আপনাদের অনুরোধের ভিত্তিতে বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার টানাপোড়েনের জের ধরে কিম জং উনের উত্তর কোরিয়ার সেরা পাচ সমরাস্ত্র নিয়ে এ পোস্ট টি করলাম। খুব বেশি বড় হয়ে যায় বিধায় বিশদ বর্ননায় গেলাম না আপনাদের সংক্ষিপ্ত একটা ধারনা দিলাম।

৫.Pokpung-Ho III মেইন ব্যাটল ট্যাংক

তালিকার পঞ্চম স্থানে আছে এই নর্থ কোরিয়ার Pokpung-Ho III MBT। নামটি একটু হাস্যকর তবে ট্যাংকটি কিন্তু নর্থ কোরিয়ার ট্যাংক বহরের মেরুদন্ড। এটি প্রধানত রাশিয়া টি-৭২ ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ৪৪ টনের এ ট্যাংকটি টি-৭২ গোত্রের হলেও নর্থ কোরিয়ার অন্যান্য ট্যাংকের মতো অতটা আউটডেটেডও নয়। কারন এটির আছে নাইট ফাইটিং ক্যাপাবিলিটি। এটিতে রয়েছে একটি ১২৫ মি.মির মেইনগান। তাছাড়া কদিন আগের প্যারাডে দেখা গেছে যে এটির মাউন্টে দুইটি স্যাম ও টারেটের অপর প্রান্তে দুইটি এটিজিএম ( অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল ) আছে। এছাড়াও এতে ৭.৬২ মি.মির মেশিনগান ও ৩০ মি.মির অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার রয়েছে।

৪.Nodong মিডিয়াম রেঞ্জ ব্যালেস্টিক মিসাইল

তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে Nodong মিডিয়াম রেঞ্জ ব্যালেস্টিক মিসাইল। নর্থ কোরিয়ার জন্মশত্রু সাউথ কোরিয়ায় আঘাত হানার জন্য এই ব্যালেস্টিক মিসাইলগুলিই বেস্ট উপায়। এটি মুলত রাশান স্কাড মিসাইলের মোডিফাইড উন্নত ভার্সন। এর ফলে সাউথ কোরিয়া পুরোটা নর্থ কোরিয়ার রেঞ্জের ভিতরে,এবং প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে এটিকে কাউন্টার করা অত্যন্ত কঠিন। আমেরিকা মুলত এটিকে ঠেকাতেই সাউথ কোরিয়ায় থাড মিসাইল মোতায়েন করেছে।এটি মোট ১০০০ কেজি নিউক্লিয়ার কিংবা সাধারন ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এটির রেঞ্জ প্রায় ১৫০০ কি.মি। নর্থ কোরিয়ার দাবী তাদের কাছে এমন ২০০ টি মিসাইল আছে তবে আরো বেশিও হতে পারে।

৩.KN-06 স্যাম

তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে KN-06 স্যাম। এটি নর্থ কোরিয়ার নতুন অস্ত্রগুলোর অন্যতম এবং তাদের বহরে থাকা আদিমযুগের স্যামগুলির তুলনায় বেশ উন্নত। এটি একটি লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম (স্যাম).এটি সর্বপ্রথম ২০১১ তে টেস্ট ফায়ার করা হয়। এটির কার্যপদ্ধতি অনেক টাই রাশান এস-৩০০ এর মতো,তবে এই মিসাইলের কার্যক্ষমতা এস-৩০০ হতে কম বলেই ধারনা করা হয়। এর রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কি.মি। এটি একা নর্থ কোরিয়ার পক্ষে তৈরি করা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। এই ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ব্যাপক সহায়তা করে উত্তর কোরিয়াকে।

২.সিনপু ক্লাস সাবমেরিন

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে সিনপু ক্লাস সাবমেরিন। নর্থ কোরিয়া বেশ আগেই এমন একটা সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহন করে যা হতে ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা যাবে। এটা নর্থ ককোরিয়া বেশ গোপন রাখে। কয়েক বছর আগে এটা সম্পর্কে কোরিয়া নিজেই তথ্য প্রকাশ শুরু করে। এটি হতে Pukkuksong-1 ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব।এই ব্যালেস্টিক মিসাইলের রেঞ্জ প্রায় ৮০০-২৫০০ কি.মি বলে ধারনা করা হচ্ছে। এই সাবমেরিন টি মাত্র ১৬০০ টন। অথচ ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপন যোগ্য সাবমেরিন সাধারনত আরো অনেক বড় হয়। নর্থ কোরিয়া এই ক্লাসের আরো বড় সাবমেরিন নির্মান করতে চায় যা হতে একাধিক ব্যালেস্টিক নিক্ষেপন করা যাবে। এটি নি:সন্দেহে একটি চিন্তার কারন হয়ে দাড়াচ্ছে শত্রু রাস্ট্রগুলির জন্য।

১.KN-08 আন্তঃমহাদেশীয় ব্যলেস্টিক মিসাইল 

তালিকার শীর্ষে আছে KN-08 ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল। নর্থ কোরিয়ার চীরকালের স্বপ্নই হলো এমন কোন ব্যলেস্টিক মিসাইল বানানো যা আমেরিকার অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম। KN-08 ব্যালেস্টিক মিসাইল ও সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা। এটি দ্বারা হয়ত নর্থ কোরিয়া আমেরিকায় আঘাত হানতে সক্ষম হতেও পারে,অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ এমনকি আমেরিকার এক সামরিক কর্মকর্তাও অনেক টা এমন মতই দিয়েছেন। যদিও এই মিসাইল টি এখনো অপারেশনাল না। ধারনা করা হয় এই ব্যালেস্টিক মিসাইল টির রেঞ্জ প্রায় ৮০০০-১০০০০ কি.মি ( অসমর্থিত সূত্র )। খুব সম্ভব এটি ২০২১ এর আগেই অপারেশনাল হবে। এটিকে এক নাম্বারে রাখলাম কারন এই একটি মাত্র অস্ত্র যা কিনা আমেরিকার (হয়ত) ভুমিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সবশেষ বলতে হয়,হ্যা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রগুদামের অধিকাংশই ভাঙ্গারি অস্ত্র দিয়ে ভরা। তবুও এদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র আছে যা আমেরিকার জন্য বিশেষ চিন্তার কারন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি তারা শেষ অস্ত্র হিসেবে পরমানু বোমার প্রয়োগ ও ঘটাতে পারে মরনকামড় হিসেবে। তাই হালকা হলেও উত্তর কোরিয়াকে হালকা চোখে দেখা আমেরিকার জন্য এক বিরাট ভুল হবে…

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: