আপনি জানেন কি?

২০০৩ সালের ২ এপ্রিল সাদ্দামের বিরুদ্ধে পরিচালিত “অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম” পরিচালনার সময় ইউএস আর্মির থার্ড ইনফেন্ট্রি ডিভিশনের আর্জেন্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট কলে সাড়া দিয়ে ইউএসএস কিটি হক থেকে টেকঅফ করা ইউএস নেভির একটি এফ/এ ১৮সি হরনেট যুদ্ধবিমানকে ভুল করে প্যাট্রিয়ট মিসাইল(PAK-3) মেরে শুটডাউন করেছিল ইউএস আর্মি 😆🔫

MIM-104 প্যাট্রিয়ট সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ফায়ারিং

জেনে রাখা ভালো আধুনিক সব স্যামেই Identification Friend or Foe(IFF) নামে একটা সিস্টেম থাকে যার মাধ্যমে নিজেদের পক্ষের যুদ্ধবিমানকে চেনার সুবিধার্থে মার্ক করে রাখা যায়।এর মানে ঢাকার আকাশে কখনো আমাদের মিগ ও বার্মিজ মিগ ডগফাইট লাগলে প্রায় কাছাকাছি ক্যামোফ্লেজ হওয়ায় আপনি খালি চোখে চিনতে না পারলেও এমএম-৯০ স্যাম ঠিকই চিনতে পারবে কোন মিগ আমাদের।কিন্তু সেদিন IFF সিস্টেম কাজ করে নাই…!
এর আগে একই প্যাট্রিয়ট ব্রিগেড মার্ক করা একটি ব্রিটিশ টর্নেডো জিআর-৪ বিমানকে ভুল করে লক করে ফেলেছিল।পরে IFF একটিভ হওয়ায় আর মিসাইল ফায়ার করে নাই।ঐ ব্রিটিশ টর্নেডো বিমানটি পড়ে (১৯ মার্চ) ইরাকি স্যামের হাতে শুটডাউন হয়
(লকড হওয়ার পর ব্রিটিশ পাইলট হয়তো ভেবেছিল মার্কিনিরা দুষ্টমি করছে 😜)

ইউএস নেভির এফ/এ-১৮ হরনেট যুদ্ধবিমান

কিন্তু লেফটেন্যান্ট নাথান হোয়াইট এর কপাল ছিল সত্যিই খারাপ।একে তো নিজেদের স্যামে নিজে মারা খেয়েছে তার উপর ইরাকি বোম্বিং চলছে এমন এক এলাকার লেকে গিয়ে ক্রাশ করেন এবং মারা যান।
আরো মজার ব্যাপার হলো(তাদের জন্য অবশ্যই কষ্টের ব্যাপার) তীব্র ইরাকি বোম্বিং এর কারণে পাইলটের লাশ উদ্ধার   করতে ইউএস আর্মির একটা টিমের ১০দিন লেগে যায় এবং ১২ এপ্রিল লাশ উদ্ধার করা হয় সেই লেক থেকে।ক্রাশ করা বিমানের তেমন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।তারপরও ক্রাশ সাইট ধ্বংস করা হয় যাতে শত্রুর হাতে বিমানের কিছু অংশও যেন না পাওয়া যায়।

আর্মিকে এয়ার সাপোর্ট দিতে গিয়ে আর্মির হাতেই ভুল করে শুটডাউন হওয়া এবং পাইলট এর লাশ উদ্ধারে ইউএস আর্মির ব্যর্থতা নিয়ে ইউএস নেভির সাথে আর্মির তীব্র মনোমালিন্য হয়।
#এম_আর_নাইন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: