জীনম রহস্য উৎঘাটন আবারও সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ এর বিজ্ঞানীরা।ইলিশের জীন রহস্য উৎঘাটন, অপার সম্ভবনার সামনে বাংলাদেশ এর মৎস্য খাত।

প্রয়াত ড. মাকসুদুল আলম স্যার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে পেপের জীনম রহস্য উৎঘাটন করেছিলেন। যার পেটেন্ট পায় আমেরিকা। এরপর মালয়েশিয়া তাকে ডেকে নিয়ে রাবারের জীনম রহস্য উন্মোচন করেন। পেটেন্ট পায় মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের সরকারের কাছে তিনি বার বার আবেদন জানিয়েছিলেন নিজ দেশের জন্য কিছু কাজ করবেন। তাকে সহায়তা করতে। অবশেষে গত মেয়াদে সরকার তাকে দেশে আসার আহবান জানায়। তাকে গবেষণার জন্য রিসার্চ ফ্যাসিলিটি বরাদ্ধ দেয়। ফলাফল আপনারা দেখেছেন।

বিশ্বের বুকে জীনম রহস্য উন্মোচনকারী দেশ হিসাবে নাম লেখায় বাংলাদেশ। পাটের দুইটি ভ্যারাইটি এর জীনম কোড ব্যাখ্যা করে রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। এর ধারাবাহিকতায় ড. মাকসুদুল আলম স্যার তার টিম কে নিয়ে উন্মোচন করে ফসলের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবন রহস্য। যেখানে ভারতের মত দেশ জীনম রহস্য উন্মোচনে সফলতা দেখাতে পারেনি সেখানে বাংলাদেশ বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মহলে নতুন করে পরিচিতি পায়। আসতে থাকে একের পর এক রিকুয়েস্ট। নিউজ ল্যান্ড তাদের কিউ ফলের জীনম রহস্য উন্মোচনের জন্য স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু স্যার তার কাজ শেষ করে যেতে পারেন নি। আমাদের সবাইকে কাদিয়ে তিনি পরপারে চলে যান।এরপর বাংলাদেশের আরেকটি সাফল্য এসছিল মহিষের জীনম কোড ব্রেকের ক্ষেত্রে।

সর্বশেষ সফলতা দেখিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা স্যার ড. মং সানো মারমা। স্যার নিজে আমেরিকায় জীন রিসার্চ ফ্যাসিলিটি তে কর্মরত আছেন। তার মাথায় আসে দেশের জন্য কিছু করার। আর তার প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের জীনম সিকুয়েন্সের রহস্য উৎঘাটন করার মনস্থির করেন৷ 
তিন মহাদেশে কাজ করা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে শুরু করেন এই কাজ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর হাসিনা খানের নেতৃত্বে শুরু হয় কাজ। আমেরিকা থেকে ইলিশের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়৷ কিন্তু সেটা আশানুরুপ ছিল না। এরপর বঙ্গোপসাগর, মেঘনা উপকূল, পদ্মা থেকে ইলিশের স্যামপল সংগ্রহ করা হয়। অবশেষে প্রায় ১ বছর পরিশ্রম করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সফল হয়।

জীন কি?

একটি প্রাণী বা উদ্ভিদের বংশগত এবং জীবন ধারার সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে সেটির DNA এর ভেতর। ডিওক্সি রাইবো নিউক্লিয়িক এসিডের ভেতর উদ্ভিত বা প্রানীর বৈশিষ্ট্য সমুহ লুকায়িত থাকে। তাই এর জটিল তথ্য যদি বিশ্লেষণ করা যায় তবে সেটি অনেক ভাবে আরো উন্নত প্রজাতি সৃষ্টিতে কাজে লাগতে পারে।

ইলিশের জীনম রহস্য উৎঘাটন আমরা যেই সুবিধা পেতে পারি

ইলিশের জীনের বায়োকেমিক্যাল অক্ষরের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন। আর জীনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০,০০০।

জীনম সিকুয়েন্সিং এর ফলে এখন থেকে আমরা জানতে পারব কেন ইলিশ সমুদ্র ছেড়ে পদ্মায় রয়ে গেছে। অথবা এদের প্রজননের ধরণ কেমন, গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করতে পারব কোন ধরনের প্রটিন ইলিশের গঠনে রয়েছে। কি কি জীনের কারনে ইলিশের আচরন, বিচরন প্রভাবিত হয়। হয়ত পুকুরে কিভাবে ইলিশকে বাণিজ্যিক চাষের উপযোগী করা যায় সেটাও আমরা জানতে পারব আরো গভীর ভাবে। বঙ্গোপসাগরের ইলিশের সাথে পদ্মার ইলিশের পার্থক্য কেন, অথবা কিভাবে ইলিশের দ্রুত বৃদ্ধি, কিভাবে ইলিশকে ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়ার উপযোগী করে তোলা যায়। এসব সহ হাজারো তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

ইলিশের জি আই প্যাটেন্ট এখন বাংলাদেশের। এই উদ্ভাবন এটাকে আরো তরান্বিত করবে। ২০০২-০৩ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লক্ষ টন। ২০১৬-১৭ সালে এসে সেটি প্রায় ৪.৯৬ লক্ষ টনে দাড়িয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এটি দারুন কাজে আসবে।

FrontLineBD পক্ষ থেকে আমরা শ্রদ্ধা জানায় প্রয়াত ড. মাকসুদুল আলম স্যার কে। সেই সাথে ড. মং সানো মার্মা স্যার কে। এবং এই কর্মযজ্ঞের সাথে জড়িত বাংলাদেশের সকল বীর বিজ্ঞানীদেরকে৷

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: