সামরিক শক্তির র‍্যাংকিং নিয়ে ব্যাপক তর্কবিতর্ক হয়। আসলে,কোন স্বীকৃত র‍্যাংকিং যদিও নেই তবুও সবাই Global  Fire Power নামক ওয়েবসাইটের ভুলভাল তথ্যেই র‍্যাংকিং বানিয়ে এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশকে যুদ্ধে জিতিয়ে দেয়। কিন্তু এই র‍্যাংকিং ছাড়াও আরো কিছু মাপকাঠি থাকে কোন দেশের সেনাবাহিনীকে মুল্যায়নের জন্য ও যুদ্ধ জিতার কতটুকু সম্ভাবনা তা নির্নয়ের জন্য। সেগুলো হলো :-

Standard of Training :-

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কমান্ডো ট্রেনিং

যেমন,সৌদি,কুয়েত,মিয়ানমার এসব দেশ কাড়ি কাড়ি অস্ত্র কিনে র‍্যাংকিং এ অনেক এগিয়ে আছে। তবে এদের ট্রেনিং এর মান খুবই নিম্নমানের। ইয়েমেনে তাদের জোট হামলাতে বারবার ব্যর্থ হওয়া টা তার প্রমান বহন করে। তাই অস্ত্র থাকলেও প্রশিক্ষন বিহীন সেনাবাহিনী সামরিক বিশ্লেষকদের চোখে অনেক পিছিয়ে।

Will to Fight :

যুদ্ধের জন্য সবচাইতে বেশি যা প্রয়োজন তাই হলো মনোবল। যুদ্ধের ইচ্ছা বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আবেগ না থাকলে সম্ভব না।যেমন বিশ্বের কিছু ধনী রাস্ট্র ভাড়াটে সেনা দিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করে রেখেছে। তাদের সেনাবাহিনীতে কাজের উদ্দেশ্য কেবলই টাকা,তাই দেশের জন্য প্রান দেওয়ার প্রশ্ন যখন আসবে তখন এদের খুজে পাওয়াটা মুশকিল হবে।

Organization Command and Control :-

নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাও ব্যাপক প্রয়োজনীয়। ইতিহাসে যত বাহিনী জয়লাভ করেছে সবগুলোই ছিলো সুশৃঙ্খল বাহিনী আর নেতৃত্বে ছিলো অসাধারণ বুদ্ধিমান জেনারেল রা। ইতিহাসে খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা:), সালাহউদ্দীন আইউবি,আলেকজান্ডার,নেপোলিয়ন,মার্শাল রোমেল দের নাম বিশেষভাবে স্মরনীয় এক্ষেত্রে। আর বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখাও ব্যাপক জরুরী। বিশৃঙ্খল বাহিনী কখনো জয়লাভ করতে পারে না। বলা হয়ে থাকে যে

একটি বাঘের পালকে যখন ভেড়া নেতৃত্ব দেয় তার থেকে একটি ভেড়ার পাল শক্তিশালী যখন সেটির নেতৃত্বে থাকে একটি বাঘ

Moral and motivation of soldiers :-

সৈন্যদের মোটিভেশন এখানে ব্যাপক প্রয়োজনীয় কোন যুদ্ধের ক্ষেত্রে। যেমন ১৯৭১ এর কথাই ধরুন,পাক আর্মির কথাই ধরুন,যখন তারা আত্মসমর্পন করে তখনো তাদের কাছে আরো ২ মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধাস্ত্র ছিল। তবুও কেন আত্মসমপর্ন করলো? কারন তাদের মনোবল ছিল না। তারা বুঝে গিয়েছিল এদেশ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। যার ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ও আত্মসমর্পণ এ বাধ্য হয়।

Weapon and Equipment Adaptation :-

২০১৭ ইইউ ট্যাংক অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার পুরোনো মডেলের লেপার্ড ২ ট্যাংক বিশ্বের সকল আধুনিক ট্যাংক কে হারিয়ে দেয় যার মধ্যে আমেরিকা ও ফ্রান্স ও ছিল। এর কারন হলো,নতুন হাই টেকনোলোজি আয়ত্ব করা হয়নি এখনো সেদেশের সেনাদের। যেমন,ইন্ডিয়ান আর্মির বহু হাই টেক ইক্যুয়েপমেন্ট আছে তবে ভিতরের ব্যাপার হলো তারা সেসব ইক্যুয়েপমেন্ট ব্যবহারে অতটা দক্ষ না। তোমার যত হাই টেকনোলোজি তোমার ততো স্কিলড সৈন্য দরকার। নাহয় তুমি আরো দুর্বল।

Backing of Mass-

জনগনের সমর্থন ছাড়া কোন দেশের সেনাবাহিনী যুদ্ধে জিততে পারেনি। এটা মনোবলের সাথেও সম্পর্কযুক্ত। তাই জনগনের সমর্থন ব্যাপক গুরুত্বপুর্ন। ১৯৭১ এ পাকবাহিনীর পরাজয়ের অন্যতম কারন ই ছিলো এটি। জনগন তাদের সাথে ছিলো না যা তাদের ভেতর থেকে দূর্বল করে দেয়।

War fighting experience :-

যুদ্ধের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে যেকোন যুদ্ধে সেনারা কয়েক ধাপ আগানো থাকে। তাই শক্তিতে দূর্বল হলেও অনেক দূর্বল বাহিনীও চাইলে শক্তিশালী অথচ অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষ কে হারাতে সক্ষম।

র‍্যাংকিং কখনোই কোন দেশের অভ্যন্তরীন অবস্থা,কোন দেশকে কোন পরাশক্তি সমর্থন করে,কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কতটা গুরুত্বপুর্ন তা নির্নয় করতে সক্ষম নয়। তাই র‍্যাংকিং নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করা একটা বোকামীর পর্যায়ে পড়ে,তাও আবার ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা র‍্যাংকিং এ।

Facebook Comments

1 Comment

Al Jaim Pappu · February 22, 2018 at 6:05 pm

এদিক থেকো আমরা এগিয়ে, আমরা যে ক্রেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: