জাতিসংঘ মিশন বাদ দিলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বন্ধু রাস্ট্রের দূর্যোগে বাংলাদেশের সহায়তা প্রেরনে ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলো। এগুলোর প্রায় সবই ত্রান বিতরন কর্মসূচী যা বিভিন্ন দেশের দূর্যোগে বাংলাদেশ সাহায্য হিসেবে পাঠিয়েছিলো।

ভারত :-

ভারতের গুজরাটের ভুজ শহরে ২০০০ সালে এক ভয়ংকর ভূমিকম্প হয় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক দেশের মতো মানবিক সাহায্য পাঠায় বাংলাদেশ ও। প্রায় ৩০ দিন ব্যাপী মোট ২০ টি মিশন চালিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সেখানের লোকেদের মাঝে ৫৭ টন ত্রান বিতরন করে।

মালদ্বীপ :-

২০০৪ সালে ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে মালদ্বীপ এ। তখন বাংলাদেশ হতে পাঠানো ত্রান নিয়ে মালদ্বীপ পৌছায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ত্রানবহনকারী বিমান। একই সুনামী শ্রীলংকাতেও আঘাত হেনেছিলো। এই দুই দেশে ত্রান বিতরনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মোট ২৯ দিন ব্যাপী ৩৬ টি ফ্লাইং মিশন পরিচালনা করে ত্রান বিতরন ও উদ্ধারকাজ চালায়। এছাড়াও ২০০৭ সালেও মালদ্বীপ পুনরায় বন্যায় আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মালদ্বীপে ৭ দিন ব্যাপী মিশন চালায়।

পাকিস্তান :-

২০০৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে মানবিক সাহায্য হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ বিমান পাকিস্তানে দুই দিন ব্যাপী তিনটি মিশন পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে আঠারো টন ত্রান বিতরন করে।

চীন :-

২০০৮ সালে চীনের চেংদু শহরে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ বিমান সেখানে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত ত্রান নিয়ে পৌছায় ও প্রায় ৯ ঘন্টা ফ্লাইং আওয়ার এর মিশনে ত্রাণসামগ্রী বিতরন করে।

জাপান :-

২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামীতে ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুরাস্ট্র জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার হতে পাঠানো ত্রান সামগ্রী নিয়ে জাপানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ বিমান গমন করে ও ত্রান পৌছে দেয়।

নেপাল :-

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল কে সহায়তার উদ্দেশ্যে ত্রানবাহী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ নেপাল গমন করে। দুইদিনের মিশনে তারা প্রায় ৬৬ টন ত্রান বিতরন করে ও নেপাল হতে ৬৮ জন বাংলাদেশীকে নিরাপদে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এছাড়াও কদিন আগে নেপালে প্লেন দূর্ঘটনায় নিহত দের লাশ দেশে নিয়ে আনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ারক্রাফট।

নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় হতাহতদের ফেরত আনে বিমান বাহিনী

শ্রীলংকা :-

২০০৪ ছাড়াও ২০১৬ সালে শ্রীলংকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভুমিধ্বস এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ এ করে শ্রীলংকায় উল্লেখযোগ্য পরিমান ত্রান পাঠায় বাংলাদেশ সরকার।

মিয়ানমার :-

জ্বি,আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যার কারন এই মিয়ানমারের দূর্যোগেও পাশে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে ঘূর্নিঝড় নার্গিস এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারে ত্রান সহায়তা নিয়ে দুইটি সি-১৩০ বিমান মিয়ানমার যায় ও ৫ দিন ব্যাপী ১৪ ঘন্টার ফ্লাইং মিশন পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,এসব দেশে ত্রানে সবক্ষেত্রে শুধু বিমান বাহিনী না,বরং নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীও পাঠানো হয়েছিলো। এ আর্টিকেলে কেবল বিমান বাহিনীর ব্যাপারেই উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র রাস্ট্র,সাহায্যের পরিমান ও খুব বেশি না কিন্তু হ্যা,বাংলাদেশ তাদের বন্ধুদের বিপদে এই স্বল্প সামর্থ্য নিয়েই সর্বোচ্চ সাহায্য করতে জানে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: