আপনি জানেন কি?২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলু মেরে সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়ার গল্প!

মূল ঘটনা:
পার্ল হারবারে এট্যাক করে ফেরত আসছিল জাপানি ইম্পেরিয়াল নেভির ক্যারিয়ার ফ্লিট।তাদের যারা এসকর্ট করছিল তাদের মধ্যে ছিল কঙ্গো ক্লাস ব্যাটলক্রুজার Hiei

ব্যাটলক্রুজার Hiei

ফেরার পথে এটি পেয়ে গেল মার্কিন নেভির ফ্লেচার ক্লাস ডেস্ট্রায়ার USS O’Bannon কে যা প্যাসিফিক ফ্লিটে ট্রান্সপোর্ট এন্ড রিএনফোর্সমেন্ট কার্গো শিপদের এসকর্ট করার কাজে নিয়োজিত ছিল।পাশাপাশি ওভারলোড নিজেও ট্রান্সপোর্ট করতো।
(যুদ্ধের সময়,তাই কোনো ডেস্ট্রয়ার বাধ্য হয়ে কামলা খাটলে কিছু করার নাই)

ইউএসএস ও’ব্যানন

তৎকালীন কঙ্গো ক্লাস ব্যাটলক্রুজার Hihi ৪/৫ টা ফ্লেচার ক্লাসকে অনায়াসে ডুবিয়ে দেয়ার মত যথেষ্ট শক্তি রাখতো।তাই পলায়ন করা ছাড়া o’bannon এর কোনো উপায় ছিল না।
কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আর কি।
যাওয়ার পথে ডিটেক্ট হলো একটি Kaichū ক্লাস সাবমেরিন!!

সেই জাপানি সাবমেরিন

এটি সারফেস অবস্থায় ছিল।এর ডেকের উপর ছিল একটি ৭৬এমএম কামান।
জেনে রাখা ভালো ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের সাবমেরিনে এ ধরনের সারফেস ওয়েপন থাকতো।ফলে টর্পেডো ছাড়াও এসব সাবমেরিনের কোস্টাল এরিয়া,সারফেস শিপ এট্যাক করার ক্ষমতা ছিল।

২য় বিশ্বযুদ্ধের সাবমেরিনের ক্যানন

সাবমেরিন এর কামান থেকে ফায়ারিং শুরু হলো।দূরত্ব খুবই কাছাকাছি হওয়ায় O’bannon নিজের কামান ব্যবহার করতে পারছিল না।একই অবস্থা ছিল সাবমেরিনের।তারাও টর্পেডো ফায়ার করতে পারছিল না।সাবমেরিন ইমারজেন্সি ডাইভের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।ডেস্ট্রয়ার এর কোর্স এমন ছিল যে সাবমেরিন মাইন ডেপ্লয় করলে সেটার ফাঁদে ডেস্ট্রয়ার পড়বে যে সেটা একদম নিশ্চিত।তাই জাহাজের কমান্ডার ডিফেন্সিভ ম্যানুভার হিসেবে তড়িঘড়ি করে হার্ডশিপ টার্ন কমান্ড করলেন।ডেস্ট্রয়ার যখন পুরোপুরি বাক ঘুরছে ততক্ষণে সাবমেরিন এবং ডেস্ট্রয়ার মাঝখানে প্রায় কোনো গ্যাপ ইই ছিল না।অর্থাৎ একটুর জন্য সংঘর্ষ এড়ায় তারা।

এমন অবস্থায় ডেস্ট্রয়ার এর ক্রুরা ভেসে থাকা সাবমেরিনের ডেকের উপর থাকা ক্রুদের দিকে আলু নিক্ষেপ শুরু করে।আগেই বলেছিলাম যুদ্ধের পাশাপাশি পার্টটাইম কামলাগিরি করতো এই ডেস্ট্রয়ার।যখন তারা আক্রান্ত হয় টনে টনে আলু ছিল ডেস্ট্রয়ারে।তাই ক্রুরা সাবমেরিনের ডেকের ফায়ারিংরত ক্রুদের উদ্দেশ্যে আলু নিক্ষেপ করতে শুরু করে।সাবমেরিনের ক্যাপ্টেন আলুকে কনকাকশন গ্রেনেড মনে করে ইমারজেন্সি ডাইভ দেন পানির গভীরে।এই গ্রেনেডগুলো পানির নিচে বিস্ফোরিত হয় এবং পানির চাপের হেরফের করে দেয়,ফলে সাবমেরিন পানির চাপে চিড়েচেপ্টা হয়ে যায়।এক কথায় এগুলো ডেপথ চার্জ এর ছোটভাই।

যেখানে এই আলু যুদ্ধ হয়েছিল

এবার ডেস্ট্রয়ার এর ক্যাপ্টেনের মাথায় যেন ধপ করে ৩০০টাকার এনার্জি লাইট জ্বলে উঠলো।তিনি এবার সত্যিকারের ডেপথ চার্জ নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন।তাতেই সাবমেরিনের সলিল সমাধি ঘটে।এভাবেই আলু দিয়ে সাবমেরিন ডুবানো সম্ভব হয়েছিল!
কেননা আলুকে গ্রেনেড না মনে করে সাবমেরিনের ক্যাপ্টেন যদি ডাইভ না দিতেন তবে ডেপথ চার্জ ফায়ার করা যেত না।

আলু যুদ্ধের স্বীকৃতি

পরবর্তীতে সাবমেরিন এর SOS সিগন্যাল পেয়ে একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে দুটো প্লেন পাঠানো হয়।ডেস্ট্রয়ার এর এন্টি এয়ারক্রাফটগানের গুলিতে তাহা ভর্তা করা হয়।সুতরাং “don’t underestimate the power of Potato”
#এম_আর_নাইন

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: