদীতে লাফ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। এভাবে সে এক অহনীয় নরক হতে মুক্তি লাভ করে। এ তথ্যগুলো সে জানিয়েছে ক্যারেন নিউজ ওয়েবসাইটের এক রিপোর্টে।
.
মায়ানমারের অত সেনা,এত অল্প বাজেটেও এত কিছু কিভাবে,তা আশা করি এবার পাব্লিকের মাথায় ঢুকেছে :/

Facebook Comments

1 Comment

Al Jaim Pappu · December 14, 2017 at 2:33 am

বাজেট যেমন ফিডব্যাক ও তেমন হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: