আজকে আপনাদের জানাব ইসরাইল এর পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে উঠার কাহিনী। ইসরাইল রাষ্ট্রটি ছোট। মূলত তারা অবৈধ জায়গায় অবৈধ ভাবে বসবাস করে। তারা উপলব্দি করে,রাষ্ট্রকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়,আমাদের পারমাণবিক বোমা দরকার। তারা যুদ্ধবাজ জাতি। ১৯৪৮ সালে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টায় জড়িত হয়ে পড়ে। ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরী করার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান হল ফ্রান্সে ও যুক্তরাষ্ট্রের। এই দুটো দেশ যদি সাহায্য না করত, তাহলে কোনদিন ইসরাইল পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারত না।

ইসরাইলের পারমাণবিক বোমার জনক বলা হয় ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা ডেভিড বার্গম্যানকে। ষাটের দশকে দেশটি পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর লক্ষে ১৯৫০ সাল নাগাদ তারা বিরশেবার কাছে ও সিডনে নিন্মমানের ইউরেনিয়াম মজুদ খুঁজে পান। ১৯৫২ সালে ইসরাইল গোপনে আণবিক শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। ৬০-এর দশকে ব্রিটেনের মধ্যস্থতায় নরওয়ের কাছ থেকে ইসরায়েল ২০ টন হেভি ওয়াটার সংগ্রহ করে। একই সময়ে আর্জেন্টিনা ইসরায়েলকে ১০০ টন ইয়েলো কেক সরবরাহ করে। অথচ এই দু’টি ভয়ঙ্কর উপাদান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত না হয় সেজন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে কোনো গ্যারান্টি নেয়নি দাতা দেশগুলো। পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিকে ইসরাইলি পারমাণবিক ক্ষেত্রে ইসরাইল ও ফ্রান্স একে অপরকে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে। ইসরাইলি বিজ্ঞানীরা ফ্রান্সের মারকিউলে’তে জি-১ প্লুটোনিয়াম উৎপাদন রিঅ্যাক্টর ও ইউপি-১ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প নির্মাণে সহায়তা করে। হেভি ওয়াটার উৎপাদন ও লোগ্রেড ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত দু’টি ইসরাইলি প্যাটেন্ট থেকে ফ্রান্স লাভবান হয়েছিল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যে বহুক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। ইসরাইলকে প্লুটোনিয়াম বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তিসহ ইএল-৩ টাইপের ১৮ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন একটি ফরাসি গবেষণা রিঅ্যাক্টর সরবরাহে দু’টি দেশের মধ্যে ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে চুক্তি হয়। পরে এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ মেগাওয়াটে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে তার ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে প্রকাশ পায়, এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ছিল ১২৫-১৫০ মেগাওয়াট। শুধু প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের জন্য এ রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা এতটুকু বাড়ানো হয়েছিল। কিভাবে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল তা অজানাই থেকে যায়। ১৯৬১ সালে দিমোনা রিঅ্যাক্টর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কে টানা পোড়েন দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নির্মানে ইসরাইলের যুক্তি মেনে নেয়। আজ পর্যন্ত যতগুলো দেশ পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হয়েছে তাদের প্রত্যেকেই পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে।

কিন্তু পারমাণবিক পরীক্ষা ছাড়া ইসরাইল পরমাণু শক্তিধর হলো কিভাবে? প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যে যে ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা ছিল তাতে পারমাণবিক ডিভাইস পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল না। ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ছিল মূলত প্লুটোনিয়ামের উন্নয়ন। তবে এ বাস্তবতা সত্ত্বেও ইসরাইল বোমা নির্মাণপযোগী প্রচুর ইউরেনিয়াম মজুদ করেছিল। ইউরেনিয়ামের সাহায্যে তৈরি পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের পরমাণু পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নয়, দু’টি পারমাণবিক শক্তির জন্ম হয়েছিল। একটি ছিল ফ্রান্স নিজে এবং আরেকটি ইসরাইল। ফ্রান্সের পরমাণু পরীক্ষাকালে বেশ কয়েকজন ইসরাইলি পর্যবেক্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে ইসরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে যার সংখ্যা ২০০টির মতো হতে পারে। ইসরাইল , ইরাকের পরমাণু স্থাপনা উড়িয়ে দিয়েছে। তার পরমাণু খায়েশের উপায় ও উপকরণ যুগিয়েছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রবক্তা আমেরিকা, ফ্রান্স, নরওয়ে, বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি প্রভৃতি দেশ যারা নিজের বেলায় ষোল আনা আর পরের বেলায় “মানবতা, মানবতা, গনতন্ত্র” বলে গলা ফাটায়। এসব দেশের সহায়তায় ক্ষুদ্র সন্ত্রাসী দেশ ইসরাইল পরাক্রমশালী পরমাণু শক্তির অধিকারী। যদি অন্যান্য দেশের পরমাণু অস্ত্র রাখা মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড হয়, তাহলে আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, ভারত, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র মজুদ রাখে কোন যুক্তিতে বা কোন মানবতার উপকারে?

#SM

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: